
বৃহস্পতিবার সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ভারতীয় দল। মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের আগে স্বীকার করতে কোনও বাধা নেই যে এখনও টিম ইন্ডিয়ার মধ্যে বেশ কিছু দুর্বলতা রয়েছে। প্রত্যেকটা ম্য়াচেই এই দুর্বলতাগুলো খালি চোখে দেখতে পাওয়া যায়। আর সেকারণে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সুপার এইট পর্বেও তারা হেরে গিয়েছিল।
ওপেনিং নিয়ে সমস্যা
অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসনের সঙ্গে ওপেন করতে নামলেও গোটা টি২০ বিশ্বকাপে একেবারেই ছন্দে নেই। আর সেটাই বড় ম্যাচে চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে পারে। সঞ্জু ছন্দে আছেন শুধু নয়, বলা ভাল তাঁর ইনিংসই ভারতকে সেমিফাইনালের রাস্তা দেখিয়ে দিয়েছে। তবে তাঁর পার্টনারের ফর্ম সত্যিই চিন্তার কারণ। ৬ ম্য়াচে অভিষেক এবং সূর্যের ব্যাট থেকে মাত্র একটি করে হাফসেঞ্চুরি বেরিয়ে এসেছে। দুজনেই দ্রুত আউট হয়ে যাওয়ার কারণে টিম ইন্ডিয়ার মিডল অর্ডারে দ্বিগুণ চাপ তৈরি হচ্ছে। গত ম্য়াচে অভিষেক শর্মা মাত্র ১৫ রান করে আউট হয়ে গিয়েছিলেন। প্রথম তিনটে ম্য়াচে তো তিনি রানের খাতাই খুলতে পারেননি।
পাওয়ার প্লে চলাকালীন উইকেট হারানো
টিম ইন্ডিয়ার দ্বিতীয় দুর্বলতা হল পাওয়ার প্লে চলাকালীন উইকেটের পতন। পাওয়ার প্লে'র মধ্যে কখনও একটি, কখনও আবার তিনটে উইকেটও হারিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। যদি সেমিফাইনাল ম্য়াচে এই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা যায়, তাহলে ইংল্যান্ড চাপ তৈরি করে ভারতকে অবশ্যই ব্যাকফুটে ঠেলে দেবে। এই পরিস্থিতিতে পাওয়ার প্লে'তে একটা ভাল সূচনা টিম ইন্ডিয়াকে বড় রানের দিকে এগিয়ে দেবে।
খারাপ ফিল্ডিং
এছাড়া খারাপ ফিল্ডিং নিয়ে তো ইতিমধ্যে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এবারের টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতীয় ক্রিকেট দল যথেষ্ট খারাপ ফিল্ডিং করছে। যদি সেমিফাইনাল ম্য়াচে টিম ইন্ডিয়া অতিরিক্ত রান দিয়ে ফেলে, তাহলে চরম বিপাকে পড়তে হবে। এখনও পর্যন্ত ভারতীয় ফিল্ডাররা এবারের বিশ্বকাপে মোট ১৩ ক্যাচ ফসকেছে। বাকি দলগুলোর তুলনায় এটাই সর্বাধিক। সূর্য অ্যান্ড কোম্পানির ক্যাচিং দক্ষতা মাত্র ৭১.৭ শতাংশ। সুপার এইট পর্বে যা একেবারেই খারাপ।
বরুণের অফ ফর্ম
ভারতীয় বোলিং ডিপার্টমেন্টেও দুর্বলতা নজরে এসেছে। এই দলটা জসপ্রীত বুমরাহের উপরে সিংহভাগ নির্ভরশীল। লিগ পর্বে টিম ইন্ডিয়ার মিস্ট্রি স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী যথেষ্ট ভাল পারফরম্য়ান্স করেছিলেন। কিন্তু, সুপার এইট পর্বে তাঁর পরিসংখ্যান খারাপ হয়ে গিয়েছে। আর্শদীপ শুরুর দিকে তাঁর সুইং ডেলিভারিতে ব্যাটারদের পরাস্ত করলেও, ডেথ ওভারে যথেষ্ট রান দিয়ে ফেলেন তিনি। হার্দিক পান্ডিয়া, অক্ষর প্যাটেল এবং শিবম দুবের বোলিংয়ে কোনও নির্ভরতা দেখতে পাওয়া যায়নি।