
ক্রিকেট বিশ্বকাপের পর ফুটবলেও এবার বয়কটের হুমকি। আসন্ন টি২০ বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ দল তুলে নেওয়ায় প্রচুর জলঘোলা হয়েছে। এবার ফুটবল বিশ্বকাপও বয়কটের ডাক দিল ৩ দেশ। যদিও এক্ষেত্রে একটা পার্থক্য রয়েছে। ক্রিকেটের ক্ষেত্রে ভারত-বাংলাদশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রত্যক্ষভাবে প্রভাব না ফেললেও, ফুটবলের ক্ষেত্রে পুরোটাই কূটনৈতিক কারণে।
কোন কোন কারণে বয়কটের ডাক?
এবারের বিশ্বকাপ সব দিক থেকেই স্পেশাল। কারণ, এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দল। আমেরিকা, কানাডা, মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ হলেও, মূল আয়োজক আমেরিকাই। সেখানেই বেশি ম্যাচ খেলা হবে। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই অবধি চলবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই প্রতিযোগিতা। তবে এই আসর থেকে কেন নিজেদের নাম প্রত্যাহার করার কথা চিন্তা করছে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবল খেলিয়ে দেশগুলি?
মূলত আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ। তাঁর অভিবাসন নীতি, ভিসা নীতি, দেশের সুরক্ষা এবং ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টার বিরুদ্ধেই এই প্রতিবাদ। তিন দেশ মূলত এই বয়কটের ডাক দিয়েছে। তবে তারা কি বিশ্বকাপে অংশ নেবে না, নাকি শুধুই সমর্থকদের সে দেশে খেলা দেখতে যেতে বারণ করবে সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। এই তালিকায় যেমন রয়েছে গ্রীনল্যান্ডের 'মিত্র' ডেনমার্ক, তেমনই রয়েছে নেদারল্যান্ড, জার্মানির মতো দলও। ফলে চাপ বাড়ছে ফিফার উপর।
এমনিতেই এবারের বিশ্বকাপে চড়া টিকিটের দাম সহ নানা বিষয় নিয়ে বিতর্ক চলছে। এর মধ্যেই যোগ হয়েছে ফিফার স্বাধীন শাসন কমিটির প্রাক্তন সভাপতি মার্ক পায়েথের বক্তব্য, সুইস সংবাদপত্র ডের বুন্ড-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, 'আমরা যা কিছু আলোচনা করেছি, তা বিবেচনা করলে ভক্তদের জন্য একটাই পরামর্শ: আমেরিকা থেকে দূরে থাকুন।' তিনি আরও বলেন যে সমর্থকদের, সীমান্তে হেনস্থার সম্মুখীন হওয়ার ঝুঁকি আছে। শুধু তাই নয়, ভাগ্য ভালো থাকলেই সরাসরি পরবর্তী ফ্লাইটে দেশে ফেরার সুযোগ থাকবে।'
এ প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন ফিফার প্রাক্তন সভাপতি শেপ ব্লাটার। পায়েতের পাশে দাঁড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন তিনি। লেখেন, 'আমার মনে হয় মার্ক এই বিশ্বকাপ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঠিকই করেছেন। আমেরিকায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাবলী ভক্তদের সেখানে যেতে খুব একটা উৎসাহিত করবে না।'
কোন ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করছেন ব্লাটার?
এই সমালোচনার নেপথ্যে প্রধান কারণ হলো মার্কিন অভিবাসন নীতি। এই বছরের শুরুতে মিনিয়াপলিসে অভিযান চলাকালীন প্রাণঘাতী গুলি চলেছে। যার জেরে মৃত্যু হয়েছে ৩৭ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক রেনে নিকোল গুডের। এই ঘটনা বিরাট প্রভাব ফেলেছে বিশ্বজুড়ে।
এবারের বিশ্বকাপে সেনেগাল বা আইভরি কোস্টের ফ্যানরা কি আসতে পারবেন? সেটাও বড় প্রশ্ন। ইরান ও হাইতির ভক্তদেরও নিষিদ্ধ করার কথা ছিল, যারা উভয়ই বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জনকারী দেশ। ফলে এখন পরিস্থিতি কী হবে সেটাই দেখার। সবচেয়ে বড় কথা, জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ওকে গটলিখ সম্প্রতি বলেছেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ বয়কটের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে। ফলে পরিস্থিতি বেশ জটিল। জার্মানির মতো দেশ খেলতে না এলে। বা তাদের সমর্থকরা এই বিশ্বকাপ বয়কট করলে পরিস্থিতি কোনদিকে যায় সেটাই বড় প্রশ্ন।