
নীরজ চোপড়া বলেন, এই পরিশ্রম ৪-৫ বছরের নয়। এটা শুরু থেকেই। মানে আমি যখন থেকে জ্যাভেলিন শুরু করি। এই কঠোর পরিশ্রম ২০১১ সাল থেকে চলছে। এবং এখন এটি তার ফলাফল পেয়েছি। নীরজ বলেন, এখন খেলোয়াড়রা দেশে সুযোগ -সুবিধা পাচ্ছে। স্টেডিয়ামও যথেষ্ট। দেশে খেলাধুলোর বিষয়ে মানুষের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন এসেছে।
নীরজ চোপড়া জ্যাভলিন থ্রো-তে সোনা আনার পাশাপাশি তিনি ভারতীয় সেনাতে কর্মরত একজন জওয়ান। আজতকের অনুষ্ঠানে নীরজ বলেন, আমি প্রথম থেকেই সেনাবাহিনী পছন্দ করেছি। আমার অনেক কাজের প্রস্তাব ছিল কিন্তু আমি সেনাবাহিনী পছন্দ করতাম। এবং আমি যোগ দিলাম। সৈন্যদের সাথে থাকতে খুব ভালো লাগছে। ফাইনালে সেই ঐতিহাসিক নিক্ষেপের বিষয়ে নীরজ চোপড়া বলেছিলেন যে প্রতিটি ক্রীড়াবিদ জানেন যে তার নিক্ষেপ কতদূর এগিয়ে গেছে। ১০-১১ বছরের প্রশিক্ষণে এত অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়।
এবার আজতকের বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন জ্যাভলিন থ্রো-তে সোনার পদক জয়ী নীরজ চোপড়া। ভারতের প্রথম ট্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে প্রথম স্বর্ণ পদক জয়ী নীরজ চোপড়া বলেন, আমি পদকের জন্য অনেক পরিশ্রম করেছি। সব খেলোয়াড় কঠোর পরিশ্রম করে। আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি যে আমি জিততে পারলাম। বিশ্বের অনেক বড় বড় খেলোয়াড় ফাইনালে ছিলেন। কিন্তু সেদিন ছিল আমার দিন এবং আমি জিতেছি।
আর কিছুক্ষণের অপেক্ষা। তারপরই সোনার ছেলে নীরজ চোপড়া থাকছেন বিকেল ৫টায় Jai Ho Sitaron Ka Samman অনুষ্ঠানে।
মনপ্রীত সিং বলেন, পদক জেতার পর যখন আমি আমার মাকে বাড়িতে ডেকেছিলাম, তখন তিনি কাঁদতে শুরু করেছিলেন। আমার বাবার স্বপ্ন ছিল আমার অলিম্পিকে গিয়ে পদক পাওয়া উচিত। কিন্তু তিনি এই জিনিসটি দেখার জন্য এখানে নেই। মা এই বিষয়ে দুঃখ পেয়েছিলেন এবং আমারও খুব খারাপ লাগছিল। সবকিছু আজ আছে কিন্তু সে দেখার নেই। কিন্তু দেশের জন্য এই পদক অনেক বড় কথা।
মহিলা হকি দলের অধিনায়ক রানী রামপাল বলেন, আমরা পদকের কাছাকাছি ছিলাম। কিন্তু তার পরেও, নারী হকি যে ভালোবাসা ও সম্মান পাচ্ছে, পদক পাওয়ার আগে কখনও হয়নি। হকি নিয়ে দেশে অনেক পরিবর্তন এসেছে। লোকেরাও মহিলাদের দলের ম্যাচ দেখতে শুরু করেছেন। আমরা চতুর্থ হয়েও অনেক সম্মান পেয়েছি।
এবার আজতকের Jai Ho Sitaron ka Samman অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন ভারতীয় পুরুষ ও মহিলা হকি দল। পুরুষ হকি দলের অধিনায়ক মনপ্রীত সিং বলেন, আমরা পদক জিতেছি, এটা খুব ভালো লাগছে। আমরা ৪১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছি।
বিকেল ৪টার সময় আজতকের অনুষ্ঠানে আসছে হকি দল। আপডেট পেতে চোখ রাখুন আজতক বাংলায়।
