
Gold-Silver Price Fall: সদ্য বাজেট ২০২৬ গিয়েছে। আর তারপরেই, নতুন সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনেই কমল সোনা ও রুপোর দর। মঙ্গলবার মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (MCX) খোলার সঙ্গেই রুপোর দামে বড় পতন দেখা যায়। একই সঙ্গে কমেছে সোনার দরও। অতি সম্প্রতিই রুপো রেকর্ড হাই-এ পৌঁছে গিয়েছিল। তার ক'দিন যেতে না যেতেই এই পতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রীতিমতো অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কমোডিটি মার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার এমসিএক্সে রুপোর দাম প্রতি কেজি ২,৬২,৬২০ টাকা দরে ক্লোজ হয়েছিল। মঙ্গলবার বাজার খুলতেই তা নেমে আসে প্রায় ২,৫৬,৮৬৪ টাকা-তে। অর্থাৎ এক ধাক্কায় প্রায় ৫,৭৫৬ টাকা কমেছে সিলভার ফিউচারের দাম। গত কয়েক সপ্তাহে রুপোর দামে বিপুল ওঠানামা হয়েছে। ২৯ জানুয়ারি রুপো ৪,২০,০৪৮ টাকা-র লাইফ-টাইম হাই টাচ করেছিল। সেই রেকর্ড স্তর থেকে এখনও পর্যন্ত রুপোর দাম প্রায় ১,৬৩,১৮৪ টাকা কমে গিয়েছে। রেকর্ড লেভেল ছোঁয়ার পর থেকেই বাজারে একটা কারেকশানের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যদিও মাঝের কয়েকটি সেশনে দাম আবারও কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছিল।
আজ কলকাতার বাজারে রুপো কত টাকা কিলো?
কলকাতায় আজ গ্রাম প্রতি রুপোর দাম ২৯০ টাকা। কেজি প্রতি ২,৯০,০০০ টাকা।
রুপোর পাশাপাশি সোনার বাজারেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সোমবার এমসিএক্সে ১০ গ্রাম সোনা বন্ধ হয়েছিল ১,৫৮,০৬৬ টাকা দরে। মঙ্গলবার খোলার সঙ্গেই তা নেমে দাঁড়ায় প্রায় ১,৫৬,০০১ টাকা-তে। অর্থাৎ ২,০৬৫ টাকা কমেছে ২ এপ্রিল এক্সপায়ারি-র ২৪ ক্যারেট সোনার ফিউচার দাম।
কলকাতায় সোনার দাম
মঙ্গলবার কলকাতায় ২৪ ক্যারেট সোনার দাম গ্রাম প্রতি ১৫,৭৯১ টাকা। ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি গ্রামের দাম ১৪,৪৭৫ টাকা। প্রতি গ্রাম ১৮ ক্যারেট সোনার (যাকে ৯৯৯ সোনাও বলা হয়) দাম ১১,৮৪৪ টাকা।
সোনাও গত মাসে রেকর্ড হাই ছুঁয়েছিল। ২৯ জানুয়ারি সোনার দাম পৌঁছয় ১,৯৩,০৯৬ টাকা প্রতি ১০ গ্রাম-এ। সেই সর্বোচ্চ স্তর থেকে এখন পর্যন্ত সোনা প্রায় ৩৭,০৯৫ টাকা সস্তা হয়েছে। যদিও গত সপ্তাহে কিছুটা পুনরুদ্ধার দেখা গিয়েছিল এবং সোমবার পর্যন্ত সেই ঊর্ধ্বগতি বজায় ছিল।
আন্তর্জাতিক বাজারেও সোনার দামে চাপ দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার স্পট গোল্ডের দাম প্রায় ০.৭ শতাংশ কমে ৫,০২৯.৪৯ ডলার প্রতি আউন্স হয়েছে। তবে এখনও তা ৫,০০০ ডলার প্রতি আউন্স-এর উপরে রয়েছে। এর আগে সোমবার ডলার দুর্বল হওয়ায় সোনার দামে প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছিল। অন্যদিকে, ২৯ জানুয়ারি কমেক্সে সোনা ৫,৫৯৪.৮২ ডলার প্রতি আউন্স-এর রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ওঠানামার পিছনে মূল কারণই হল আন্তর্জাতিক বাজারের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। বিশেষত চলতি সপ্তাহের শেষেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান ও মুদ্রাস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি প্রকাশিত হতে চলেছে। তাই সেদিকেই নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। সেই কারণেই বাজারে এখন বিনিয়োগকারীরা কিছুটা সতর্ক হয়েই এগোচ্ছেন।