
সফল খেলয়াড়দের জীবনে এমন একটা সময় আসে, যখন তিনি যা করেন তাই একটা নজির হয়ে থাকে। ভারতীয় ফুটবল দলের ক্যাপ্টেন সুনীল ছেত্রী যেমন। ফুটবলার জীবনের এমন এক সন্ধিক্ষনে রয়েছেন সুনীল যেখানে দেশের হয়ে তাঁর প্রতিটি গোল বিশ্বমঞ্চের এক একটি মাইলস্টোন পার করে দিচ্ছে। মঙ্গলবার বিরতির এক মিনিট আগে জিকসনের ফ্রিকিক থেকে গোল করলেন সুনীল ছেত্রী। এই গোলটি তাঁকে হাঙ্গেরির কিংবদন্তী ফেরেঙ্ক পুসকাসের সঙ্গে একাসনে বসিয়ে দিল। দুজনেরই দেশের জার্সিতে গোল সংখ্যা ৮৪।
মঙ্গলবার রাতেই হাঙ্গেরির কিংবদন্তীকে টপকে যেতে পারতেন যদি না হংকং গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ না হতেন। পচাত্তর মিনিট অবধি মাঠে ছিলেন। দলের আক্রমণ ভাগকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে গেলেন। তিন ম্যাচে চার গোল করে এবার মেসির ছিয়াশি গোল টপকানোর লক্ষ্যে ভারত অধিনায়ক।
২০২৩ সালের এশিয়ান কাপের ছাড়পত্র নিশ্চিত হয়ে যেতেই প্রথম একাদশে দুটো বদল নিয়ে নিয়ে আসেন ইগর স্টিম্যাচ। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম এগারোতে থাকা লিস্টন কোলাসো এবং মনবীর সিংয়কে তুলে নিয়ে তাঁদের বদলে উদান্তা সিং এবং সাহাল আব্দুল সামাকে নামিয়েছিলেন। চলতি টুর্নামেন্টে ভারতীয় দলের প্রতিটি ফুটবলার যেন একে অপরের পরিপূরক। ম্যাচের আগে ঠিক একথাই বলেছিলেন স্টিম্যাচ। আসলে বাস্তবেও দেখা গেল একই চিত্র। ফুটবলার বদল হলেও তাই পারফরম্যান্সে ঘাটতি পড়ল না।
বরং তাগিদ আরও বেশি করে চোখে পড়ল। হংকংয়ের বিরুদ্ধে ভারতের ৪-০ গোলে জয় সেই ক্ষুরধার পারফরম্যান্সের উদাহরণ। এশিয়ান কাপে পরপর দুবার কোয়ালিফাই করে ইতিহাস গড়ল ভারত। হংকংয়ের বিরুদ্ধে প্রথম গোল এল আনোয়ার আলির পা থেকে। আকাশ শর্মার কর্ণার থেকে জিকসনের বাড়ান বলে পা ছুঁইয়ে জাতীয় দলের সিনিয়র পর্যায়ে প্রথম গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন তিনি। শেষবেলায় দলের তৃতীয় চতুর্থ গোল এল পরিবর্ত মনবীর সিং এবং ঈশান পণ্ডিতিয়ার পা থেকে। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করেও খেলা দেখতে আসা দর্শকদের কষ্ট লাঘব করল ভারতের এই পারফরম্যান্স।