
দেশে সাইবার জালিয়াতির পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নতুন একটি প্রতারণা সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্ক করেছে। এই প্রতারণাটি এলপিজি বুকিংয়ের নামে করা হচ্ছে। প্রতারকরা গ্যাস বুকিং, ছাড়ের অফার বা ভয় দেখানোর মতো মেসেজ পাঠিয়ে মানুষকে প্রলুব্ধ করছে।
পুরো ব্যাপারটা কী?
আজকাল অনেকেই এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপ বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এমন মেসেজ পাচ্ছেন, যেখানে দাবি করা হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডারের ঘাটতি রয়েছে অথবা সিলিন্ডার বুক করলে সমস্যা হতে পারে। এই মেসেজগুলোতে একটি লিঙ্ক বা কিউআর কোড থাকে, যেটিতে ক্লিক করলে ব্যবহারকারীকে ভুয়ো ওয়েবসাইট বা অ্যাপে নিয়ে যায়। এই লিঙ্কই হল প্রতারণার ফাঁদ।
এখানে তাদেরকে দ্রুত টাকা দিতে বলা হয় অথবা ব্যাঙ্কের স্টেটমেন্ট, ওটিপি, পিন ইত্যাদির মতো ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হয়। ব্যবহারকারী তথ্য শেয়ার করার সঙ্গে সঙ্গেই তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেওয়া হয়।
এই প্রতারণাটি কীভাবে কাজ করে?
সাইবার অপরাধীরা প্রথমে মানুষের মনে ভয় বা লোভ তৈরি করে। উদাহরণস্বরূপ,
তাড়াতাড়ি বুক করুন, নইলে গ্যাস মিলবে যাবে।
আজ বিশেষ ছাড়ের অফার আছে।
আপনার এলপিজি পরিষেবা শীঘ্রই বন্ধ হতে চলেছে।
ব্যবহারকারী অসতর্কভাবে লিঙ্কে ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁদে পড়ে যায়।
কী কী উপায়ে প্রতারণা করা হচ্ছে?
ভুয়ো বুকিং লিঙ্ক পাঠিয়ে
ভুয়ো ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে
কিউআর কোড স্ক্যান করিয়ে
সোশ্যাল মিডিয়া বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে
এই প্রতারণা থেকে কীভাবে বাঁচবেন?
সবসময় কোম্পানির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে এলপিজি বুক করুন।
যে ওয়েবসাইট থেকে বুক করছেন, তার ইউআরএল (URL) ভালোভাবে যাচাই করুন।
কোনো অজানা লিঙ্ক, এপিকে (APK) ফাইল বা কিউআর (QR) কোডে ক্লিক করবেন না।
কারও সঙ্গে ওটিপি (OTP), পিন (PIN) বা ব্যাঙ্কের বিবরণ শেয়ার করবেন না।
যদি কেউ দ্রুত কিছু করার জন্য চাপ দেয়, তবে সতর্ক হন।
প্রতারণার শিকার হলে কী করবেন?
যদি ভুলবশত এমন কোনও প্রতারণার শিকার হন।
অবিলম্বে ১৯৩০ হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করুন।
জাতীয় সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালে (cybercrime.gov.in) একটি অভিযোগ দায়ের করুন।
়যত তাড়াতাড়ি অভিযোগ জানাবেন, টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা তত বাড়বে।