পিভি সিন্ধু বলেন যে, ''আমি সরকারের কাছ থেকে অনেক সমর্থন পেয়েছি। ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশনও সমর্থন করেছিল। এই সমর্থন খেলোয়াড়দের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি অনুপ্রেরণা দেয়।''
সিন্ধু অলিম্পিকের বিষয় নিয়ে আরও বলেন, ''অলিম্পিকে আমি আগে থেকেই ভাবছিলাম যে প্রতিটি ম্যাচই দরকার। কারণ তুমি জানো না সেদিন কি হতে চলেছে। যে কোন কিছু হতে পারে। কখনও কখনও আপনি ভাল খেলতে পারেন এবং কখনও কখনও না। কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ ভালো ছিল। কিন্তু আমি সেমিফাইনাল সম্পর্কে জানতাম যে এটি একটি কঠিন ম্যাচ হতে চলেছে। এবং আমি এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু সেটা আমার দিন ছিল না এবং আমি হেরে গেলাম। ম্যাচের পর আমি কেঁদেছিলাম। আমার কোচ এবং বাবা -মা দুঃখ পেয়েছিলেন। বাবা -মা ফোন করে বুঝিয়ে দিলেন যে যাই হোক না কেন, তাই হয়েছে। আগামীকালও একটি ম্যাচ আছে।''
অলিম্পিকে ভারত ৭টি মেডেল জয় করেছে এবছর। অন্যান্য বারের তুলনায় ইতিহাস গড়েছে ভারত। এই প্রথমবার অলিম্পিকে সব থেকে বেশি মেডেল জয় করেছে ভারত। আর সেই নিয়েই এবার কথা বললেন পিভি সিন্ধু। তিনি বলেছেন, এটা সাধারণ ব্যাপার নয়। আমাদের ভারত খেলাধুলোয় অন্য মাত্রায় পৌঁছে গিয়েছে। এটা খুব ভালো বিষয়।
পিভি সিন্ধু বলেন, আমি যদি কোনও টুর্নামেন্টে যাই, মানুষ আশা করে সিন্ধু পদক নিয়ে আসবে। তবে এটি এক ধরণের ইতিবাচক। মানুষের সমর্থন আছে। আমি এটাও অনুভব করি যে আমি একটি পদক জিততে চাই। মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে চাই। কিন্তু যখন আমি আদালতে যাই, এই সব আমার মাথায় আসে না। আমি এই সমস্ত জিনিস আমার মন থেকে সরিয়ে নিই।
পিভি সিন্ধু বলেন, রিও অলিম্পিক এবং টোকিও অলিম্পিকে আলাদা অভিজ্ঞতা আছে। রিও ছিল আমার প্রথম অলিম্পিক। তখনই সিন্ধু অলিম্পিক খেলছে এবং মেডেল জয় করেছেন। কিন্তু এবার চাপ ছিল। প্রত্যাশা ছিল বেশি। আমি মনে করি টোকিও অলিম্পিকের পদক আরও কঠিন ছিল।
তারকা শাটলার পিভি সিন্ধু আজকের শো 'জয় হো'তে বললেন যে অলিম্পিকে পদক জেতা সহজ নয়। প্রতিটি ক্রীড়াবিদ অলিম্পিকে পদক জয়ের স্বপ্ন দেখে। আমারও একটা স্বপ্ন ছিল। আমি খুব খুশি যে আমি দুটি অলিম্পিকে পদক জিতেছি। আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি এবং এটি সেই কঠোর পরিশ্রমের ফল। একটা স্বপ্নপূরণ হওয়া অলিম্পিকে মেডেল জেতা।
মেডেল জয় করে এখন বাড়িতে ছুটি কাটাচ্ছেন পিভি সিন্ধু। এবার ভারতীয় তারকার বাড়িতে আজতক। Jai Ho Sitaron Ka Samman অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন পিভি সিন্ধু। একই সঙ্গে নিজের কঠিন পরিশ্রমের কথা বললেন সিন্ধু। পরিশ্রমের ফলই দুটি অলিম্পিক মেডেল, জানিয়ে দিলেন গোপীচাঁদের ছাত্রী।
