
শুরু হতে চলেছে টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬। আর এই বিশ্বকাপে ভারতের সঙ্গে ম্যাচ খেলবে না বলে আগেই জানিয়েছিল পাকিস্তান। আর সেই সিদ্ধান্তে আরও একবার সিলমোহর দিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
ইসলামাবাদে একটি ক্যাবিনেট বৈঠকে বক্তব্য রাখছিলেন শেহবাজ। আর সেখানেই তিনি স্পষ্ট করে দেন যে ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে না পাকিস্তান। এই অবস্থান থেকে তাঁরা আর পিছিয়ে আসবে না।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এই বৈঠকে বলেন, 'আমরা টি২০ বিশ্বকাপ নিয়ে একটা স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছি। আমরা ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলব না।' তিনি আরও বলেন, 'খেলায় কোনও রাজনীতি থাকতে পারে না। আমরা খুব ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটা একবারেই সঠিক সিদ্ধান্ত।'
আর তাঁর এই বক্তব্য থেকে এটা পরিষ্কার হয়ে গেল যে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলবে না পাকিস্তান। যার ফলে এই বছরের বিশ্বকাপের মতিগতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে গেল।
কবে খেলার কথা?
আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত এবং পাকিস্তানের ম্যাচ হওয়ার কথা। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে এই খেলাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আর গ্রুপ স্টেজের এই খেলা থেকেই নিজেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে পাকিস্তান। যার ফলে তাঁরা টি২০ বিশ্বকাপে ঠিক কী করতে চাইছে, সেটাই বোঝা সম্ভব হচ্ছে না।
আইসিসি কী জানাচ্ছে?
পাকিস্তানের এই অবস্থান নিয়ে প্রথম থেকেই সতর্ক রয়েছে আইসিসি। তারা পাক দলের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত বলেও জানান হয়েছে। তাদের মতে, এই ধরনের অবস্থান ক্রিকেটের জন্য একবারেই ভাল নয়। এর জন্য খেলার মর্যাদা নষ্ট হতে পারে।
কেন খেলছে না পাকিস্তান?
ঘটনার সূত্রপাত আইপিএল থেকে। এবারের আইপিএল মিনি অকশনে মুস্তাফিজুর রহমানকে কিনে নেয় কেকেআর। তবে বাংলাদেশের এই ক্রিকেটারকে কেনা নিয়ে ভারতে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। দিকে দিকে শুরু হয় প্রতিবাদ।
এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে মুস্তাফিজুরকে টিম থেকে বাদ দেয় কেকেআর। আর তাতেই আঁতে ঘা লাগে বাংলাদেশের। এই ইস্যুকে সামনে রেখে তারা ভারতে ট২০ বিশ্বকাপ খেলবে না বলে জানিয়ে দেয়। আর তাদের পিছন থেকে হাওয়া দেয় শেহবাজ শরিফ।
পাকিস্তানের কথায় নেচে নিজেদের বিশ্বকাপ থেকে বের করে নেয় বাংলাদেশ। আর তাদের মন রাখতে ভারতের সঙ্গে ম্যাচ খেলবে না বলে জানিয়ে দেয় পাকিস্তান।
যদিও এই ম্যাচ না খেললে পাক ক্রিকেটের উপর বড় শাস্তি নেমে আসতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার পরিস্থিতি ঠিক কোন দিকে এগয়!