
শুক্রবার যুবভারতীতে জামশেদপুরের কাছে এগিয়ে থেকেও হারের পর অদ্ভুত অজুহাত সামনে আনলেন কোচ অস্কার ব্রুজো। রোজা থাকায় বেশ কয়েকজন ফুটবোলার ক্লান্ত ছিল। আর সেই কারণেই হার বলে দাবি তাঁর। দলের হারের আরও কারণ হিসেবে প্রথমার্ধের খারাপ শুরু, সেট-পিস থেকে গোল হজম করাকে তুলে ধরেছেন।
কোচ জানান, দল এদিন সঠিক ছন্দে খেলা শুরু করতে পারেনি। প্রথম ৩০ মিনিটে জামশেদপুর মাঝমাঠের দখল নিয়েছিল এব সেকেন্ড বল বা ফিফটি-ফিফটি চ্যালেঞ্জগুলোতে তারাই বেশি আধিপত্য দেখিয়েছে। অস্কারের মতে, জামশেদপুরের খেলোয়াড়দের মধ্যে জেতার তাগিদ ইস্টবেঙ্গলের চেয়ে বেশি ছিল সারা সপ্তাহ ধরে সেট-পিস আটকানোর অনুশীলন করা সত্ত্বেও সেই সেট-পিস থেকেই প্রথম গোল হজম করায় তিনি চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন। দ্বিতীয় গোলটির ক্ষেত্রেও বক্সের বাইরে প্রতিপক্ষকে জায়গা ছেড়ে দেওয়াটা দলের বড় ভুল বলে তিনি মনে করেন, যার খেসারত তাদের দিতে হয়েছে।
বিকেল ৫টায় ম্যাচ হওয়ার কারণে দলেরা পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়েছে বলে কোচ দাবি করেন। তিনি জানান, দলের চারজন খেলোয়াড় রমজান উপলক্ষে রোজা রাখছিলেন, যার ফলে তাদের মধ্যে স্বাভাবিক শক্তির অভাব দেখায় গিয়েছিল এবং দলের খেলায় সেই প্রয়োজনীয় 'স্পার্ক' ছিল না। এছাড়া, দলে কেভিন, সল এবং মহেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের অভাবও ভুগিয়েছে ইস্টবেঙ্গলকে। ম্যাচ শেষ হওয়ার সময় মাঠে ইস্টবেঙ্গলের মাত্র দুজন বিদেশি খেলোয়াড় উপস্থিত ছিলেন। নতুন খেলোয়াড় অ্যান্টন গত সপ্তাহে অনুশীলনে বেশ ভালো করলেও এই ম্যাচে দ্রুতগতির ফুটবলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তার অসুবিধা হয়েছে বলে কোচ জানিয়েছেন।
দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গল ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা করলেও একাধিক সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। কোচ স্বীকার করেন যে, দুই দলই ভালো সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু বক্সে ফিনিশিংয়ের অভাবে তারা গোল করতে পারেনি। অন্যদিকে, জামশেদপুরের মাদিহ ভালাল এবং প্রতিপক্ষ দলের প্রাক্তন খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেন তিনি।
সামনেই গোয়ার বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে ইস্টবেঙ্গলের। এই হারের ধাক্কা সামলে দল কীভাবে নিজেদের ভুল শুধরে ঘুরে দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার।