Advertisement

Indian Football: ISL চালালে নিতে হবে আর্থিক দায়িত্বও, AIFF-কে চিঠি ১২ ক্লাবের

জামশেদপুর এফসি এবং নর্থ-ইস্ট দিয়ে ইউনাইটেডকে বাদ আইএসএলের ১২টি ক্লাব একসঙ্গে কড়া চিঠি পাঠাল অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনকে। তারা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, ফেডারেশন যদি মনে করে আইএসএল শুধুমাত্র ফেডারেশনের লিগ, তাহলে এর পুরো আর্থিক দায়ভার ফেডারেশনকেই নিতে হবে। আর যদি ক্লাবগুলোও এই লিগের অংশীদারিত্ব পায়, তাহলে লিগ পরিচালনার ক্ষেত্রে ক্লাবগুলির কথাও গুরুত্ব দিতে হবে।

আইএসএলআইএসএল
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 07 Mar 2026,
  • अपडेटेड 11:59 AM IST

জামশেদপুর এফসি এবং নর্থ-ইস্ট দিয়ে ইউনাইটেডকে বাদ আইএসএলের ১২টি ক্লাব একসঙ্গে কড়া চিঠি পাঠাল অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনকে। তারা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, ফেডারেশন যদি মনে করে আইএসএল শুধুমাত্র ফেডারেশনের লিগ, তাহলে এর পুরো আর্থিক দায়ভার ফেডারেশনকেই নিতে হবে। আর যদি ক্লাবগুলোও এই লিগের অংশীদারিত্ব পায়, তাহলে লিগ পরিচালনার ক্ষেত্রে ক্লাবগুলির কথাও গুরুত্ব দিতে হবে। 

কেন এই আপত্তি?
অথচ ক্লাবদের সঙ্গে কোনওরকম আলোচনা ছাড়াই নিজেদের মনের মতো করে দীর্ঘমেয়াদি মার্কেটিং রাইটস দেওয়ার জন্য টেন্ডার ডেকে দিয়েছে। এরকম বহু অভিযোগ জানিয়ে শুক্রবার ফেডারেশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সত্যনারায়ণকে চিঠি দিয়েছে আইএসএলের ১২টি ক্লাব।

কিছুদিন আগে আইএসএলের ক্লাবগুলিকে চিঠি দিয়ে ফেডারেশনের তরফে জানানো হয়, কয়েকটি কিস্তিতে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ১ কোটি টাকা দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না দিলে প্রতিদিন ১ লক্ষ টাকা করে জরিমানা দিতে হবে প্রতি ক্লাবকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এদিন ফেডারেশনকে পাল্টা কড়া চিঠি দিয়েছে ক্লাবগুলি।

কী দাবি ক্লাব জোটের?
চিঠিতে ক্লাবগুলো জানিয়েছে, ভারতীয় ফুটবলের স্বার্থে তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রথম কিস্তির ৩০ লক্ষ টাকা জমা দেবে। তবে অর্থ দেওয়ার মানে এই নয় যে, ফেডারেশনের সব সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে ক্লাবগুলির আপত্তি বা অধিকার এই ইস্যুতে বজায় থাকবে। ক্লাবগুলির অভিযোগ, সংশোধিত আর্থিক মডেল অনুযায়ী লিগ পরিচালনার সমস্ত খরচ ক্লাবগুলিকেই বহন করতে হচ্ছে, অথচ ফেডারেশনে তাদের থেকে কোনও আর্থিক দায়ভার বহন করছে না। তবুও মোট আয়ের থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ ফেডারেশন নিজেদের কাছে রেখে দিচ্ছে। ক্লাবগুলির মতে, যখন তারা লিগের ১০০ শতাংশ অপারেশনাল ব্যয় বহন করছে এবং সব কিছুর আর্থিক ঝুঁকি নিচ্ছে, তখন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও একতরফা ভাবে ফেডারেশন নেবে, এরকমটা হতে পারে না।

সবচেয়ে বড় আপত্তি উঠেছে আইএসএলের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক কাঠামো নিয়ে প্রকাশিত টেন্ডারকে কেন্দ্র করে। ক্লাবগুলির দাবি, এই গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রকাশের আগে তাদের সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি, এমনকি খসড়াও দেখানো হয়নি। ক্লাবগুলির বক্তব্য, ভবিষ্যতে কী অনুপাতে আর্থিক পরিকাঠামো হবে, কী পদ্ধতিতে লিগ চলবে, সঙ্গে লিগের বাণিজ্যিক অধিকার নির্ধারণ করবে এমন নথি তাদের না জানিয়ে প্রকাশ করা অত্যান্ত অস্বাভাবিক ঘটনা।

Advertisement

এছাড়া চলতি মরসুমকে কেন্দ্র করে ফেডারেশনের আর্থিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ক্লাবগুলো। তাদের দাবি, সম্প্রচার খাতে আয় কমে যাওয়া, স্পনসরশিপ সংকট এবং মরসুম সংক্ষিপ্ত হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতির মধ্যে ক্লাবগুলিকেই অধিকাংশ খরচ বহন করতে হয়েছে। অথচ একটি ডিজিটাল সম্প্রচার চুক্তি থেকে সম্ভাব্য আয়ের একটি বড় অংশ ফেডারেশন নিজেদের কাছে রাখছে, যা ক্লাবগুলির মতে এই সংকটময় পরিস্থিতিতে অযৌক্তিক। 

স্পোর্টিং দিক থেকেও ক্লাবগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, অসম ভাবে হচ্ছে হোম-অ্যাওয়ে মরচ। সঙ্গে অপারেশনাল অনিশ্চয়তা এবং আর্থিক বৈষম্যের কারণে এই মরসুমের আইএসএলকে পূর্ণাঙ্গ প্রতিযোগিতা হিসেবে মান্যতা দেওয়া কঠিন। এই পরিস্থিতিতে অবনমন কার্যকর করা হলে তা প্রতিযোগিতার খারাপ ফলের জন্য নয়, বরং কাঠামোগতভাবে একটি ক্লাবকে বাদ দেওয়া হবে বলে তারা দাবি করেছে। নোটিশে প্রতিদিন এক লক্ষ টাকা জরিমানার মতো কঠোর এবং আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের বিষয়েও ক্লাবগুলো আপত্তি জানিয়েছে। তাদের মতে, সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বের পরিবেশের সঙ্গে এরকম কঠোর ভাষা ব্যবহার সঙ্গতিপূর্ণ নয়। চিঠির শেষে আইএসএল ক্লাবগুলো এদিন এটাও জানিয়েছে, তারা ফেডারেশনের সঙ্গে এই সব ইস্যুতে আলোচনায় বসতেও প্রস্তুত। তবে সেই আলোচনা হতে হবে স্বচ্ছতা, যৌথ সিদ্ধান্ত এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে। ক্লাবগুলির বক্তব্য, আইএসএল সম্পূর্ণভাবে ফেডারেশনের লিগ হলে, আর্থিক দায়ভারও ফেডারেশনকে বহন করতে হবে। আর যদি ক্লাবগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্বের লিগ হয়, তাহলে ক্লাবদের কথাও ফেডারেশনকে শুনতে হবে।

Read more!
Advertisement
Advertisement