
১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর স্টেডিয়ামে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হবে কি না, সেই নিশ্চয়তা এখনও নেই। কারণ, পাকিস্তান সরকার এখনও তাদের দলকে খেলার ছাড়পত্র দেয়নি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও ম্যাচ বয়কটের ইঙ্গিত দিয়েছে। ফলে উদ্বেগ বেড়েছে আইসিসির। এই পরিস্থিতিতে সেই ১৫ অগাস্টের ম্যাচ এখন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠেছে দুই দেশের কাছেই।
পাকিস্তান যদি সেদিন ভারতের বিরুদ্ধে না খেলতে নামে তাহলে সলমন আগাদের দলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারে আইসিসি। তাদের আর্থিক ক্ষতি তো হবেই একইসঙ্গে শাস্তির খাঁড়াও নেমে আসতে পারে। এই অবস্থায় পিসিবি ও আইসিসির মধ্যে আলোচনা চলছে। রবিবারও লাহোরে বৈঠক হয়েছে দুই শিবিরের মধ্যে।
এই বৈঠকে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে খেলার জন্য তিনটি শর্ত পেশ করে। তার মধ্যে একটি ছিল ভারতীয় খেলোয়াড়দের হ্যান্ডসেক করতে হবে। এখন প্রশ্ন কেন পাকিস্তান হ্যান্ডসেকের উপর জোর দিচ্ছে? পাকিস্তানের দাবি, করমর্দন করলে দুই দেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে সুস্থ ও স্বাভাবিক সম্পর্ক থাকবে। যদিও করমর্দন করা এখনও বাধ্যতামূলক নয়। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা আইসিসি-র নিয়মই তাই।
আইসিসি-র নিয়ম অনুযায়ী, হ্যান্ডসেক বাধ্যতামূলক নয়। এটা দুই দলের পারস্পরিক সম্মতি বা অসম্মতির উপর নির্ভর করে। অতএব, পাকিস্তান আইসিসির উপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করছে।
এর আগে এশিয়া কাপেও ভারত পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হ্যান্ডসেক করেনি। এমনকী পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নকভির থেকে ট্রফি নিতেও অস্বীকার করে। তার জেরে বেজায় ক্ষুব্ধ হয়েছিল পাক শিবির। তাই এখন তারা চাইছে হাত মেলানোর শর্ত দিয়ে নিজেদের বড় দেখানোর।
অতএব পাকিস্তানের এখন লক্ষ্য ভারতীয় খেলোয়াড়দের হ্যান্ডসেকে রাজি করানো। যাতে তারা প্রমাণ করতে পারে ভারত তাদের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। যদিও ভারতের তরফে এই নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি জারি করা হয়নি।
এখন, সকলের নজর সিদ্ধান্তের দিকে। আইসিসি স্পষ্ট করে দিয়েছে, বিশ্বকাপের মর্যাদা ক্ষুন্ন হবে না, তবে আলোচনার দরজা খোলা রাখা হয়েছে। লাহোরে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর, সকলের নজর পাকিস্তান কতটা তার অবস্থান পরিবর্তন করে।