
ইস্টবেঙ্গল জার্সিতে প্রথম দু'ম্যাচেই জোড়া গোল। ইউসেফ এজ্জেজারি ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের নতুন নায়ক। শুরুটা করেছেন দারুণভাবে। হেড হোক বা শট- নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ইস্টবেঙ্গলকে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। এই স্প্যানিশ তারকাকেই আগে দলে নিতে চেয়েছিলেন অস্কার। তবে সেবার হয়নি। এবার বসুন্ধরা কিংসের না হওয়া ট্রান্সফার ইস্টবেঙ্গলে করে ফেলেছেন অস্কার।
ইউসেফের ইস্টবেঙ্গলে আসার নেপথ্যে কোচ অস্কার ব্রুজোনের অনেকটাই অবদান রয়েছে। হামিদ আহদাদ এবং হিরোশি ইবুসুকির জায়গায় ইস্টবেঙ্গল তখন নতুন বিদেশি স্ট্রাইকার খুঁজছে। যে স্ট্রাইকার ম্যাচে ফারাক গড়তে পারবেন। আর তখনই অস্কার কথা বলা শুরু করেন এই স্প্যানিশ-মরোক্কানের বিষয়ে।
কীভাবে তাঁকে চিনলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ? সূত্রের খবর, ইউসেফের খেলা প্রায় ৬-৭ বছর ধরে নিয়মিত দেখছেন অস্কার। তিনি তখন বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংসের কোচ। ভীষণভাবে চেয়েছিলেন ইউসেফকে সই করাতে। তিনি তখন ইন্দোনেশিয়া লিগে সেই মুহূর্তে সর্বোচ্চ গোলদাতা।
স্বাভাবিকভাবেই তাঁর ক্লাব ছাড়তে চায়নি। অবশেষে বসুন্ধরা কিংসের সেই আক্ষেপ ইস্টবেঙ্গলে এসে মেটালেন অস্কার। নিজের দলে নিয়ে এলেন ইউসেফকে। এই স্ট্রাইকার কোনও বড় ইওরোপিয়ান প্রতিযোগিতা অথবা আন্তর্জাতিক স্তরে ফুটবল খেলেননি। কিন্তু এশিয়ার এমন কিছু লিগে নিয়মিতভাবে পারফরমেন্স করেছেন, যা হয়তো খুব জনপ্রিয় নয়। কিন্তু সেগুলো বেশ প্রতিযোগিতামূলক। তাই তাঁকে দলে আনার সিদ্ধান্ত নিতে দু'বার ভাবেননি অস্কার। স্প্যানিশ কোচ ভালই জানতেন, ইউসেফ কার্যকরী ফুটবল খেলতে পারবেন। যেটা তিনি খেলে এসেছেন ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, সিঙ্গাপুরের লিগে। কলকাতায় আসার পর অস্কারের সঙ্গে তাই বোঝাপড়া তৈরি হতে সময় লাগেনি এই বিদেশি স্ট্রাইকারের। ইউসেফ দ্রুত বুঝে ফেলেছেন, অস্কার তাঁর থেকে ঠিক কী চাইছেন। ইউসেফ যদি নিজের পারফরমেন্স বজায় রাখতে পারেন, তাহলে তিনি যে দ্রুত ইস্টবেঙ্গলকে নিজেদের স্বপ্নপূরণের দিকে এগিয়ে দিতে পারবেন, তা বলাই বাহুল্য।
অন্যদিকে, শেষ মুহূর্তে রেজিস্ট্রেশন হওয়ার জন্য এসসি দিল্লির বিরুদ্ধে মাঠে নামতে পারেননি অ্যান্টন সয়বার্গ। তাঁর সেই সমস্যা মিটেছে। পরের ম্যাচ থেকে তাঁকে দলে পেতে অসুবিধা হবে না অস্কারের।