তারকা শাটলার এবং টোকিও অলিম্পিকের ব্রোঞ্জ পদকজয়ী পিভি সিন্ধু আজতকের মঞ্চে থাকবেন বিকাল ৩টায়। সিন্ধু টানা দ্বিতীয়বার অলিম্পিকে পদক জিতেছেন। এর আগে তিনি রিও অলিম্পিকে রুপোর পদক জিতেছিলেন। সিন্ধু ব্যাডমিন্টন বিশ্বে ভারতের নাম উঁচু করছেন। চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়রাও সিন্ধুর খেলার সামনে ব্যর্থ হন।
বজরং পুনিয়া বলেন, তিনি মিলখা সিংহের কাছ থেকে অনেক অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। তিনি বলেন,''আমিও একটি অনুষ্ঠানে তার সাথে দেখা করেছি। আমি ওনাকে দেখে খুশি হলাম যে তিনি আমাদের চেনেন। এত বড় একজন কিংবদন্তি। তিনি আমার সুস্থতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন।''
বজরং পুনিয়া বলেন, আমি যত এগিয়েছি, মানুষের প্রত্যাশাও তত বেড়েছে। এবারের অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জেতার মতো মানুষের আশা আরও বেড়ে যেত যে পরের বার তাদের রৌপ্য পদক জিততে হবে। নিজের কাছ থেকে প্রত্যাশাও বেড়েছে। সবার সমর্থন পেয়েছি। বজরং বলেন, আমাদের অনেক খেলোয়াড় এই অলিম্পিকে ভালো করতে পারেনি। হয়তো চাপের কারণে এমনটা হয়েছে। কিন্তু আমি কখনও চাপের মধ্যে খেলি না। আমার মাথায় একবারও আসেনি যে আমি পদক নিয়ে আসব।
চোট থাকা সত্ত্বেও দারুণ লড়াই করেছিলেন ভারতীয় কুস্তিগির বজরং পুনিয়া। বজরং নিজের সেমিফাইনালে হারের পর চোট পেয়েছিলেন। তবে তিনি কোনওভাবেই কোনও কিছু পায়ে লাগাননি। আর সেই ভাবেই খেলতে এসেছিলেন। তবে সেটা পায়ো কোনও কিছু না লাগানো আরও বড় চোট পেতে পারতেন তিনি। তবে সেই নিয়ে ভাবেননি তিনি, আর সেই অবস্থাতেই জয় পেয়েছেন বজরং। এমনটাই এবার জানালেন তিনি।
বিশ্বে নম্বর ১ কুস্তিগির হিসাবে ছিলেন বজরং পুনিয়া। তবে এবার অলিম্পিক গোল্ডই একমাত্র লক্ষ্য তাঁর। ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন বজরং। তবে সেটাটে শুধু সন্তুষ্টি নেই ভারতীয় কুস্তিগিরের।
বজরং পুনিয়া এবার যোগ দিলেন আজতকের Jai Ho Sitaron Ka Samman অনুষ্ঠানে। তিনি বলেন যে যে টুর্নামেন্টে আমি অংশগ্রহণ করেছি, আমি প্রথম স্থানে পদক জিতেছি। আমার বাবার স্বপ্ন ছিল তার এক ছেলে কুস্তিগীর হবে। আমি ৭ বছর বয়সে কুস্তি শুরু করি। রেসলিং শুরু করার কোনও বয়স নেই। কিন্তু আপনি যত কম বয়সে শুরু করবেন, ততই এটি উপকারী হবে।
Sitaron Ka Samman অনুষ্ঠানে আর কিছুক্ষণেই যোগ দেবেন কুস্তিতে ব্রোঞ্জ জয়ী বজরং পুনিয়া
অনুষ্ঠানে নাচলেন মীরাবাই, খেলেন পিৎজা, দেখুন
