
২০২৭ সালে একদিনের ক্রিকেটের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেই টুর্নামেন্টে রোহিত শর্মা সুযোগ পাবেন কি না তা এখনও পরিষ্কার নয়। যদি সুযোগ পানও তাহলে ফর্মে থাকা নিয়েও সংশয় থেকেই যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে রোহিতের বিকল্প কে হতে পারেন? ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, হিটম্যানের জায়গা নিতে তৈরি অভিষেক শর্মা। বিশ্বকাপের আগেই তাঁর ডেবিউ করানো প্রয়োজন।
তাঁদের দাবি, ২০২৭ সালে রোহিতের বয়স ৪০ বছর হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে তিনি কতটা ফিট থাকবেন, সেটা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। আবার রোহিত যেহেতু ওপেনিং করতে নেমেই তাঁর সিগনেচার স্টাইলে খেলতেই পারবেন তারও কোনও নিশ্চয়তা নেই। এই দুই যুক্তি সামনে রেখেই বলা যায়, ব্যাটার হিসেবে এই অভিষেকই রোহিতের যোগ্য উত্তরসূরী। কারণ তিনিও রোহিতের মতোই বোলারদের শাসন করতে পারেন। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দ্রুত গতিতে রান তুলে বোলারদের মনোবল ভেঙে দিতে পারেন।
রোহিতের যোগ্য উত্তরসূরী কেন অভিষেক?
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের দাবি, কেবল পুল শর্ট বা ডাবল সেঞ্চুরির জন্য রোহিত একজন খ্যাতনামা ওপেনার, তা কিন্তু মোটেও নয়। রোহিতের ব্যাটিং স্টাইল, ঝড়ের গতিতে রান তোলা, রান তাড়া করতে নেমে ঘাবড়ে না যাওয়া- এগুলোই তাঁকে একজন সফল ব্যাটার করে তুলেছে। তাঁর হিট মারার যে ক্ষমতা আছে, সেটা খুব ব্যাটারের মধ্যেই দেখা যায়। তাই তিনি অনন্য। একই গুণ রয়েছে অভিষেক শর্মার মধ্যেও।
রোহিতের মতো অভিষেকও
২০২৬ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাত্র ৩৫ বলে ৮৪ রান করেন অভিষেক। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের দাবি, এটা কেবল রান নয়, বিপক্ষের উপর আধিপত্য বিস্তার। বিশ্বের মধ্যে অভিষেকই একমাত্র ব্যাটার যিনি মাত্র ২৮৯৮ বলে ৫ হাজারের বেশি রান করেছেন। স্ট্রাইক রেট ১৭২-এরও বেশি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের আন্দ্রে রাসেল ছাড়া অন্য কোনও ব্যাটার ১৬০-এর উপর স্ট্রাইক রেট রাখতে পারেননি।
শুধু তাই নয়, অভিষেক তার ছোটো কেরিয়ারে ২৫-এরও কম বল নিয়ে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন সাতবার। এই রেকর্ড, রোহিত, বিরাট বা সূর্যকুমারদেরও নেই।
স্পিনের বিরুদ্ধেও ভালো খেলেন অভিষেক
কেবল জোরে বোলারদের শাসন করেন তাল নয়, স্পিনারদেরও ছাতুপেটা করতে পারেন অভিষেক শর্মা। সুতরাং পেসারদের বাঁচাতে বিপক্ষের অধিনায়ক যদি স্পিনার আনেন, তিনিও ছাড় পাবেন না। স্পিনারদের ছক্কা মারার উপরই বেশি ভরসা রাখেন অভিষেক। তাই তিনি ওপেন করতে নেমে টিকে যান তাহলে ১১-৪০ ওভারের মধ্যে বল করতে আসা স্পিনারদের কপালে কষ্ট থাকবে।
ষষ্ঠ বোলার
যুবরাজ সিং যেমন ব্যাটার অল রাউন্ডার ছিলেন, অভিষেকও তাই। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর বল করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। টি টোয়েন্টিতেও অনিয়মিত বোলিংল করে থাকেন। তাই তিনি যদি একদিনের ক্রিকেটে সুযোগ পান তাহলে ষষ্ঠ বোলার হিসেবে দলের কাজে লাগতে পারেন। সেটা দলের জন্য ভালো।
দক্ষিণ আফ্রিকা ফ্যাক্টর
দক্ষিণ আফ্রিকার পিচে বাউন্স থাকে, গতিও থাকে। স্পিনারদের ভূমিকা সেই সব পিচে তেমন কার্যকর প্রমাণিত হয় না। তবে ব্যাটিংয়ের জন্য পিচ হয় অনুকূল। তাই সেই সব পিচে ৩৫০ রান ভালো টার্গেট হতে পারে। আর সেই শুরুটা ভারতকে দিতে পারেন অভিষেক শর্মা।