
LPG cylinder gas level check: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা। প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসেও। দেশের নানা প্রান্তে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ কমে যাওয়ার খবর মিলছে। কোথাও কোথাও রেস্তোরাঁর গ্যাস বুকিং বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বাড়িতে সিলিন্ডার পাবেন কিনা, সেই আশঙ্কায় ভুগছেন অনেকেই। তবে চিন্তা করবেন না। এখনই এতটা ভয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে গ্যাস কতটা আছে, তা জেনে রাখা ভাল। বাড়ির সিলিন্ডারে ঠিক কতটা গ্যাস বাকি আছে, তা কী ভাবে বোঝা যাবে? আসুন জেনে নেওয়া যাক। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই প্রশ্নের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ, গ্যাস শেষ হয়ে গেলে হঠাৎ রান্না বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই সিলিন্ডারে কতটা গ্যাস রয়েছে তা আগে থেকেই জানা থাকলে পরিকল্পনা করা সহজ হয়। কয়েকটি সহজ উপায়ে বাড়িতেই গ্যাসের পরিমাণ আন্দাজ করা সম্ভব বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
গরম জলের সাহায্যে পরীক্ষা
সবচেয়ে সহজ উপায় হল গরম জল ব্যবহার করা। প্রথমে একটি কাপ বা মগে গরম জল নিন। তারপর সেই জল সিলিন্ডারের গায়ে ধীরে ধীরে ঢেলে দিন। কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করে হাত দিয়ে সিলিন্ডারের গায়ে স্পর্শ করুন। যে অংশ ঠান্ডা অনুভূত হবে, সেখানে গ্যাস রয়েছে। আর যে অংশ তুলনামূলক গরম থাকবে, সেখানে গ্যাস নেই। কারণ সিলিন্ডারের ভেতরে তরল গ্যাস থাকা অংশ দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায়।
ওজন দেখে আন্দাজ
সিলিন্ডারের ওজন দেখেও অনেক সময় গ্যাসের পরিমাণ বোঝা যায়। সাধারণত একটি গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারে ১৪.২ কেজি গ্যাস থাকে। খালি সিলিন্ডারের ওজন আলাদা করে লেখা থাকে। এই দুই ওজন মিলিয়ে হিসাব করলে মোট ওজন বোঝা যায়। যদি ওজন তুলনামূলক কম লাগে, তা হলে ধরে নেওয়া যায় গ্যাস প্রায় শেষের দিকে।
আগুনের শিখার রং লক্ষ্য করুন
গ্যাস বার্নারের শিখার রং থেকেও কিছুটা আন্দাজ পাওয়া যায়। সাধারণত নীল শিখা হলে বোঝা যায় গ্যাস ঠিকঠাক বেরোচ্ছে। কিন্তু শিখা যদি হলুদ বা কমলা রঙের হয়ে যায় এবং আগের তুলনায় দুর্বল লাগে, তা হলে গ্যাস শেষের দিকে পৌঁছেছে বলে ধরে নেওয়া হয়।
এ দিকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় সরকারও সতর্ক হয়েছে। খবর অনুযায়ী, সম্ভাব্য এলপিজি ঘাটতি মোকাবিলার জন্য একাধিক বিকল্প পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
তৈরি ভারতীয় রেলও
সূত্রের খবর, চলন্ত ট্রেনে রান্না করার পরিবর্তে মাইক্রোওয়েভ বা ইন্ডাকশনের মতো বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে। যদি গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়, তা হলে ট্রেনে রান্না বন্ধ রাখা হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্টেশন থেকে রান্না করা খাবার তুলে যাত্রীদের দেওয়া হবে। পাশাপাশি ট্রেনে পর্যাপ্ত পরিমাণে রেডি-টু-ইট খাবার মজুত রাখার পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকারও পদক্ষেপ নিয়েছে। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এলপিজির ব্যবহার কিছুটা কমিয়ে গৃহস্থালিতে সরবরাহ বাড়ানোর দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, গোটা দেশে প্রায় ১০ শতাংশ এলপিজি উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম; এই তিন সংস্থাই উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে বলে জানা গিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গ্যাস ব্যবহারে সচেতন থাকা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে বাড়ির সিলিন্ডারে কতটা গ্যাস রয়েছে, তা আগে থেকে জেনে রাখা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।