দেশে পণ্য ও পরিষেবা করের (জিএসটি) বড় সংস্কার আসতে চলেছে। স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘোষণার পর থেকে এই বিষয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী ৩ ও ৪ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে বসতে চলা জিএসটি কাউন্সিলের ৫৬তম বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
কী পরিবর্তন হতে চলেছে?
ফিটমেন্ট কমিটি সুপারিশ করেছে, বর্তমানে ১৮% জিএসটি স্ল্যাবে থাকা কোকোযুক্ত চকোলেট, সিরিয়াল ফ্লেক্স, পেস্ট্রি এবং আইসক্রিমকে কমিয়ে ৫% স্ল্যাবে আনা হোক। যদি এই প্রস্তাব অনুমোদন পায়, তবে এই জনপ্রিয় পণ্যগুলির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
গ্রাহক ও বাজারে প্রভাব
চকোলেট ও আইসক্রিম শিশু থেকে যুবকদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। দাম কমলে চাহিদা আরও বাড়বে। পেস্ট্রি, যা শহুরে ও আধা-শহুরে বাজারে দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে, তা আরও সস্তা হবে। সিরিয়াল ফ্লেক্স, যেটি দ্রুত প্রাতরাশের একটি বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেটিও গ্রাহকদের কাছে সহজলভ্য হবে।
সরকারের উদ্দেশ্য
বর্তমানে ১৮% জিএসটি স্ল্যাব রাজস্ব আয়ের বড় উৎস। তবে সরকারের লক্ষ্য হল জিএসটি কাঠামোকে সরলীকরণ করা এবং দৈনন্দিন ব্যবহৃত পণ্যের উপর গ্রাহকের বোঝা কমানো। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এই পরিবর্তন হলে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার মিলিয়ে প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে।
মুদ্রাস্ফীতিতে প্রভাব
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত খাদ্যদ্রব্যের উপর জিএসটি কমানো হলে মুদ্রাস্ফীতির চাপ হ্রাস পাবে এবং কর ব্যবস্থাও আরও স্বচ্ছ হবে।
বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী মোদীর
১৫ই আগস্ট লালকেল্লা থেকে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন। তিনি বলেন 'দীপাবলির আগেই নতুন জিএসটি সংস্কার আসছে। কর কাঠামো সহজ হবে, স্ল্যাবও যুক্তিসঙ্গত করা হবে।' যদি কাউন্সিলের বৈঠকে প্রস্তাব অনুমোদন হয়, তাহলে আসন্ন উৎসবের মরসুমেই গ্রাহকরা চকোলেট, পেস্ট্রি ও আইসক্রিম আরও কম দামে উপভোগ করতে পারবেন।