
বিতর্কের মুখে আধার কার্ড সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নিল কেন্দ্রীয় সরকার। ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আধার কার্ড (UIDAI) নিয়ে নির্দেশিকা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা থাকায় এই সিদ্ধান্ত। এটি সাধারণ নির্দেশিকাই ছিল।
ইউআইডিএআইয়ের (ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া) বেঙ্গালুরু আঞ্চলিক অফিসের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছিল, কোনও সংস্থায় আধারের ফটোকপি দেওয়া উচিত নয়। অপব্যবহারের চেষ্টা হতে পারে। সেজন্য অপব্যবহার রুখতে কোনও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের (লাইসেন্সহীন) কাছে আধার কার্ডের ফোটোকপি জমা না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল ওই নির্দেশিকায়। এর মধ্যে সিনেমাহল এবং হোটেলও রয়েছে। যে সংস্থাগুলি ইউআইডিএআইয়ের থেকে লাইসেন্স নিয়েছে, সেই সংস্থাগুলি কোনও ব্যক্তির পরিচয় প্রমাণের জন্য আধার কার্ড ব্যবহার করতে পারে। তার পরিবর্তে 'মাস্কড আধার' ব্যবহারের কথা বলা হয়েছিল। ১২ সংখ্যার আধারের শেষ চারটি সংখ্যাকেই মলা হয় 'মাস্কড আধার'। যদি কোনও বেসরকারি সংস্থা আধার কার্ডের ফোটোকপি চায়, তাদের কাছে ইউআইডিএআইয়ের লাইসেন্স আছে কিনা, তা-ও দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল আধার কর্তৃপক্ষ।
এই নির্দেশিকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। নেট মাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। প্রশ্ন ওঠে, ১০ বছর ধরে আধার কার্ড ব্যবহারের পর হঠাৎ তথ্যের রক্ষায় কেন সক্রিয় হল কেন্দ্র? এইআইএমআইএম প্রধান এবং হায়দরাবাদের সাংসদ আসাউদ্দিন ওয়েইসি বলেন,'গত কয়েক বছর ধরে আধার বাধ্যতামূলক করতে তৎপর হয়েছে সরকারি সংস্থাগুলি। এখন তারা আশা করছে, সরকারি নিয়ম দেখিয়ে সাধারণ মানুষ তর্ক করুক। সাধারণ মানুষের হয়রানির জন্য আধারকে ব্যবহার করা হয়েছে।
শেষপর্যন্ত বাধ্য হয়ে সরকার নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে জানিয়ে দিয়েছে, আধার একদম সুরক্ষিত। আধার থাকা ব্যক্তিদের সমস্ত তথ্য নিরাপদ রাখার জন্য যথাবিহিত ব্যবস্থা রয়েছে।