
T20 World Cup 2026 MOT: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালের মহেন্দ্রক্ষণ ঘনিয়ে আসতেই টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটার বা ‘প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট’-এর মনোনীত তালিকা প্রকাশ করল আইসিসি। শুক্রবার ঘোষিত এই আট জনের তালিকায় ভারতীয়দের মধ্যে একমাত্র নাম সঞ্জু স্যামসন। অথচ টুর্নামেন্ট জুড়ে বল হাতে আগুন ঝরানো যশপ্রীত বুমরাহ-র নাম এই তালিকায় না থাকায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে ক্রিকেট মহলে। ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে রবিবাসরীয় মেগা ফাইনালের আগে আইসিসি-র এই তালিকা ঘিরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
আইসিসি-র শর্টলিস্টে জায়গা পাওয়া ক্রিকেটারদের মধ্যে সবথেকে বড় চমক সঞ্জু স্যামসন। টুর্নামেন্টের শুরুতে প্রথম একাদশে জায়গা না পেলেও নক-আউট পর্বে সুযোগ পেয়েই বাজিমাত করেছেন এই কেরলপুত্র। সুপার এইটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অপরাজিত ৯৭ এবং সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৮৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ভারতকে ফাইনালে তোলার প্রধান কারিগর তিনি। মাত্র ৪ ম্যাচে ২১২ রান (গড় ৭০.৬৬, স্ট্রাইক রেট ২০১.৭৩) করেই সেরার দৌড়ে ঢুকে পড়েছেন সঞ্জু।
অন্যদিকে, বুমরাহ-র অনুপস্থিতি অনেককেই অবাক করেছে। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মিতব্যয়ী বোলিং ও গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিলেও আইসিসি-র নির্বাচকদের মন জয়ে ব্যর্থ তিনি। তালিকায় ভারতের একমাত্র প্রতিনিধি সঞ্জু হলেও পাকিস্তান থেকে জায়গা করে নিয়েছেন ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান। পাকিস্তান সুপার এইট থেকে বিদায় নিলেও ফারহান ৭ ম্যাচে ৩৮৩ রান করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে নিজের জায়গা পাকা করেছেন।
তালিকায় অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এইডেন মার্করাম ও পেসার লুঙ্গি এনগিডি। ফাইনালিস্ট নিউজিল্যান্ড থেকে সুযোগ পেয়েছেন অলরাউন্ডার রচিন রবীন্দ্র ও উইকেটকিপার ব্যাটার টিম সাইফার্ট। ইংল্যান্ডের উইল জ্যাকস তাঁর অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের সুবাদে (২২৬ রান ও ৯ উইকেট) মনোনীত হয়েছেন। তবে সবথেকে বড় চমক আমেরিকার পেসার শ্যাডলি ভ্যান শালকউইক। মাত্র ৪ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে এই মার্কিন বোলার আইসিসি-র তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফাইনালে সঞ্জু স্যামসন যদি আরও একটি বড় ইনিংস খেলতে পারেন, তবে প্রথমবার কোনও ভারতীয় উইকেটকিপার হিসেবে এই বিশ্বখেতাব জেতার নজির গড়বেন তিনি। এখন দেখার, আমেদাবাদের মোতেরা স্টেডিয়ামে কার মাথায় ওঠে টুর্নামেন্টের সেরার মুকুট।
সঞ্জু স্যামসন (ভারত): ৪ ম্যাচে ২১২ রান, গড় ৭০.৬৬, স্ট্রাইক রেট ২০১.৭৩। পরপর দুটি ম্যাচের সেরা।
সাহিবজাদা ফারহান (পাকিস্তান): ৭ ম্যাচে ৩৮৩ রান (টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ), ১টি সেঞ্চুরি ও ৩টি হাফ-সেঞ্চুরি।
উইল জ্যাকস (ইংল্যান্ড): ৮ ম্যাচে ২২৬ রান এবং ৯ উইকেট।
রচিন রবীন্দ্র (নিউজিল্যান্ড): ৮ ম্যাচে ১২৮ রান এবং ১১ উইকেট।
লুঙ্গি এনগিডি (দক্ষিণ আফ্রিকা): ৭ ম্যাচে ১২ উইকেট, ইকোনমি ৭.১৯।
এইডেন মার্করাম (দক্ষিণ আফ্রিকা): ৮ ম্যাচে ২৮৬ রান এবং গুরুত্বপূর্ণ ১টি উইকেট।
টিম সাইফার্ট (নিউজিল্যান্ড): ৮ ম্যাচে ২৭৪ রান, স্ট্রাইক রেট ১৬১.১৭।
শ্যাডলি ভ্যান শালকউইক (আমেরিকা): ৪ ম্যাচে ১৩ উইকেট (যুগ্ম সর্বোচ্চ), ইকোনমি ৬.৮০।