
আইএসএল শুরু হওয়া নিয়ে সবুজ সংকেত পাওয়া হয়ে গেলেও, ইস্টবেঙ্গল যেন আরও সমস্যায়। দুই ফরোয়ার্ডকে সই করানো হলেও গোল করবেন কে? হিরোশি ইবাকুশির কাছ থেকে এখনও গোল আসেনি। গোঁদের উপর বিষ ফোঁড়া হামিদ আহদাদের ক্লাব ছেড়ে যাওয়া। ফলে আইএসএল শুরু হওয়ার আগে স্ট্রাইকার সমস্যায় লাল-হলুদ।
নতুন বছরে সোমবার থেকে অনুশীলন শুরু করে দিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। কেভিন সিবিল্লেকে নিয়ে সন্দেহ থাকলেও, মঙ্গলবার তিনি অনুশীলনে যোগ দেওয়ায় সেই স্নদেহ কিছুটা হলেও যে কেটে গিয়েছে তা বলাই যায়। ইস্টবেঙ্গল সূত্রের খবর, হামিদের জায়গায় বিকল্প খোঁজার কাজ শুরু করে দিয়েছেন তাঁরা। জানুয়ারির ট্রান্সফার উইন্ডো থেকেই একজন ভাল মানের বিদেশি স্ট্রাইকারকে সই করিয়ে নিতে চাইবে তাঁরা। যদিও কোচ অস্কার ব্রুজোর পছন্দের তালিকায় কারা আছেন তা এখনও জানা যায়নি। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলের আরেক বিদেশি মিগুয়েল ফিগুয়েরা এখনও দলের সঙ্গে যোগ দেননি।
মঙ্গলবারের অনুশীলনে ফিটনেস ট্রেনিং-এই বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন কোচ অস্কার। কারণ দলের ফুটবলারদের ফিটনেস নিয়ে কোনও আপস করতে নারাজ লাল-হলুদ শিবির। ফুটবলারদের চোট আঘাত মারাত্মকভাবে ভুগিয়েছে ক্লাবকে। আর সে কারণেই এই বাড়তি সতর্কতা। অস্কার বলেন, 'ফুটবলাররা মাঠে নামার জন্য মুখিয়ে রয়েছে। কিন্তু আমরা আইএসএল নিয়ে পরিষ্কার পরিকল্পনা জানতে আগ্রহী। লক্ষ্য ছাড়া অনুশীলন ফলপ্রসূ হবে না।'
হামিদের চলে যাওয়া প্রসঙ্গে লাল-হলুদের তরফ থেকে প্রেস বিবৃতির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, 'ইস্টবেঙ্গল এবং হামিদ পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে চুক্তি ভঙ্গ করলেন। এই সময় হামিদ নিজের পরিবারকে সময় দিতে চান। ইস্টবেঙ্গল ম্যানেজমেন্ট হামিদের সেই ইচ্ছেকে সম্মান জানাচ্ছে এবং তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।'
যদিও সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইস্টবেঙ্গল ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে হামিদের এজেন্টের সাথে কথা চলছিল এবং দীর্ঘ আলোচনার পরে তা ফলপ্রসূ হয়েছে। এ কথা সকলেরই জানা যে আইএসএলের ক্লাবগুলি এবং সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার মধ্যে এবারের প্রতিযোগিতা শুরু করা নিয়ে বিভিন্ন কারণে সংঘাত চলে আসছে। সম্ভবত সেই কারণেই জানুয়ারির শীতকালীন ট্রান্সফার উইন্ডো খুলতেই এই অনিশ্চয়তা থেকে নিজেকে সরাতে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন হামিদ। তবে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে যদি ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি আইএসএল শুরু হয় সেক্ষেত্রে নতুন বিদেশি আনার ক্ষেত্রে ইস্টবেঙ্গলের হাতে সময় বেশ কম।