
জুকারবার্গের মেটাভার্স স্বপ্নে বড় ধাক্কা। সাদামাটা ফেসবুককে ‘মেটা’ বানানোর যে উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, তারই খেসারত দিতে হল হাজারের বেশি কর্মীকে। আমেরিকান প্রযুক্তি সংস্থা মেটা ২০২৬ সালের শুরুর দিকেই তাদের রিয়েলিটি ল্যাবস বিভাগে ১,০০০ জনেরও বেশি কর্মী ছাঁটাই করেছে। এই সিদ্ধান্ত শুধু কর্মীসংকোচন নয়, বরং মেটার ভবিষ্যৎ দিশা বদলের স্পষ্ট ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রিয়েলিটি ল্যাবস বিভাগই ছিল মেটার সেই শাখা, যেখানে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর), মেটাভার্স ও এক্সআর (এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি)-র মতো ভবিষ্যত প্রযুক্তি নিয়ে কাজ চলছিল। একসময় মার্ক জুকারবার্গ ফেসবুকের নাম বদলে ‘মেটা’ রাখেন এবং মেটাভার্স গড়তে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই স্বপ্ন যে বাস্তবের মাটিতে দাঁড়াতে পারছে না, তা এবার কার্যত স্বীকার করে নিল সংস্থা।
মেটা জানিয়েছে, রিয়েলিটি ল্যাবসের মোট কর্মীর ১০ শতাংশেরও বেশি ছাঁটাই করা হয়েছে। এর ফলে ভিআর হেডসেট, হরাইজন ওয়ার্ল্ডসের মতো মেটাভার্স প্ল্যাটফর্ম এবং একাধিক ইমারসিভ গেমিং স্টুডিওর কাজ সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। বুধবার সকাল থেকেই ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু হয়। সংস্থার প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু বসওয়ার্থ অভ্যন্তরীণ বার্তায় কর্মীদের জানান, বার্ষিক কৌশল নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ঠিক আগেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
মেটার এক মুখপাত্রের কথায়, বিপুল খরচের তুলনায় মেটাভার্স পণ্যের ব্যবহার আশানুরূপ না হওয়ায় এই পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়ে। তাই সংস্থা এখন ভিন্ন পথে হাঁটছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর পণ্য এবং পরিধেয় প্রযুক্তির উপর বাড়তি জোর দিচ্ছে মেটা।
এই ছাঁটাইয়ের পর লিঙ্কডইনের মতো পেশাদারি প্ল্যাটফর্মে ‘ওপেন টু ওয়ার্ক’ পোস্টে ভরে গিয়েছে। অসংখ্য প্রাক্তন মেটা কর্মী নতুন কাজের সন্ধানে নেমেছেন। ফলে এটি শুধু একটি সংস্থার সমস্যা নয়, বরং গোটা প্রযুক্তি শিল্পের উপর চাপের প্রতিফলন বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
গত কয়েক বছরে রিয়েলিটি ল্যাবস মেটাভার্স ও এক্সআর প্রযুক্তিতে বিপুল অর্থ ঢেলেছে মেটা। কিন্তু সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে সেই প্রযুক্তির গ্রহণযোগ্যতা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এই বিভাগ থেকে সংস্থার আর্থিক ক্ষতিও কম নয়। তাই শেষ পর্যন্ত কৌশল বদলাতে বাধ্য হয়েছে মেটা।
এখন মেটার নজর AI-চালিত স্মার্ট ডিভাইসের দিকে। বিশেষ করে রে-ব্যান স্মার্ট চশমার মতো পণ্যে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে, যেগুলির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। কমপ্যাক্ট ও ব্যবহারিক হওয়ায় এই স্মার্ট চশমার বিক্রি ইতিমধ্যেই ভালো ফল দেখাচ্ছে। এমনকি ডিসপ্লে-সহ নতুন স্মার্ট চশমাও বাজারে এনেছে মেটা, যা আমেরিকায় ইতিমধ্যেই স্টকের বাইরে।
এছাড়াও ‘ওরিয়ন’ নামের এক নতুন স্মার্ট চশমার উপর কাজ চলছে, যা দেখতে সাধারণ চশমার মতো হলেও অ্যাপল ভিশন প্রো-এর মতো মিশ্র বাস্তবতার অভিজ্ঞতা দেবে।