
চাকরিজীবীদের বড় খবর। EPFO বা Employees' Provident Fund Organisation (EPFO) এর ডিজিটাল পরিষেবায় বড়সড় পরিবর্তন। 'EPFO 3.0' আপডেটের মাধ্যমে পেনশন, ক্লেম ডিজপোজাল এবং EPF ট্রান্সফার; সব প্রক্রিয়াই আগের তুলনায় অনেক বেশি সহজ ও দ্রুত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগে কোটি কোটি কর্মচারী সরাসরি উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে সেন্ট্রালাইজড পেনশন পেমেন্ট সিস্টেম বা CPPS-এ। ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে দেশজুড়ে এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এর ফলে প্রতি মাসে ৭০ লক্ষেরও বেশি পেনশনভোগী নির্ভুল এবং সময়মতো পেনশন পাচ্ছেন। আগে পেনশন পেতে নানা জটিলতা দেখা যেত। এখন তা অনেকটাই কমেছে।
ক্লেম ডিসপোজালের ক্ষেত্রেও গতি এসেছে। EPFO সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্লেমের একটি বড় অংশ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে (অটো মোডে) মিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩.৫ কোটিরও বেশি ক্লেম অটো সিস্টেমে ডিসপোজ করা হয়েছে। মোট প্রায় ৫১,০০০ কোটি টাকার পেমেন্ট করা হয়েছে। বর্তমানে ৭০ শতাংশেরও বেশি ক্লেম কোনও ম্যানুয়াল প্রসেস ছাড়াই সরাসরি নিষ্পত্তি হচ্ছে। ফলে গ্রাহকদের অপেক্ষার সময় আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
চাকরি বদলের সময় EPF ট্রান্সফার নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার অভিযোগ ছিল। তবে EPFO 3.0 চালু হওয়ার পর সেই সমস্যাও অনেকটাই মিটেছে। এখনও পর্যন্ত ৭০ লক্ষেরও বেশি ট্রান্সফার সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়েছে। কর্মী বা নিয়োগকর্তার হস্তক্ষেপের প্রয়োজন পড়েনি। KYC সম্পূর্ণ থাকলে এখন আর পুরনো বা নতুন নিয়োগকর্তার অনুমোদনের দরকার হচ্ছে না। ফলে ট্রান্সফার প্রক্রিয়া দ্রুত ও ঝামেলাহীন হয়েছে।
আগে যেখানে একটি ক্লেম নিষ্পত্তি হতে প্রায় ২০ দিন সময় লাগত, এখন তা কমে ৩ দিনেরও নিচে নেমে এসেছে। এই পরিবর্তন কর্মীদের জন্য বড় স্বস্তির বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে জরুরি সময়ে দ্রুত টাকা পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
EPFO 3.0 মূলত একটি ডিজিটাল ট্রান্সফর্মেশন উদ্যোগ। এর লক্ষ্য হল সমস্ত পরিষেবা অনলাইনে নিয়ে আসা, কাগজপত্রের ঝামেলা কমানো এবং পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত করা। এক প্ল্যাটফর্মেই সব পরিষেবা পাওয়ার সুবিধা তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও উন্নত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।