
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (BCB) টি-২০ বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্তটি খেলোয়াড়দের সঙ্গে কোনও পরামর্শ না করেই নেওয়া হয়েছে। এমনটাই দাবি সংবাদমাধ্যমের। ক্রিকবাজ-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই এই সিদ্ধান্ত কার্যত চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল।
২২ জানুয়ারি খেলোয়াড়দের সঙ্গে একটি বৈঠকের পর BCB আনুষ্ঠানিক ভাবে টি-২০ বিশ্বকাপ বয়কটের কথা ঘোষণা করে। BCB-র পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। পাশাপাশি, তারা দাবি করে, ICC তাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত আশঙ্কাগুলো যথাযথ ভাবে আমল দিচ্ছে না। সে কারণেই ভারতে তারা দল পাঠাবে না।
তবে ক্রিকবাজ-এ প্রকাশিত বক্তব্যে একাধিক ক্রিকেটার জানান, ওই বৈঠকটি আসলে খেলোয়াড়দের মতামত জানান জন্য নয়, বরং সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়ার জন্যই ডাকা হয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রিকেটার বলেন, 'প্রথমে মনে করা হয়েছিল আমাদের সম্মতি নেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে আমাদের ডাকা হয়েছিল শুধু পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করার জন্য। আমরা বৈঠকে আসার আগেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছিল। আমাদের মতামতের কোনও মূল্যই দেওয়া হয়নি।'
ওই ক্রিকেটার আরও বলেন, 'আগের সিদ্ধান্তগুলোতে খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করা হলেও এবার বিষয়টি ভিন্ন ছিল। তারা আমাদের কিছু জিজ্ঞাসাই করেনি। সরাসরি বলেছে, আমরা যাচ্ছি না। আগের মতো বসে আমাদের কথা শোনেনি। আসলে সরকারের সিদ্ধান্ত আগেই হয়ে গিয়েছিল। এটা সরাসরি সরকারের নির্দেশ, খেলা হবে না।'
ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বৈঠকে লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত বিশ্বকাপে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু এর জবাবে সরকার ও BCB কর্তারা অতীতে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে হুমকির ঘটনা এবং দর্শক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।
অন্য এক ক্রিকেটার হতাশা প্রকাশ করে বলেন, 'এই সিদ্ধান্ত দেশের ক্রিকেটেরই ক্ষতি করবে। দেশে ক্রিকেট শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমরা না গেলে ক্ষতিটা আমাদেরই। কে আর চিন্তা করবে?'
সবশেষে BCB ICC-কে বিষয়টি ডিসপিউট রেজোলিউশন কমিটির কাছে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে চেষ্টা করে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি যে দিকে গড়িয়েছে, তাতে বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে এনেই টি-২০ বিশ্বকাপ শুরু করতে পারে ICC। অনুমান সেরকমই।