
ঘড়ি শুধু সময় জানানোর যন্ত্র নয়, অনেক সময় তা হয়ে ওঠে ব্যক্তিত্ব, রুচি ও গল্প বলার এক অনন্য মাধ্যম। এমনই এক গল্প বলছে বিলাসবহুল ঘড়ির ব্র্যান্ড জ্যাকব অ্যান্ড কোং–এর তৈরি নতুন বিশেষ ঘড়ি, যা অনুপ্রাণিত অনন্ত আম্বানি ও তাঁর স্বপ্নের প্রকল্প বনতারা থেকে।
মুকেশ আম্বানি ও নীতা আম্বানির কনিষ্ঠ পুত্র অনন্ত আম্বানি নিজেই বিলাসবহুল ঘড়ির এক বড় সংগ্রাহক। ঘড়িকে তিনি কেবল সাজসজ্জার অংশ হিসেবে দেখেন না, বরং তা তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন। এমনকি নিজের বিয়েতেও বরযাত্রীদের জন্য তিনি উপহার দিয়েছিলেন একাধিক দুর্লভ ও দামী ঘড়ি। এবার সেই বিশ্বস্ত গ্রাহক ও তাঁর ভাবনাকে সম্মান জানিয়ে আমেরিকান লাক্সারি ব্র্যান্ড জ্যাকব অ্যান্ড কোং তৈরি করল এক অভিনব মাস্টারপিস, ‘অপেরা বনতারা গ্রিন ক্যামো’।
এই ঘড়িটি গুজরাটের বনতারা গ্লোবাল ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ অ্যান্ড কনজারভেশন সেন্টার–এর প্রতি এক শিল্পসম্মত শ্রদ্ধার্ঘ্য। এটি শুধুই একটি ঘড়ি নয়, বরং হাই-এন্ড হরোলজি, উদ্দেশ্য ও গল্প বলার এক নিখুঁত সংমিশ্রণ।
সবুজ ক্যামোফ্লাজ থিমে তৈরি এই ঘড়ির ডায়াল যেন এক জীবন্ত দৃশ্যপট। সেখানে দেখা যায় প্রাণীজগৎ, মূল্যবান রত্নপাথর এবং অনন্ত আম্বানির হাতে আঁকা একটি ক্ষুদ্র মূর্তি। ডায়ালের কেন্দ্রে থাকা এই মূর্তিটি বনতারা প্রকল্পে তাঁর নেতৃত্ব ও দায়িত্ববোধের প্রতীক।
মূর্তির দু’পাশে রয়েছে ভারতের বন্যপ্রাণী ঐতিহ্যের দুই শক্তিশালী প্রতীক, একটি সিংহ ও একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। এই দুই প্রাণী মিলিয়ে গড়ে উঠেছে সংরক্ষণ, সুরক্ষা ও তত্ত্বাবধানের এক দৃশ্যমান বার্তা। ঘড়ির কাঁটাগুলি বসানো হয়েছে একটি হাতির শুঁড়ের ওপর, যা আরও এক ধাপ গভীর অর্থ বহন করে।
এই বিশেষ ঘড়িতে ব্যবহার করা হয়েছে ৩৯০টিরও বেশি মূল্যবান রত্নপাথর, প্রতিটি পাথর যেন ভান্তারার গল্পের এক একটি অধ্যায় তুলে ধরে। নিখুঁত কারিগরি ও শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গিতে তৈরি এই ঘড়ি প্রমাণ করে, বিলাসিতা ও দায়িত্ববোধ পাশাপাশি চলতে পারে।
জ্যাকব অ্যান্ড কোং আবারও দেখিয়ে দিল, একটি ঘড়ি কেবল সময় দেখায় না, তা বিশ্বাস, স্বপ্ন ও উত্তরাধিকারের কথাও বলে। আর এই বনতারা-অনুপ্রাণিত মিলিয়ন ডলারের ঘড়ি অনন্ত আম্বানির ভাবনারই এক উজ্জ্বল প্রতিফলন।