ভারতের হয়ে রুপোর পদক জয়ী। ভারোত্তোলোনে মহিলা অ্যাথলিট মীরাবাই চনু বলেন, ''আমি মেয়েদর কাছে বলতে চাই সংসার করা পরিবার দেখা সেটা অবশ্যই করুন, কিন্তু খেলাধুলোতেও এগিয়ে আসুন আপনারা। আপনাদের আমার পাশে দরকার। ওয়েটলিফ্টিংয়েও যোগ দিন ও অ্যাথলিট হয়ে উঠুন। দেশের প্রতি কর্তব্য করুন।''
মীরাবাই চনু নিজের পছন্দ সম্পর্কে কথা বললেন Jai Ho Sitaron Ka Samman অনুষ্ঠানে। তবে তিনি এখন শুধুমাত্র প্রশিক্ষণে মনযোগ দিতে চান। তিনি বলেন, ''আমি প্রশিক্ষণে বেশি মনোযোগ দিই। আমি পিৎজা ভালোবাসি। তবুও সেটা কম খাই। আমি সালমান খানের ভক্ত। আমি তার সাথে দেখা করার পর কান্না শুরু করেছিলাম। স্যারের সঙ্গে দেখা করে ভালো লেগেছে। তিনি আমাকে আরও ভালো করে অনুশীলন করার জন্য বলেছেন।''
ডায়েট সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে মীরাবাই চনু বলেন যে, ''যখন আমি এই গেমটি শুরু করি তখন খুব কঠিন ছিল। মায়ের চায়ের দোকান ছিল। আমি উচ্চ পরিবার থেকে আসি না। ডিম দুধ খেতাম। কিন্তু এমনকি এটি প্রতিদিন পাওয়া যায়নি। সপ্তাহে মাত্র দুই-তিন দিন সেটা দেওয়ার জন্য মায়ের কাছে টাকা ছিল। তারপরও তিনি অনেক সমর্থন করেছেন।''
একই সঙ্গে মীরবাই চনুর মা তাঁকে খুবই সাহায্য করতেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ''তিনি আমাকে বলেছিলেন যে যাই হোক না কেন, আমি তোমার সাথে আছি। আমার পরিবারের লোকেরা খেলাধুলা পছন্দ করে। মা ফুটবল খেলতেন।'' মীরাবাই বলেছিলেন যে আমার পরিবার আমাকে সমর্থন করেছিল। তিনি আরও বলেন, ''পদক জেতার পর প্রথমে মাকে ফোন করলাম। পুরো গ্রাম তখন আমার বাড়িতে ছিল।''
মীরাবাই চনু এবার যোগ দিলেন Sitaron Ka samman অনুষ্ঠানে। তিনি বললেন, ''এই যাত্রা আমার জন্য ভালো ছিল। শুরুতে কঠিন ছিল। আমি টোকিও অলিম্পিকে ৫ বছর কাজ করেছি। রিও অলিম্পিকে ব্যর্থ হওয়ার পর, আমি ভেবেছিলাম টোকিও অলিম্পিকে পদক জেতা কঠিন হবে, তবে একটা জেদ ছিল স্বপ্ন ছিল। কেরিয়ারের শুরুতে অনেক ঝামেলা ছিল। প্রশিক্ষণের জন্য ট্রাকে লিফট নিতে হয়েছিল। মীরাবাই বলেছিলেন যে প্রশিক্ষণের জন্য উত্সাহ ছিল এবং এর কারণে কোনও ভয় ছিল না। আমি প্রশিক্ষণ মিস করতে চাইনি। শুরুতে পরিবারের সদস্যরাও ভয় পেয়েছিলেন। কিন্তু পরে মা ট্রাকচালককেও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে এটির যত্ন নিন। পরে একই ট্রাক চালক বাড়ির সামনে অপেক্ষা করতেন। আমি মানুষের কাছ থেকে অনেক সমর্থন পেয়েছি।''
ইতিমধ্যেই Jai Ho Sitaron Ka samman, অলিম্পিক পদক জয়ীদের মধ্যে দুই ভারতীয় আজতকের মঞ্চে নিজেদের সময় দিয়েছেন। এবার বেলা ১টা আসতে চলেছেন মীরবাই চনু। লাইভ আপডেট পেতে চোখ রাখুন আজতক বাংলায়।
