
ইরান যুদ্ধ চলছে। এমন পরিস্থিতিতে আবার ১০০ শতাংশ ট্যারিফ বসাবেন বলে ঠিক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পরিমাণ ট্যারিফ তিনি ফার্মা সংস্থার উপর লাগাতে পারেন। শুধু তাই নয়, কপার, অ্যালুমুনিয়ামের মতো ধাতুর উপরও তিনি ৫০ শতাংশ ট্যারিফ বসাতে পারেন বলে খবর।
যদিও এই শুল্ক মুক্তির পথও দেখিয়েছেন ট্রাম্প নিজেই। তিনি জানিয়েছেন, যেই সকল সংস্থা আমেরিকায় কিছুটা প্রোডাকশন করে, তাদের সমস্যা হবে না। এছাড়া যেই সব সংস্থা নিজেদের ওষুধের দাম কমিয়ে দেবে, তাদেরও কোনও বিপদ নেই। কিন্তু বাদবাকি সকলেই বিপদে পড়তে পারে।
আসলে ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, আমেরিকায় প্রোডাকশন বাড়লে সেই দেশে কমে যাবে ওষুধের দাম। সেখানে ওষুধের উপস্থিতিও বাড়বে। যার ফলে সেই দেশের মানুষ খুব কম টাকায় ওষুধ কিনে নিতে পারবেন।
আর ট্রাম্পের এই ঘোষণাতেই ভয়ে সারা বিশ্ব। বিশেষত, যেই সকল দেশের ফার্মা কোম্পানি আমেরিকায় ড্রাগ এক্সপোর্ট করে, তাদের সমস্যা হতে পারে। তাদের উপর চাপতে পারে বাড়তি শুল্ক। আর সেই কারণে ভয়ে রয়েছে ভারতের এই ফার্মা সংস্থাগুলিও।
কোন কোন স্টকে বিপদ?
আমেরিকা ১০০ শতাংশ ট্যারিফ চাপানোর প্ল্যান করছে। আর তাতেই বিপদে ভারতের কিছু সংস্থা। যদিও, রিপোর্ট জানাচ্ছে জেনেরিক ড্রাগের ক্ষেত্রে তেমন একটা সমস্যা হবে না। তাই ভারতীয় ওষুধ কোম্পানিগুলির খুব একটা সমস্যা হবে না। তবে ভয় তো একটা থেকেই যায়। একাধিক কোম্পানির উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপার ভয় রয়েছে। আর সেই সংস্থাগুলি হল- সান ফার্মা, ডক্টর রেড্ডিস ল্যাব, অরোবিন্দ ফার্মা, জাইডাস লাইফসায়েন্স, গ্লেনমার্ক ফার্মা, টরেন্ট ফার্মা, বায়োকন, ডিভিল্যাব এবং ম্যান কাইন্ড। আর তার প্রভাব ইতিমধ্যেই দেখতে শুরু করেছে স্টক মার্কেট। বৃহস্পতিবারই এই সব স্টকের দাম ৬ শতাংশ পর্যন্ত পড়েছে।
মেটাল স্টকও বিপদের মুখে
মাথায় রাখতে হবে, মেটাল স্টকের উপরও বিপদ নাচছে। তাই ন্যাশনাল অ্যালুমুনিয়াম, বেদান্তা লিমিটেড, হিন্দুস্তান কপার, টাটা স্টিল এবং হিন্দুস্তান জিঙ্কের দামও কমেছে। এই সব স্টকের দিকে সোমবারও নজর থাকবে।
ভারতে কি বড় প্রভাব পড়বে?
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতে এর বিরাট প্রভাব পড়বে না। কারণ, জেনেরিক ড্রাগের উপর আপাতত কোনও বড় পদক্ষেপ নিচ্ছেন না ট্রাম্প। বরং ব্র্যান্ডেড ড্রাগের উপর ট্র্যারিফ লাগান হতে পারে। আর ভারত আমেরিকায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ জেনেরিক ড্রাগই পাঠায়। তাই ভারতীয় সংস্থাগুলির উপর বিপদ কিছুটা কম।
বিদ্র: এই নিবন্ধটি পড়ে আবার স্টক কিনবেন না বা বিনিয়োগ করবেন না। এটি খবর দেওয়ার এবং শিক্ষার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। এছাড়া নিজেও করুন রিসার্চ। তারপরই স্টকে করুন ইনভেস্ট।