
বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানিয়েছেন, টি-২০ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) এবং BCCI-এর মধ্যে যে টানাপোড়েন চলছে তা খেলোয়াড়দের মানসিক ভাবে প্রভাবিত করছে।
ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলা টি-২০ বিশ্বকাপ নিয়ে নিরাপত্তার আশঙ্কার কথা জানিয়ে BCB ICC-র কাছে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্যত্র সরানোর অনুরোধ করেছে। শ্রীলঙ্কাতে ম্যাচ সরানোরও আবেদন জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতির সূত্রপাত ঘটে IPL ২০২৬-এর আগে কলকাতা নাইট রাইডার্স স্কোয়াড থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে সরিয়ে দেওয়ার BCCI নির্দেশের পর।
পুরো বিতর্কটি নিয়ে নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, 'বিশ্বকাপের আগে এমন অনিশ্চয়তা খেলোয়াড়দের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। যদিও বাইকে থেকে তারা সবকিছু ঠিক আছে বলে দেখানোর চেষ্টা করেন।' পিটিআই-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'প্রতিটি বিশ্বকাপের আগে কিছু না কিছু ঘটে। ৩টি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এগুলো প্রভাব ফেলে। আমরা পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে দেখাতে চাই যে কিছুই আমাদের প্রভাবিত করে না কিন্তু বাস্তবে এটা সহজ নয়।'
নাজমুল হোসেন শান্ত আরও বলেন, 'খেলোয়াড়রা এসব বিভ্রান্তি উপেক্ষা করে দলের জন্য সেরা পারফর্ম্যান্স দেওয়ার চেষ্টা করেন। কীভাবে বিষয়টি ঘটল বা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যেত, সে বিষয়ে আমি জানি না। তবে এমন পরিস্থিতিতে মানসিক ভাবে শক্ত থাকা কঠিন। তবুও যদি আমরা বিশ্বকাপে যেখানেই খেলি, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত দলের জন্য সেরাটা দেওয়া।'
এদিকে, দেশের ক্রিকেট পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের একটি মন্তব্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শান্ত। প্রাক্তন অধিনায়ক তামিম ইকবাল BCB-কে সতর্ক করে বলেছিলেন, 'BCCI-এর সঙ্গে দ্বন্দ্বে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি তে পারে।' কিন্তু তাঁর এই বক্তব্য ভাল ভাবে নেননি এম নাজমুল ইসলাম। তিনি তামিমকে 'ভারতের এজেন্ট' বলে মন্তব্য করেন।
এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে শান্ত বলেন, 'খুবই দুঃখজনক। একজন প্রাক্তন অধিনায়ক এবং বাংলাদেশের অন্যতম সফল ক্রিকেটার যাকে দেখে আমরা বড় হয়েছি, তাঁর সম্পর্কে এমন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। একজন ক্রিকেটার হিসেবে আমরা সম্মান আশা করি। যাঁর আমাদের অভিভাবক হওয়ার কথা, তাঁর থেকে এমন কথা মেনে নেওয়া কঠিন। আমি একজন খেলোয়াড় হয়ে এই মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করছি।'
টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখনও অনিশ্চিত। BCB দ্বিতীয়বারের মতো ICC-কে চিঠি দিয়ে ভারতে সফরের নিরাপত্তার আশঙ্কার কথা বিস্তারিত তুলে ধরেছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার কথা। যেখানে বাংলাদেশের ৪টি ম্যাচ ভারতে পড়েছে।
এই নিয়ে BCB ও ICC-র মধ্যে চিঠি চালাচালি চলছে। ICC প্রকাশ্যে কিছু না বললেও নিরাপত্তার আশঙ্কা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে। BCB-র ভিতরেও মতভেদ রয়েছে। এক পক্ষ কঠোর অবস্থানে অনড়। অন্য পক্ষ ICC ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পক্ষে। যদিও এখনও ভেন্যু পরিবর্তনের কোনও ইঙ্গিত ICC দেয়নি।