
আইএসএল নিয়ে অনিশ্চয়তার জেরে বিরক্ত ভারতীয় ফুটবলাররা। সুনীল ছেত্রী, প্রীতম কোটাল, সন্দেশ ঝিঙ্গনরা ফিফার দ্বারস্থ হওয়ার আর্জি জানানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সরকারিভাবে আইএসএল শুরুর ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে দিলো অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন।
শনিবার রাতে ফেডারেশন নিজেদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, 'শনিবার এমার্জেন্সি কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, এ বার আইএসএলের আয়োজন করবে এআইএফএফ। লিগ শুরুর তারিখ পরের সপ্তাহেই জানানো হবে।' সভায় ছিলেন প্রেসিডেন্ট কল্যাণ চৌবে, ভাইস প্রেসিডেন্টরা ও ট্রেজারার। ফুটবল হাউসের দাবি, সুনীলদের আর্জির প্রেক্ষিতে নয়, তারা অনিবশি দত্তদের নিয়ে গড়া তিন সদস্যের কো অর্ডিনেশন কমিটির রিপোর্ট শুক্রবার রাতে পাওয়ার পরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ফুটবল হাউস সূত্রের খবর, ১৫ ফেব্রুয়ারি আইএসএল শুরু হবে। কোন মডেলে লিগ হবে? তা জানতে শনিবারই ক্লাবগুলো মেইল পাঠিয়েছে ফেডারেশন। ৫ জানুয়ারির মধ্যে ক্লাবগুলোকে জবাব দিতে হবে। তার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এএফসির অনুমোদন নিয়ে ক্রীড়াসূচি ঘোষণা করবে ফেডারেশন।
ক্লাবগুলোর কাছে বছরে যে এক কোটি টাকার পার্টিশিপেশন ফি চেয়েছিল এআইএফএফ, তাতেও কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। যারা খেলবে, ২০২৫-২৬ মরশুমের ফি তারা দিতে পারবে চলতি বছর জুনেও। লিগ শুরুতে ক্লাবগুলোর উপর চাপ কমাতেই এই সিদ্ধান্ত। কর্পোরেট পার্টনার ঠিক করা ফেডারেশনের পক্ষে কঠিন। কারণ তাতে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নিতে হবে। তবে ক্লাবগুলো চাইলে জোট বেঁধে লিগের কর্পোরেট পার্টনার ঠিক করতে পারে। তাদের টেন্ডার হোম-অ্যাওয়ে। কিন্তু সব টিম সমান হোম ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে না।
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এখন হচ্ছে এই মডেলেই। ফেডারেশন চাইছে, যে সমস্ত টিমের হোম ম্যাচে দর্শক হয় না, তারা কলকাতা বা কেরলে তাদের হোম ভেন্যু করে খেলুক। তাতে কিছু দর্শক পাওয়া যাবে। তবে লিগে প্রতি টিমের ম্যাচের সংখ্যা ১৩-১৪-র বেশি হবে না। আপাতত ওডিশা বাদে ১৩ টিমের লিগে খেলার কথা। তবে ৫ জানুয়ারির মধ্যে যে ক্লাব রাজি না হবে, তাদের বাদ দিয়েই ক্রীড়াসূচি ঘোষিত হবে।