আপাতত কিছুদিন বিশ্রাম করবেন অসমের মেয়ে টোকিওতে ব্রোঞ্জ পদক জয়ী লভলিনা বোরগোঁহেইন। শেষ ৮ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করে গিয়েছেন লভলিনা। তিনি এই ৮ বছরের পরিশ্রমের পর অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন। তবে স্বপ্নপূরণ হয়নি। আর স্বপ্ন মাত্র একটাই অলিম্পিকে স্বর্ণ পদক জেতা দেশের হয়ে। আর সেই লক্ষ্যে এবার এগোতে চলেছেন লভলিনা বোরগোঁহেইন। তবে তাঁর আগে কিছুটা বিশ্রাম করতে চান তিনি। টোকিওর পর এখন বাড়িতে কিছুটা সময় দিতে চান তিনি। একই সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া নিজের পছন্দের খাওয়া-দাওয়া করতে চান বক্সিংয়ে পদক জয়ী অ্যাথলিট।
লভলিনা বলেছিলেন যে বক্সিং শিখতে ৪-৫ বছর সময় লাগে। আমার ৮ বছর লেগেছিল কারণ আমি ভালভাবে শিখিনি। যদি আমরা প্রশিক্ষণ নিয়ে যাই, তাহলে ৪ বছরে একজন বক্সার অলিম্পিকের জন্য প্রস্তুত হবে। তবে চাকরি পাওয়ার জন্য নয়, শুধু মাত্র টোকিওতে মেডেল জয় লক্ষ্য তাঁর।
লভলিনা বোরগোঁহেইন বিজেন্দ্র সিং (২০০৮) এবং এমসি মেরি কম (২০১২) এর পরে অলিম্পিকে পদক জয়ী তৃতীয় ভারতীয় বক্সার। তবুও, ২৩ বছর বয়সী টোকিও অলিম্পিকে তার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন। ভারতীয় বক্সার প্যারিস অলিম্পিকে সোনা জয়ের চেষ্টা করছেন। নিজের মেডেল জয়ে সন্তুষ্ট নন ভারতীয় মহিলা বক্সার লভলিনা বরগোঁহেইন। তিনি টোকিও অলিম্পিকে এক প্রতিপক্ষের কাছে ৪ বারের পর জয় পেয়েছেন। তবুও ব্রোঞ্জ পদক নয়। নিজের পদকের রং বদলাতে চান লভলিনা। দেশের হয়ে অলিম্পিকে সোনা ছাড়া আর কিছুই ভাবছেন না তিনি।
টোকিও অলিম্পিকে মহিলাদের (৬৯ কেজি) বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক জিতে ইতিহাস রচনা করেছেন লাভলিনা বোরগোঁহাইন। তিনি বলেন, "আমি শুধু আমার পদকের রং পরিবর্তন করতে চাই। আমি আমার দেশের জন্য পদক জিততে চাই, পদকেই তো মানুষ আমাদের চিনবে।"
আর কিছুক্ষণেই আজতকের Sitaron Ka samman Jai Ho-র মঞ্চে দেখা যাবে ভারতের হয়ে টোকিও অলিম্পিকে বক্সিংয়ে ব্রোঞ্জ পদক জয়ী লভলিনা বরগোঁহেইনকে। দুপুর ১২টা থেকে থাকবেন তিনি।
আজতক জয় হোর মঞ্চে ছত্রসাল স্টেডিয়ামে এবার ভাঙ্গরা নাচলেন রুপো জয়ী রবি দাহিয়া ও তাঁর গুরু সতপাল সিং সহ ছত্রসাল স্টেডিয়ামের বাকি কুস্তিগিররা।
রবি দহিয়ার গুরু সাতপাল সিং জানিয়েছেন, রবি বছরে একবার বাড়িতে যান। তিনি পুরো সময় ছত্রসাল স্টেডিয়ামে থাকেন। তিনি কঠোর অনুশীলন করেন। রবি তাঁর শতভাগ দিয়েছেন এই অলিম্পিকে। সাতপাল আরও বলেন, আমরা ১০০ জন শিশুকে এখানে কুস্তি সেখাই। সব শিশুরা ভালো রেজাল্ট করবে এমনটা দরকার নেই। কিন্তু রবির একটা গোল ছিল। তিনি প্রতিটি কোচের প্রিয়। রবি বলেছিল যে সোনা আসবে, কিন্তু সে নিজের একশো শতাংশ দিয়েছে। রুপো এল, এটাও কম নয়।
