
টানা খারাপ ফর্মের পর অবশেষে ঘুরে দাড়ানোর মরিয়া তাগিদ ইস্টবেঙ্গল শিবিরে। আগামী ২৩ মার্চ মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে এক অন্য মেজাজে ধরা দিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। এবার ডিফেন্সে দেখা গেল সল ক্রেসপোকে।
অনুশীলনের আগেই টিম হোটেলে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সারেন ইস্টবেঙ্গলের বিনিয়োগকারী সংস্থা ইমামির কর্তা বিভাস আগরওয়াল। দলের কোচ ও ফুটবলারদের সঙ্গে এই আলোচনায় মূলত দলের বর্তমান খারাপ ফর্ম থেকে কীভাবে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো যায়, তা নিয়েই কথাবার্তা হয়। এই মিটিংয়ের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যায় মাঠে; কোচ অস্কার ব্রুজোকে অনেক বেশি প্রোঅ্যাক্টিভ এবং চেনা মেজাজে দেখা যায়।
প্রায় দু'ঘণ্টার এই অনুশীলনে এদিন ফিজিক্যাল ট্রেনিং এবং স্প্রিন্টের পর শুরু হয় সিচুয়েশন প্র্যাকটিস। গত দু'দিন ফুটবলারদের থেকে খানিকটা দূরত্ব বজায় রাখলেও, এদিন অস্কার ব্রুজোকে দেখা যায় নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ফুটবলারদের ধরে ধরে ভুল শুধরে দিতে।
মহমেডানের আক্রমণভাগ খুব একটা শক্তিশালী না হলেও, আসন্ন ম্যাচগুলোর কথা মাথায় রেখে রক্ষণভাগকে নিশ্ছিদ্র করতে চাইছেন ব্রুজো। এদিন তিন ধাপে সিচুয়েশন প্র্যাকটিস হয়, যেখানে বারবার সেন্ট্রাল ডিফেন্স জুটিতে বদল আনা হয়। আনোয়ার আলির সঙ্গে প্রথম দিকে জিকসন সিংকে ডিফেন্সে খেলিয়ে দেখা হয়। আনোয়ার ড্রেসিংরুমে ফেরার পর, ডিফেন্স লাইনে সল ক্রেম্পো এবং জিকসন সিং জুটিকেও পরখ করেন কোচ। পাশাপাশি লালচুংনুঙ্গা ও জিকসনের কম্বিনেশনও ব্যবহার করা হয়।
শুধু রক্ষণ নয়, গোলের খরা কাটাতে আক্রমণভাগেও নতুন স্ট্র্যাটেজি সাজাচ্ছেন স্প্যানিশ কোচ। শোনা যাচ্ছে, বিদেশী কোটার সঠিক ব্যবহার করতে আগামী ম্যাচে ৪-৪-২ ছকে ডাবল স্ট্রাইকার নিয়ে দল নামাতে পারে ইস্টবেঙ্গল। অনুশীলনে ফরোয়ার্ডে ইউসেফ এজ্জেজারির সঙ্গে ডেভিড লালানসাঙ্গাকে পুরো সময় জুড়ে প্র্যাকটিস করতে দেখা যায় এবং সম্ভবত তিনি আক্রমণভাগে শুরু করবেন। সল ক্রেস্পোকে ডিফেন্সে খেলালে দলে একজন অতিরিক্ত অ্যাটাকিং ফুটবলার খেলানোর সুযোগ পেয়ে যাবেন ব্রুজো এবং তিনি সেটাই করার চেষ্টা করছেন। মাঝমাঠে রশিদ ও মিগুয়েল এবং দুই প্রান্তে বিপিন ও বিষ্ণুকে দেখার সম্ভাবনা দেখা গিয়েছে এদিনের অনুশীলনে।
সব মিলিয়ে, ইমামি কর্তার সঙ্গে বৈঠকের পর দলের অন্দরে যে একটা জেদ কাজ করছে, তা অনুশীলনের ছবিতেই স্পষ্ট। এখন দেখার, অস্কার ব্রুজোর এই পারমুটেশন-কম্বিনেশন এবং নতুন রণনীতি মহামেডানের বিরুদ্ধে দলকে কতটা সাফল্য এনে দেয়।