
২০২৬ সালে হোলি উৎসবের দিনক্ষণ নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনার কারণে। পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২ মার্চ ২০২৬ রাতে হোলিকা দহন হবে। কিন্তু পরের দিন, অর্থাৎ ৩ মার্চ চন্দ্রগ্রহণ পড়ায় অনেক জ্যোতিষীর মতে সেদিন সূতককাল কার্যকর থাকবে। তাই ৩ মার্চ রঙ খেলা এড়িয়ে ৪ মার্চ রঙের হোলি উদযাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের সূর্যগ্রহণ
বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দুটি সূর্যগ্রহণ ঘটবে। প্রথমটি ইতিমধ্যেই ১৭ ফেব্রুয়ারি হয়েছে। বছরের দ্বিতীয় সূর্যগ্রহণ নির্ধারিত রয়েছে ১২ আগস্ট ২০২৬। এই গ্রহণটি ভারত থেকে দেখা যাবে না; ইউরোপ, কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডের কিছু অংশে এটি দৃশ্যমান হবে। ফলে ভারতে সূতককাল প্রযোজ্য হবে না এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে কোনও নিষেধাজ্ঞা থাকবে না।
শতাব্দীর দীর্ঘতম সূর্যগ্রহণ আসলে কবে?
সোশ্যাল মিডিয়ায় ২০২৬ সালের গ্রহণকে “শতাব্দীর দীর্ঘতম” বলে প্রচার করা হলেও জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই দাবি সঠিক নয়। ২১ শতকের দীর্ঘতম পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটবে ২ আগস্ট ২০২৭ সালে। ওই গ্রহণটির পূর্ণগ্রাস পর্যায় স্থায়ী হবে প্রায় ৬ মিনিট ২২ সেকেন্ড, যা এই শতাব্দীতে বিরল ঘটনা। এত দীর্ঘ আরেকটি গ্রহণ ২১১৪ সালের আগে আর দেখা যাবে না।
২০২৭ সালের এই গ্রহণ ভারতের বহু অংশ থেকে আংশিকভাবে দৃশ্যমান হবে। ফলে দেশে সূতককাল পালনের বিষয়টি প্রাসঙ্গিক হতে পারে। দিনের বেলায় কয়েক মিনিটের জন্য আলো উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে গাঢ় গোধূলির মতো পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
গ্রহণ কীভাবে ঘটে?
জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায়, যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যের আলো আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ঢেকে দেয়, তখন সূর্যগ্রহণ ঘটে। এটি সাধারণত অমাবস্যা তিথিতেই সম্ভব।
হিন্দু পুরাণে রাহু ও কেতুর সঙ্গে গ্রহণের যোগসূত্রের কথা বলা হয়। বিশ্বাস করা হয়, তারা সূর্য ও চাঁদকে গ্রাস করে বলেই গ্রহণের সৃষ্টি হয়। তবে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে এটি একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত মহাজাগতিক ঘটনা।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের গ্রহণ নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে তা দূর করে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেছেন, সবচেয়ে দীর্ঘ সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৭ সাল পর্যন্ত।