
দেখতে দেখতে কেটে গেল ১১ বছর। সেই ২০১১ সালে ২ এপ্রিল বিশ্বকাপ জিতেছিল টিম ইন্ডিয়া। ১৯৮৩ সালের পর দ্বিতীয়বার। ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারায় ভারত। তখন ২২ বছরের তরুণ বিরাট কোহলি। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর (আরসিবি) একটি ভিডিও বার্তায় বিশ্বকাপ জয়ের বর্ষপূর্তিতে কোহলি বলেন,'ওই ম্যাচে আমি ৩৫ রান করেছিলাম। ওটা আমার ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস বলে মনে করি।'
কোহলি জানান,'এখনও মনে আছে যখন আমি ব্যাট করতে নামছিলাম, ৩১ রানে দুই উইকেট চলে গিয়েছিল। সচিন তেন্ডুলকর ও বীরেন্দ্র সহবাগ দু'জনেই আউট। নামতেই সচিনপাজি আমায় পরামর্শ দিলেন, একটা বড় পার্টনারশিপ করতে হবে। করেওছিলাম। গৌতম গম্ভীর আর আমি প্রায় ৯০ রানের পার্টনারশিপ গড়েছিলাম (৮৩ রান)। আমি ৩৫ রান করেছি।' যোগ করেছেন,'৩৫ রানের ইনিংসটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ৩৫ রানের এই ইনিংসটি আমার কেরিয়ারের সেরা। দল খেলায় ফিরে এসেছিল। তাতে অবদান রাখতে পেরে খুশি।'
ধোনির ছক্কার পর বিশ্বকাপ জেতার ওই মুহূর্ত এখনও স্পষ্ট মনে রয়েছে কোহলির। সেই রাতে গোটা স্টেডিয়ামে শব্দব্রহ্ম তৈরি হয়েছিল। কোহলি বলেন,'বন্দে মাতরম, জো জিতা ওহি সিকন্দর গান করছিলেন সমর্থকরা। অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। এখনও মনে আছে।'
২০১১ সালেই ছিল সচিনের শেষ বিশ্বকাপ। এই ট্রফির জন্য প্রায় ২০ বছর অপেক্ষা করেছিলেন মাস্টার ব্লাস্টার। ভারত জেতার পর সচিনকে কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন কোহলি। বলেছিলেন,'২১ বছর ধরে দেশকে নিজের কাঁধে নিয়েছেন সচিন। আজ আমরা ওঁকে কাঁধে নিলাম।'
ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং ওপেনার গৌতম গম্ভীর। ফাইনালে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ২৭৪ রান করে শ্রীলঙ্কা। ১০৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন মাহেলা জয়াবর্ধনে। জবাবে, টিম ইন্ডিয়া ৪ উইকেটে হারিয়ে প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয়। গৌতম গম্ভীর ফাইনালে টিম ইন্ডিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৯৭ রান করেছিলেন। অধিনায়ক ধোনি অপরাজিত ৯১ রান করেন। শেষ বলে ছক্কা মেরে জিতে নেন। যে মুহূর্ত ঢুকে পড়েছে ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে।