
বিস্ফোরিত চোখে টিভির পর্দায় চোখ। তিনি আসলেই মঞ্চে ঘটত বিস্ফোরণ। তাঁর 'অঙ্গভঙ্গি' দেখে নকল করা। ছেলেবেলাই ফিরল ৬ জানুয়ারি। মঞ্চ সেই একই। তবে বদলে গিয়েছে প্রকরণ। টিভির পর্দা থেকে এখন মোবাইলের স্ক্রিন। এতটুকুও ভাটা পড়েনি উৎসুকতায়। নেটফ্লিক্সের ডব্লুডব্লুই-এর (WWE RAW) মঞ্চে জন সিনার অভিষেকের পর নস্টালজিয়ায় ভাসলেন ভক্তরা।
ছোটরা বড় হয়েছেন। অনেকে সংসারীও হয়েছেন। যুগের নিয়মে নায়কও প্রস্থানের পথে। ঘোষণা করেছেন, ২০২৫-ই শেষ বছর। সোমবার নেটফ্লিক্সের ডব্লুডব্লুই-এর রিংয়ে ওঠার আগে জন সিনার হাতে মাইক। গাইলেন সেই গান, যা হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালার সুরে অনুরণিত হয় ভক্তের হৃদয়ে।
কেরিয়ারে ১৬ বার চ্যাম্পিয়ন। বিদায়বেলাতেও তাঁকে জিততে দেখতে চাইছেন ভক্তরা। রিংয়ের নায়কও বলছেন,'অনেকেই চাইছে, আমি ১৭বার শিরোপা জিতি। কিংবদন্তি রিক ফ্লেয়ারের রেকর্ড ভেঙে দিই'। ভক্তদের সমস্বরে দাবি,'আপনি আর একবার জিতুন'। কিন্তু সময় কারও হাতে থাকে না। বনের সিংহও শিকারের ক্ষমতা হারায়। ২৪৪৬ দিন ধকে ডব্লুডব্লুই-তে সিঙ্গল ম্যাচ জয় অধরা। জনের হাতে এখন রয়েছে দু'টি বিকল্প- এলিমিনেশন চেম্বার অথবা ফাইনাল রয়েল রাম্বল। বিদায়লগ্নেও আত্মবিশ্বাসী জন সিনা। ঘোষণা করেছেন, 'আমি শুধু রয়্যাল রাম্বলে যাচ্ছিই না, জিতবও'। অনেকেই বলছেন, শুধুমাত্র নস্টালজিয়ার কারণেই সিন্দুক ভরে ফেলবে ডব্লুডব্লুই।
সালটা ২০০৮। টিভির সামনে ঠায় বসে থাকতেন জন সিনা ভক্তরা। সেই সময় নেট মাধ্যমের রমরমা নেই। রিংয়ের সেই লড়াই শিরায় শিরায় বইয়ে দিত অ্যাড্রেনালিন। জন সিনার আসার ঠিক আগেই বেজে উঠত সেই গান। তাঁর হাঁটাও যেন মহাকাব্যিক। ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে জিতে রেসল ম্যানিয়ার টিকিট পেয়েছিলেন। শিরোপা জেতেন ২০১৩ সালে। ডব্লুডব্লুই-র ইতিহাসে ঐতিহাসিক জয়। সেই মুহূর্তই ফিরে আসতে পারে নায়কের বিদায়বেলায়।
কয়েকবছর ধরেই কিংবদন্তির বিদায় দেওয়ার ক্ষেত্রে কাঠগড়ায় উঠেছে ডব্লুডব্লুই। কার্ট অ্যাঙ্গেলের শেষটা ভালো হয়নি। সিনার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা চাইবে না সংস্থা। কয়েক বছর ধরেই ডব্লুডব্লুই ও জন সিনা হয়ে উঠেছেন সমার্থক। ভক্তরা চাইছেন, রয়্যাল রাম্বল জেতার সুযোগ করে দিক ডব্লুডব্লুই, যাতে রেসলম্যানিয়ার ফাইনাল মাতাতে পারেন জন সিনা।