
India Today Conclave 2026: দ্রুত বদলে যাচ্ছে বিশ্ব। প্রযুক্তির ঝড়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা। আগামী দশ বছরে চাকরি-ব্যবসার বাজার কোনদিকে যাবে? সেই বিষয়েই আলোচনা করলেন হার্ভার্ডের অধ্যাপক ক্রিস্টিনা ওয়ালেস(Christina M. Wallace)। তাঁর বক্তব্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে মানুষের হাতে একটিই ক্ষমতা থাকবে; গল্প বলার ক্ষমতা। তাঁর কথায়, 'এই AI যুগে শেষ পর্যন্ত মানুষের একটিই বড় কাজ থাকবে। গল্প বলা।'
সম্প্রতি দিল্লিতে আয়োজিত India Today Conclave-এ ‘Build or Break: Global Turbulence and the Tech Tsunami’ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মত প্রকাশ করেন। উদ্যোক্তা হওয়ার মানে কী এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির যুগে ব্যবসায়িক চিন্তাভাবনা কীভাবে বদলাচ্ছে, সেই বিষয়েই নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।
ক্রিস্টিনা ওয়ালেস বলেন, আজকের পৃথিবী এত দ্রুত বদলাচ্ছে যে আগামী এক সপ্তাহে কী ঘটবে, সেটিও নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তাঁর মতে, একসময় পৃথিবীতে বড় পরিবর্তন ঘটতে সময় লাগত দশ বছর। পরে সেই পরিবর্তন প্রতি বছর হতে শুরু করে। আর এখন প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।
এই অনিশ্চিত পরিস্থিতিতেই উদ্যোক্তার প্রকৃত ভূমিকা সামনে আসে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, 'উদ্যোক্তা সেই ব্যক্তি, যিনি অন্যরা যেখানে ঝুঁকি দেখেন, সেখানে সুযোগ খুঁজে পান।' অর্থাৎ অনিশ্চয়তার মধ্যেও সম্ভাবনা খুঁজে বের করার ক্ষমতাই উদ্যোক্তার মূল শক্তি।
তিনি আরও বলেন, নতুন তথ্য ও ডেটা সামনে এলেই নিজের ধারণা বা তত্ত্বকে পরীক্ষা করতে হবে। উদ্যোক্তাদের সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য।
আলোচনার সময় তিনি মার্কিন সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, আমেরিকায় অনেক সময় মানুষ নিজেদের পরিচয়কে পেশার সঙ্গে জুড়ে দেখেন। ফলে হঠাৎ করে কাজ বা পরিচয় হারালে মানসিকভাবে বড় ধাক্কা লাগে। প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের যুগে এই চ্যালেঞ্জ আরও বড় হয়ে উঠতে পারে।
এআই-এর প্রসঙ্গে ক্রিস্টিনা বলেন, অনেক কাজই এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা করতে পারে; লেখা তৈরি করা, তথ্য বিশ্লেষণ করা বা বিভিন্ন সমস্যার সমাধান বের করা। কিন্তু মানুষের আবেগ, অভিজ্ঞতা এবং সম্পর্ক বোঝার ক্ষমতা এখনও এআই-এর নেই। তাই গল্প বলার ক্ষমতা বা ‘স্টোরিটেলিং’ ভবিষ্যতে মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা হয়ে উঠতে পারে।
তাঁর মতে, উদ্যোক্তাদের একটি বড় কাজ হল নিজের স্বপ্ন ও ধারণাকে মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরা। গ্রাহকদের কাছে কোনও পণ্য বা পরিষেবা পৌঁছে দিতে হলে তার সঙ্গে একটি গল্পও তৈরি করতে হয়। এই গল্পের মধ্যে থাকে অভিজ্ঞতা, অনুভূতি এবং যোগাযোগের শক্তি।
কর্পোরেট জগতে এআই-এর ভূমিকা নিয়েও সতর্কবার্তা দেন তিনি। ক্রিস্টিনার মতে, নতুন প্রযুক্তি সব সময়ই কিছু অজানা ঝুঁকি নিয়ে আসে। আর এআই যেহেতু অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বিকশিত হচ্ছে, তাই অনেকের কাছে এটি ভয়ের কারণও হতে পারে। তবে তিনি মনে করেন, প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে বরং সেটিকে বোঝা ও শেখার চেষ্টা করা উচিত।
সংস্থাগুলির জন্য বড় ঝুঁকি কী; ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া, নাকি কোনও পরিবর্তনই না করা; এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হল কোনও পদক্ষেপই না নেওয়া। তাঁর মতে, যদি কোনও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে অন্তত নতুন তথ্য পাওয়া যায়। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।