
বর্তমানে একটা খবরে মাথা ব্যথা বেড়েছে প্রযুক্তি দুনিয়ার। জানা যাচ্ছে, ১৪৯ মিলিয়ন মানুষের ইমেল এবং পাসওয়ার্ড অনলাইনে সামনে চলে এসেছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বড় কোনও হ্যাকিং হয়েছে। তবে সত্যিটা একবারেই তেমন নয়। বরং বাস্তব একটু আলাদা।
রিপোর্ট অনুযায়ী, কোনও একটা সংস্থার সার্ভার হ্যাক করে এত তথ্য পাওয়া সম্ভব নয়। বরং বছরের পর বছর ধরে একাধিক ওয়েবসাইট এবং অ্যাপ যেই সব তথ্য লিক করেছে, সেগুলিকে একত্রিত করেই এত সংখ্যক ডেটা প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ পুরনো চুরির সব মালকে একত্রিত করে সামনে আনা হয়েছে।
আর তাতেই ভয় পেয়েছে বিশ্বের তাবড় সব সংস্থারা। জিমেল, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, নেটফ্লিক্স এবং পেপাল খুবই আশঙ্কায় রয়েছে। তাদের ডেটাও ফাঁস করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আসল ভয়টা কোথায়?
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আপনার পাসওয়ার্ড যদি এতদিনে লিক হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে হ্যাকাররা ইতিমধ্যেই সেটা সংরক্ষিত করে রেখে দিয়েছেন। আর সেই পাসওয়ার্ড তারা আপনার অন্যান্য অ্যাকাউন্টে করতে পারেন ব্যবহার। যার অর্থ হল, এটা শুধু একটা সাইটের ওয়েবসাইট হ্যাক হয়ে যাওয়া নয়, বরং এটা আপনার পাসওয়ার্ড হ্যাবিট সম্পর্কেও হ্যাকারকে দিশা দেয়।
কীভাবে বুঝবেন আপনার তথ্য লিক হয়েছে কি না?
একটি বিশ্বস্ত ওয়েবসাইটে গিয়েই আপনি এই তথ্য পেতে পারেন। এক্ষেত্রে Have I Been Pwned ব্যবহার করতে পারেন। এই সাইটটি চালান সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ ট্রয় হান্ট। সারা বিশ্বের বড় বড় কোম্পানি এই সাইটকে বিশ্বাস করেন। তাই বর্তমানে এই ওয়েবসাইট খুব জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছে।
কী করতে হবে?
এই সাইটে গিয়ে আপনি নিজের মেল অ্যাড্রেস দিন। আপনার জিমেল যদি লিক হয়ে থাকে, তাহলে ওয়েবসাইট প্রথমেই জানিয়ে দেবে। পাশাপাশি কোন ওয়েবসাইট থেকে তথ্য লিক হয়েছে, কোন বছর পাসওয়ার্ড লিক হয়েছে, তখন কী পার্সওয়ার্ড ছিল- সব জানা যাবে।
কী করবেন?
মাথা ঠান্ডা রাখুন। তারপর এই এই কাজগুলি করতে পারেন-
১. সঙ্গে সঙ্গে নিজের পাসওয়ার্ড বদলে নিন
২. সব সাইটের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে ফেলুন
৩. এখন থেকে সব জায়গার জন্য আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন
৪. টু স্টেপ ভ্যারিফিকেশন ব্যবহার করা মাস্ট
এছাড়া আপনি পেইড পাসওয়ার্ড ম্যানেজমেন্ট টুলও ব্যবহার করতে পারেন। তাতে সুরক্ষিত থাকতে পারবেন।