নিজে অলিম্পিকের মঞ্চে পেয়েছেন রুপোর পদক। তবে টার্গেট ছিল একমাত্র সোনার দিকেই। তবে একটুর জন্য সেই পদক পাননি রবি দাহিয়া। ফলে একটু হলেও খারাপ লাগা থেকে গিয়েছিল। তবে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড জ্যাভলিন থ্রো-তে নীরজ চোপড়ার সোনা জয় তাঁকে অনেক বেশি গর্বিত করেছে বলে জানালেন রবি দাহিয়া। জয় হো অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, 'এটা দেশের মেডেল। আমি গর্বিত ওর জন্য। খুব বড় কাজ করেছে। খুব ভালো লেগেছে ও সোনা পেয়েছে।'
কাজাখস্তানের কুস্তিগীর ম্যাচে রবি দহিয়াকে দাঁত দিয়ে কামড় দিয়েছিলেন। রবির হাতে এখনও সেই দাগ আছে। এই বিষয়ে রবি দহিয়া বলেছিলেন যে আমি বিতর্ক চাইনি। আমার মনোযোগ ছিল খেলার দিকে। পরদিন সেই কুস্তিগীর এসে আমার কাছে ক্ষমা চাইল। বন্ধুর মতো হয় ও, এই কারণে আমি অভিযোগ করিনি।
রবি দহিয়া বলেছিলেন যে মাদুরে নামার জন্য কোনও বড় বা ছোট কুস্তিগীর নেই। সেই সময় ফোকাস থাকে শুধু কুস্তিতে। রবির গুরু সাতপাল সিং বলেছেন, রবিতে আগুন আছে। সে কিছু করতে চায়। তিনি শুরু থেকেই একজন ভাল কুস্তিগীর।
রবি দহিয়া বলেছিলেন যে অলিম্পিকে যাওয়া সমস্ত ভারতীয় খেলোয়াড়ের লক্ষ্য ছিল পদক জয়ের লক্ষ্য। সবচেয়ে বড় কথা হল সব খেলোয়াড়েরই ফোকাস ছিল এবং তারা তা করেছে। তিনি বলেন, আমরা অনেক অনুশীলন করি। আমরা প্রতিপক্ষের কুস্তিগীরকে ক্লান্ত করার চেষ্টা করি। এটাই আমাদের ছক।
রবি দহিয়া বলেন - রুপোর পদক জয় বড় ব্যাপার
শুরু অনুষ্ঠান। ছত্রসাল স্টেডিয়াম থেকে রবি দহিয়া বললেন, রৌপ্য পদক জেতা অনেক বড় ব্যাপার। আমার ফোকাস ছিল অলিম্পিকে পদক জেতার দিকে। আমার গুরুজী আগে থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে আমি অবশ্যই পদক জিতব। তবে স্বর্ণ পদকের জন্য খেলছিলাম। রুপো জয়টাও কম বড় কথা নয়।
রবি দহিয়া আজকের মঞ্চে থাকবেন সকাল ১১ টায় এবং টোকিও অলিম্পিকের অভিজ্ঞতা দেশের মানুষের সঙ্গে শেয়ার করবেন। কেরিয়ারের প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি কী কী সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন এবং কীভাবে তিনি এই জায়গায় এলেন তা নিজেই বলবেন রুপো জয়ী রবি দহিয়া।
রবি দহিয়া সামগ্রিকভাবে পঞ্চম ভারতীয় কুস্তিগীর যিনি অলিম্পিকে পদক জিতেছেন। একই সাথে, তিনি ভারত থেকে দ্বিতীয় কুস্তিগীর যিনি রুপো জিতেছেন টোকিওতে। রবি দহিয়ার আগে, সুশীল কুমার ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে রুপোর পদক জিতেছিলেন।
সকাল ১১টা- রবি দাহিয়া, রুপো জয়ী (কুস্তি)
দুপুর ১২টা- লভলিনা বরগোঁহেইন, ব্রোঞ্জ জয়ী (বক্সিং)
দুপুর ১টা- মীরবাই চনু, রুপো জয়ী (ওয়েটলিফ্টিং)
দুপুর ২টা- বজরং পুনিয়া, ব্রোঞ্জ জয়ী (কুস্তি)
বিকেল ৩টা- পিভি সিন্ধু, ব্রোঞ্জ জয়ী (ব্যাডমিন্টন)
বিকেল ৪টা- হকি পুরুষ দল (ব্রোঞ্জ জয়ী) ও মহিলা হকি দল
সন্ধ্যা ৫টা- নীরজ চোপড়া, সোনা জয়ী (জ্যাভলিন থ্রো)