
বাজারে যতই Investment Options আসুক, এখনও আম বাঙালির প্রথম পছন্দ ফিক্সড ডিপোজিট(Fixed Deposit)। শেয়ার বাজারের ওঠানামা বা মিউচুয়াল ফান্ডের ঝুঁকি অনেকেই নিতে চান না। তাই নিশ্চিত আয়ের জন্য আজও আমজনতার ভরসা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক(Public Banks)। তবে, ফিক্সড ডিপোজিটও যে একেবারে খারাপ, তেমনটাও বলা যায় না। কারণ, সামান্য একটু পরিকল্পনা করলেই FD-র টাকাতেও আরও বেশি সুদ মিলতে পারে। বিশেষত প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে আরও বাড়তি সুদ পাবেন। সাধারণ গ্রাহকদের তুলনায় প্রবীণরা প্রায় ০.৫০ শতাংশ বা ৫০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত অতিরিক্ত সুদ পান। ফলে সঞ্চয়ের টাকা সেভিংস অ্যাকাউন্টে ফেলে রাখার বদলে এটিই Better Investment Option হতে পারে।
বাড়ির বড়দের মাধ্যমেও করা যায়
সাধারণত সব ব্যাঙ্কই সাধারণ বয়সীদের তুলনায় প্রবীণ নাগরিকদের(Senior Citizen) (যাঁদের বয়স ৬০ বছরের বেশি) বাড়তি ইন্টারেস্ট দেয়। আপনি যদি নিজের নামে বিনিয়োগ না করে বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য বা বাবা-মায়ের নামে ফিক্সড ডিপোজিট (FD) করেন, সেক্ষেত্রে সুদের হার এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায়। অনেক স্মার্ট বিনিয়োগকারীই এখন এই পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। তবে বিনিয়োগ করার আগে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের সুদের হারের তুলনা(FD Rate Comparison) করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ নির্দিষ্ট মেয়াদের (Tenor) ওপর ভিত্তি করে সুদের হার পরিবর্তিত হয়।
কোন ব্যাঙ্কে কত সুদ? এক নজরে দেখে নিন (Senior Citizen FD Rates):
বর্তমানে দেশের প্রধান রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি প্রবীণদের জন্য যে সুদের হার অফার করছে:
| পঞ্জাব অ্যান্ড সিন্ধ ব্যাঙ্ক | ৬৬৬ দিন | ৭.২৫ |
| ব্যাঙ্ক অফ মহারাষ্ট্র | ৪০০ দিন | ৭.১৫ |
| ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া | ৪৫০ দিন | ৭.১০ |
| কানারা ব্যাঙ্ক | ৫৫৫ দিন | ৭.১০ |
| ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক | ৪৪৪ দিন | ৭.১০ |
| পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক | ৪৪৪ দিন | ৭.১০ |
| স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI) | ৫ থেকে ১০ বছর | ৭.০৫ |
উপরের চার্ট থেকে এটা স্পষ্ট যে, পঞ্জাব অ্যান্ড সিন্ধ ব্যাঙ্কেই বর্তমানে ৬৬৬ দিনের মেয়াদে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৭.২৫ শতাংশ সুদ দিচ্ছে। অন্যদিকে, যাঁরা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ করতে চাইছেন, তাঁদের জন্য স্টেট ব্যাঙ্কের ৫ থেকে ১০ বছরের স্কিমটি (৭.০৫% সুদ) বেশ ভালো।
তবে মনে রাখবেন, ফিক্সড ডিপোজিটে সুদের ওপর কর (TDS) কাটা হয়। তাই বিনিয়োগ করার আগে ফর্ম ১৫এইচ (Form 15H) জমা দেওয়ার বিষয়টি মাথায় রাখুন। পাশাপাশি FD করার আগে অবশ্যই আপনার ব্যাঙ্কের আধিকারিকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে নিন। তাঁরাই আপনাকে পুরো বিষয়টিতে সবচেয়ে ভাল গাইড করতে পারবেন।