
একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে নিজের বাড়ি মানে শুধু চার দেওয়াল নয়, এটা জীবনের বহু বছরের সঞ্চয়, স্বপ্ন আর নিরাপত্তার প্রতীক। সেই স্বপ্নপূরণের জন্যই বেশিরভাগ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ নেন, যার মাসিক EMI ধীরে ধীরে পারিবারিক বাজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। কিন্তু বর্তমান অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে হঠাৎ চাকরি হারানো অনেকের কাছেই বড় ধাক্কা। তখনই মাথায় ঘুরতে থাকে একটাই প্রশ্ন, 'EMI দিতে না পারলে কি ব্যাঙ্ক আমার বাড়ি কেড়ে নেবে?'
এই ভয় স্বাভাবিক হলেও আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। চাকরি হারানো একটি সাময়িক সংকট, আর এই পরিস্থিতিতে ঋণগ্রহীতাকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য ব্যাঙ্কিং ও আইনি ব্যবস্থায় একাধিক সুযোগ রয়েছে। সঠিক পদক্ষেপ নিলে আপনি শুধু ক্রেডিট স্কোর বাঁচাতেই পারবেন না, বরং নিজের বাড়িটিও সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।
চাকরি হারানোর পর প্রথমেই কী করবেন
যদি মনে হয় আগামী কয়েক মাস EMI দিতে সমস্যা হবে, তাহলে এক মুহূর্তও দেরি না করে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। চাকরি হারানোর প্রমাণ হিসেবে টার্মিনেশন লেটার বা অফিসিয়াল নোটিশ দেখান। মনে রাখবেন, বাড়ি বাজেয়াপ্ত করা ব্যাংকের জন্যও জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা সহযোগিতার পথ খোঁজে। আপনি ৩ থেকে ৬ মাসের ‘EMI মোরাটোরিয়াম’ বা পেমেন্ট ছুটির আবেদন করতে পারেন, যাতে নতুন চাকরি খোঁজার সময় পান।
EMI কমানোর পথ
নতুন চাকরিতে বেতন কম হতে পারে মনে হলে ঋণ পুনর্গঠনের কথা ভাবুন। গৃহঋণের মেয়াদ ৫-১০ বছর বাড়ালে মাসিক EMI অনেকটাই কমে যায়। ধরুন, ৪০ হাজার টাকার EMI নেমে আসতে পারে ২৫ হাজার টাকায়, যা এই সংকটকালে অনেকটাই স্বস্তির।
হোম লোন প্রোটেকশন প্ল্যান কাজে লাগান
অনেকেই গৃহঋণের সঙ্গে দেওয়া ‘হোম লোন প্রোটেকশন প্ল্যান’ অবহেলা করেন। অথচ ছাঁটাইয়ের মতো পরিস্থিতিতে এই বীমা বড় সহায়ক হতে পারে। অনেক পলিসিতে ‘অনিচ্ছাকৃত চাকরি হারানো’ কভার থাকে, যেখানে বীমা সংস্থা ৩-৬ মাস পর্যন্ত আপনার EMI সরাসরি ব্যাঙ্কে মিটিয়ে দেয়।
PF ও সঞ্চয়ের বুদ্ধিমান ব্যবহার
জরুরি তহবিল না থাকলে EPF, ফিক্সড ডিপোজিট বা মিউচুয়াল ফান্ড ভাঙতে দ্বিধা করবেন না। EPFO নিয়ম অনুযায়ী, বেকার হওয়ার এক মাস পর PF-এর ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত তোলা যায়। উচ্চ সুদের ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো, এতে সমস্যা আরও বাড়ে।
আইনি দিকটা জেনে রাখুন
এক-দু’মাস EMI না দিলেই ব্যাঙ্ক বাড়ি দখল নিতে পারে না। টানা তিনটি EMI বাকি থাকলে তবেই অ্যাকাউন্ট NPA হয় এবং তার পরেও ৬০ দিনের নোটিশ দেওয়া বাধ্যতামূলক। এই সময়ের মধ্যে আলোচনার ও সমাধানের যথেষ্ট সুযোগ থাকে।