
তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সুপারস্টার। তবে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা এবং চোটের কবলে পড়ে সেই তারারই মোটের উপর অকাল পতন ঘটেছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে ইউরোপের কোনও ক্লাবেই হয় না ঠাঁই। শেষমেশ দেশে ফিরে ছোটবেলার ক্লাব স্যান্টোসে খেলতে হয়। আর যতদূর খবর, সেই ক্লাবেও আর বেশিদিন খেলতে পারবেন না এক সময়ের 'স্কিল মাস্টার'। কারণ, হয়তো এই বছরের শেষেই তিনি অবসর নিয়ে নেবেন।
ভাবছেন কার কথা বলছি? তাহলে শুনুন, এতক্ষণ ধরে ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার সম্পর্কেই কথা হচ্ছিল। এই তারকা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ২০২৬-এই হয়তো শেষবারের জন্য তাঁকে মাঠে নামতে দেখা যাবে। তারপর বুট তুলে রেখে চিরতরে ফুটবল মাঠকে বিদায় জানানোর ইচ্ছে রয়েছে তাঁর।
যদিও মাথায় রাখতে হবে যে, চলতি বছরেই রয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ। আর এই প্রতিযোগিতায় নিজের সেরা ফর্মে থাকতে চাইছেন নেইমার। তাহলেই তাঁর দলে ফেরা নিশ্চিত হবে।
সম্প্রতি কাজ টিভিতে একটা সাক্ষাৎকার দেন নেইমার। সেখানেই তিনি বলেন, 'আমি জানি না এরপর কী হবে। আমি পরের বছরের কথাও জানি না... এমনটা হতে পারে যে ডিসেম্বর এলে আমি অবসর নেওয়ার কথা ভাবতে পারি। আমি এখন বছর থেকে বছরের কথা ভাবি।'
তাঁর আরও বক্তব্য, 'এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বছর। শুধু স্যান্টোসের জন্য নয়, ব্রাজিলের জাতীয় দলের জন্যও। কারণ, এই বছরটা বিশ্বকাপের। আমার জন্যও বছরটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।'
মাথায় রাখতে হবে যে কেরিয়ারের শেষে চলে এসেছেন নেইমার। বার্সোলোনা, প্যারিস সাঁজা, আল হিলালে খেলার পর ১২ বছর পর ফিরেছেন নিজের দেশে। সেখানে ছোটবেলার ক্লাব স্যান্টোসের হয়ে মাঠে নামছেন তিনি। আর স্যান্টোস ২০২৬ সাল পর্যন্ত চুক্তি বাড়িয়েছে। কিন্তু তারপর কী? এটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।
নেইমারের ইনজুরির সমস্যা
কেরিরায়ের সেরা সময় থেকেই খুবই চোট প্রবণ ছিলেন নেইমার। গত কয়েক বছরে এই সমস্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। জানুয়ারি ২০২৫ থেকেই বারবার ইনজুরির কবলে পড়েছেন এই ফুটবলার। এই সময় তিনি ২৯টি ম্যাচ খেলেছেন। করেছেন মাত্র ১১ গোল। ৫টি অ্যাসিস্ট করেছেন। তবে ২০০ দিন মাঠের বাইরে থেকেছেন। এই সময় তাঁর হাঁটুতে বড় চোট লাগে। সেই কারণেই এই অবস্থা হয়।
এই চোটের পর সম্প্রতি মাঠে ফিরেছেন নেইমার। তবে ৩৪ বছর বয়সে এসে তিনি আবার কতটা নিজের সেরাটা দিতে পারবেন, এই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আর এমন পরিস্থিতিতে তিনি নিজের মুখেই অবসরের কথা তুললেন।