
AI কি ভবিষ্যতে চাকরি কেড়ে নেবে? এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। বুধবার ইন্ডিয়া টুডে এআই সামিটে এ ব্যাপারে মুখ খুললেন ওপেনএআই-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যারন চ্যাটার্জি। রাজদীপ সরদেশাইয়ের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, 'এআই কোনও বুদবুদ নয়। এটা প্রযুক্তিগত পরিবর্তন। ওপেনএআই-এর প্ল্যাটফর্মগুলিতে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯০ কোটি ব্যবহারকারী রয়েছে। ভারতও দ্রুত বড় বাজারে পরিণত হচ্ছে'।
শুরুতে এআই-কে নেতৃত্ব দিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চিন। কিন্তু খেলা ঘুরছে বলে মত অ্যারনের। তাঁর কথায়, 'এআই এখনও প্রাথমিক ধাপে রয়েছে। বিভিন্ন ধাপে বিভক্ত এআই। এর সুবিধা পেতে পারে ভারত। কারণ এখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ অ্যাপ তৈরি করতে পারেন। দৈনন্দিন কাজ সহজ করতে এআই ব্যবহার করছেন তাঁরা। বিনিয়োগের সম্ভাবনাও উল্লেখযোগ্য।
ভারতে বড় বাজার
স্যাম অল্টম্যান সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি বলেন, 'ভারত এখন ওপেনএআই-এর দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজারে পরিণত হয়েছে। প্রতিভা আছে। দ্রুত বাড়ছে ব্যবহারও। এবং পরিকাঠামোও ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে'। তাঁর ব্যাখ্যা, 'ভারতে বিশেষ করে নিম্ন-আয়ের গোষ্ঠীর মধ্যে ChatGPT-এর ব্যবহার দনিয়ার বাকি দেশগুলির তুলনায় চারগুণ বেড়েছে। এ কারণেই ভারত কেবল আয়ের বাজার নয়, বরং উদ্ভাবনের মূল কেন্দ্রও হয়ে উঠছে'।
নিম্ন আয়েও জনপ্রিয় AI
OpenAI-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ বলেন,'ভারত এবং অন্যান্য নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলি AI-এর ব্যবহার ক্রমবর্ধমান। ভারতে ChatGPT-এর একটি বিনামূল্যের সংস্করণ আনা এই চিন্তাভাবনারই অংশ। এখানকার লোকেরা অ্যাপ তৈরি করছে'।
ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা কতটা সত্যি?
বিভিন্ন শিল্পে ছাঁটাইয়ের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা অমূলক নয় বলে মনে করেন অ্যারন। তাঁর কথায়,'এআই নিয়ে আশঙ্কার বাস্তবতা রয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ব্যাপক ছাঁটাই হয়নি। বরং এআই মানুষকে আরও উৎপাদনশীল করে তুলেছে। AI মানুষকে আরও উৎপাদনশীল করে তুলছে। এমনকি কম দক্ষতার ব্যক্তিরাও AI-এর সাহায্যে আরও ভালো পারফর্ম করতে সক্ষম হচ্ছেন। তাঁর মতে,'AI কারও চাকরি কেড়ে নিচ্ছে না। বরং যাঁরা AI ব্যবহারে পারদর্শী, তাঁরাই অন্যদের চাকরি ছিনিয়ে নিচ্ছেন। তাই ভারতকে AI শিক্ষার উপর জোর দিতে হবে। এটা পরিবর্তনের ধাপ'।