Advertisement

8th Pay Commission: অষ্টম পে কমিশনে কত টাকা মাইনে বাড়তে পারে? ইন-হ্যান্ড কত হবে?

অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন (৮ম সিপিসি) নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। এই মুহূর্তে কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সম্ভাব্য ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং মোট বেতন বৃদ্ধির হার। কিন্তু কাগজে-কলমে বেতন কত শতাংশ বাড়বে, তার চেয়েও কর্মচারীদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, বাস্তবে বা প্রকৃত অর্থে বেতন কতটা বাড়বে?

Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 29 Jan 2026,
  • अपडेटेड 12:35 PM IST
  • অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন (৮ম সিপিসি) নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
  • এই মুহূর্তে কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সম্ভাব্য ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং মোট বেতন বৃদ্ধির হার।

অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন (৮ম সিপিসি) নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। এই মুহূর্তে কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সম্ভাব্য ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং মোট বেতন বৃদ্ধির হার। কিন্তু কাগজে-কলমে বেতন কত শতাংশ বাড়বে, তার চেয়েও কর্মচারীদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, বাস্তবে বা প্রকৃত অর্থে বেতন কতটা বাড়বে?

কারণ প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি মানে শুধু অঙ্কের হিসাব নয়, বরং মুদ্রাস্ফীতি ধরা রেখে ক্রয়ক্ষমতা আসলে কতটা বেড়েছে, তারই পরিমাপ।

প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি কী?
সহজভাবে বললে, প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি হল, মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব বাদ দিয়ে বেতনের প্রকৃত উন্নতি। অর্থাৎ, আগের তুলনায় একজন কর্মচারী বাস্তবে কতটা বেশি জিনিস কিনতে পারছেন, সেটাই আসল হিসাব।

আরও পড়ুন

অ্যাম্বিট ইনস্টিটিউশনাল ইক্যুইটিজের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, সপ্তম বেতন কমিশনের মেয়াদে (জানুয়ারি ২০১৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫) কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি হয়েছে মাত্র প্রায় ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ, দীর্ঘমেয়াদে মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেতন খুব একটা বাড়েনি।

ডিএ-ডিআর থাকা সত্ত্বেও কেন প্রকৃত বেতন গুরুত্বপূর্ণ?
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামলাতে মহার্ঘ্য ভাতা (DA) এবং মহার্ঘ্য ত্রাণ (DR) পান। এগুলি নিয়মিত সংশোধিত হলেও, প্রতিটি বেতন কমিশন এককালীন যে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা দেয়, সেটাই প্রকৃত বেতন বৃদ্ধির আসল মাপকাঠি। এই প্রকৃত লাভ একেক কমিশনে একেক রকম হয়েছে।

আগের বেতন কমিশনগুলিতে প্রকৃত বেতন বৃদ্ধির ছবি
অতীতের পরিসংখ্যান বলছে, প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি কখনও সরলরেখায় বাড়েনি
২য় বেতন কমিশন: ১৪.২%
৩য় বেতন কমিশন: ২০.৬%
৪র্থ বেতন কমিশন: ২৭.৬%
৫ম বেতন কমিশন: প্রায় ৩১%
৬ষ্ঠ বেতন কমিশন: সর্বোচ্চ, প্রায় ৫৪%
কিন্তু এরপরই বড় ধাক্কা। ৭ম বেতন কমিশন: প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি নেমে আসে মাত্র ১৪%-এ।

এই পতনের কারণেই কর্মচারীদের মধ্যে এখন প্রশ্ন, অষ্টম বেতন কমিশন কি আদৌ বাস্তব আর্থিক স্বস্তি দেবে?

অষ্টম বেতন কমিশন থেকে কী আশা করা যায়?
প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, অষ্টম বেতন কমিশন আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিতে পারে। যদিও এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা সম্ভব নয়, তবুও বিশ্লেষকদের কিছু অনুমান সামনে এসেছে।

Advertisement

কোটাক ইনস্টিটিউশনাল ইক্যুইটিজের মতে, প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি হতে পারে প্রায় ১৩%, যা ৭ম সিপিসির কাছাকাছি। তবে নামমাত্র বেতন বৃদ্ধি (মুদ্রাস্ফীতিসহ) অনেক বেশি দেখাতে পারে, প্রায় ৮৩%। এছাড়া, সম্ভাব্য ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর হতে পারে ১.৮। এর ফলে বর্তমানে ১৮,০০০ টাকা ন্যূনতম মূল বেতন বেড়ে প্রায় ৩০,০০০ টাকা হতে পারে।

সরকারের আর্থিক বোঝা কতটা বাড়বে?
বেতন কমিশনের প্রভাব শুধু কর্মচারীদের উপর নয়, সরকারের কোষাগারেও পড়ে। অতীতে দেখা গেছে, প্রতিটি বেতন কমিশন কার্যকর হলে সরকারের খরচ বেড়েছে জিডিপির প্রায় ০.৬% থেকে ০.৮% পর্যন্ত।

অ্যাম্বিটের হিসাব অনুযায়ী, ৮ম সিপিসি কার্যকর হলে কেন্দ্রের অতিরিক্ত খরচ হতে পারে প্রায় ১.৮ ট্রিলিয়ন টাকা। রাজ্য সরকারগুলিও কিছুটা দেরিতে একই পথে হাঁটে, ফলে তাদের জিএসডিপির উপরও প্রায় ০.৫% অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।

বর্তমান অনুমান যদি সত্যি হয়, তাহলে ৮ম সিপিসি হয়তো বড় কোনও আর্থিক ‘লাফ’ নয়, বরং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দিকেই বেশি নজর দেবে।

কমিশনের আলোচনা শুরু হলে এবং চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়লে ছবিটা আরও স্পষ্ট হবে। তার আগে পর্যন্ত, অতীত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই কর্মচারীদের প্রত্যাশা থাকবে কিছুটা সংযত।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement