
যত সময় যাচ্ছে ততই ইন্ডিয়ান সুপার লিগ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সমর্থক ও ফুটবলারদের মধ্যে। তবে এর মধ্যেই কিছুটা হলেও আশার আলো দেখা যাচ্ছে। আইএসএল কি এবার শুধুই গোয়াতে? বছরের শেষ দিন ক্লাব জোটের বৈঠকে কিন্তু উঠল সেই প্রস্তাবই। যার আসল কারণ খরচ কমিয়ে আনা।
মঙ্গলবার এবারের আইএসএলের বাজেট চূড়ান্ত হয়েছিল। দুটি সেন্ট্রালাইজড ভ্যেনুতে প্রতিযোগিতা আয়োজনের খরচ নির্ধারিত হয়েছিল সাড়ে ৭৩ কোটি টাকা। কয়েকটি ক্লাবের প্রতিনিধি এই বাজেট করলেও ফেডারেশন কর্তারা ছাড়াও, অন্য ক্লাবগুলোর মত ছিল এই বাজেট অনেকটা কমানো যেত। বুধবার এই নিয়ে দুটি বৈঠক হয় ক্লাবগুলোর মধ্যে। সেখানে সেন্ট্রালাইজড ভ্যেনুর বাজেট প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি করা হলেও অন্য একটি প্রস্তাব উঠে আসে। যে প্রস্তাব কলকাতার ফুটবল দর্শকদের জন্য মোটেই সুখকর নয়। বুধবার ক্লাবগুলোর বৈঠকে উঠে আসে কলকাতা এবং গোয়া মিলিয়ে আইএসএল করার বদলে শুধু গোয়াতে আইএসএল হলে খরচ অনেকটা কমানো সম্ভব।
এমনও আলোচনায় উঠে আসে, গোয়া ফুটবল সংস্থা সেখানকার সরকারের সঙ্গে কথা বলে স্টেডিয়াম, পুলিশ, দমকলের খরচ অনেক কমিয়ে দেবে। যেমনভাবে শেষ সুপার কাপে তারা সবকিছু বিনামূল্যে আয়োজন করেছিল। বুধবার যে বাজেট করা হয়েছে তাতে উঠে এসেছে, যদি স্টেডিয়াম বিনামূল্যে পাওয়া যায় তাহলে খরচ হবে আনুমানিক ৩৮ কোটি টাকা। যদি স্টেডিয়াম এবং পুলিশের খরচ দিতে হয় তাহলে খরচ হবে আনুমানিক ৪২ কোটি টাকা। সে ক্ষেত্রে গোয়াতেই সিঙ্গল লেগে মুখোমুখি হবে সব দল। এই ৩৮ বা ৪২ কোটি টাকার বাইরে ক্লাবগুলোর খরচ।
সেখানে তাদের দলের থাকা, খাওয়া এবং যাতায়াতের। সূত্রের খবর, ক্লাবদের হিসেব সেক্ষেত্রে অনেক কমে যাবে। প্রতিটি ক্লাবের কাছে এখন খরচ কমানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেক্ষেত্রে যদি গোটা প্রতিযোগিতা গোয়াতে হয় তাহলে এবার আইএসএল থেকেই বঞ্চিত হতে চলেছে কলকাতা ময়দান। এখন দেখার কলকাতার দলগুলো এবং আইএফএ-র এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ হয়।
অন্যদিকে, প্রত্যাশা মতোই বছরের শেষ দিন আইএসএল ক্লাবগুলির কাছে 'পার্টিসিপেশন লেটার' পাঠিয়ে দিল এআইএফএফ। চিঠিতে ফেডারেশন লিখেছে, 'আপনাদের অনুরোধ, আইএসএলে খেলার বিষয়টি চূড়ান্ত করুন। সঙ্গে কোন ফরম্যাটে প্রতিযোগিতা হবে, তা নিশ্চিত করুন। সেটা হয়ে গেলেই একমাত্র ফেডারেশন গোটা বিষয়টি এএফসি-কে সরকারিভাবে জানাতে পারবে। সঙ্গে নিশ্চিত করতে পারবে, ২০২৫-২৬ মরসুমের লিগে নির্দিষ্ট সংখ্যক ক'টি ম্যাচ হবে। যেহেতু হাতে সময় খুব কম, তাই ১ জানুয়ারির মধ্যেই আপনারা বিষয়টি নিশ্চিত করুন।'
ক্লাব এবং ফেডারেশন টানাপোড়েন চলছে বেশ কিছু সপ্তাহ ধরে। ক্লাব জোট বেশ চাপেই রাখছিল ফেডারেশনকে। কিন্তু এবার মাত্র একদিনের মধ্যে আইএসএলে খেলার নিশ্চয়তা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে, পাল্টা চাপ দিল ফেডারেশন। কারণ, এবার ক্লাবগুলিকে হয় সম্মতি দিতে হবে। না হলে বলতে হবে তারা খেলবে না। যদি কোনও ক্লাব খেলবে না বলে, তাদের আইএসএল থেকে অবনমন হয়ে যাবে। এখানেই তাদের জন্য সমস্যার শেষ নয়। সঙ্গে যেহেতু প্রতিযোগিতা হচ্ছে, কিন্তু তারা প্রতিযোগিতায় খেলতে চাইছে না, তাই 'ফোর্স মেজর' ক্লজে ফুটবলারদের সঙ্গে তারা চুক্তিভঙ্গ করতে পারবে না। প্রত্যেক ফুটবলারকে চুক্তির পুরো অর্থ তাদের দিতে হবে। একমাত্র ক্লাব বন্ধ হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে ফুটবলারদের। ক্ষেত্রে ফুটবলারদের কিছু করার থাকবে না। ফেডারেশন সূত্রে রাতের খবর অনুযায়ী, ওড়িশা ছাড়া আরও দুটি ক্লাব সম্মতি পাঠাতে সমস্যা তৈরি করছে। বাকিদের সম্মতি তারা পেয়ে যাবে বলে আশাবাদী।