
দশম দিনে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। তবে পিছু হঠার কোনও লক্ষণ দেখাচ্ছে না ইরান। তেড়েফুড়ে আক্রমণ শানাচ্ছে ইজরায়েল ও আমেরিকাও। এরইমধ্যে নতুন সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণা করেছে ইরান। আয়াতোল্লাহ পুত্র মোজতবাকে এই পদে আসীন করানো হয়েছে। আর তারপরেই চড়চড় করে বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
অপরিশোধিত তেলের দামে রেকর্ড লাফ
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম পৌঁছে গিয়েছে ব্যারেল প্রতি ১১৬ ডলারে (সকাল ৯.৩৮, ভারতীয় সময়)। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় অর্থাৎ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি এই দাম ছিল ৬৭ ডলারের আশেপাশে। অর্থাৎ মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে প্রায় ৫০ ডলার বেড়েছে WTI ক্রুড অয়েলের দাম।
এমনকি শেষ এক সপ্তাহের বিচার করলেও গত সোমবার ২ মার্চ, WTI ক্রুড অয়েলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলারের আশেপাশে। মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে জ্বালানির রেট বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ।
শুধুমাত্র WTI ক্রুড অয়েল নয়। একইসঙ্গে দাম বেড়েছে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলেরও। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম। ২ মার্চ এই অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ৭৮ ডলার। তা আজ, ৯ মার্চে বেড়ে হয়েছে ১১৬ ডলার।
কেন অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে জ্বালানির দাম নিয়ে আশঙ্কা থাকে?
আসলে ভারত জ্বালানির বিষয়ে পুরোপুরি আমদানি নির্ভর। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের রেট বাড়লে, তার প্রভাব ভারতের জ্বালানির বাজারেও পড়ার আশঙ্কা থাকে। যদিও কেন্দ্র এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
কেন্দ্রের কী বক্তব্য?
একটি সরকারি সূত্রে খবর, বর্তমানে পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম বাড়ানো হবে না। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, তিনটি জ্বালানি বিক্রয়কারী সংস্থা, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (আইওসি), ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (বিপিসিএল) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (এইচপিসিএল) - এই বছরের শুরুতে প্রচুর মুনাফা করেছে। ফলে এই ধরনের আপৎকালীন পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা সংস্থাগুলির রয়েছে।
২০২২ সালের এপ্রিল থেকে ভারতে পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে ওঠানামা থাকলেও তেল সংস্থাগুলি দেশে তেলের দাম একই রেখে গিয়েছে। লাভ ও ক্ষতির ব্যালেন্স করে চলছে কোম্পানিগুলি। এরফলে আমজনতার উপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপেনি।