
Income Tax New Rules: ভারতে ১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে আয়কর সংক্রান্ত একটি বড় পরিবর্তন কার্যকর হতে চলেছে। এখন নতুন আয়কর আইন, ২০২৫ পুরনো আয়কর আইন, ১৯৬১-কে প্রতিস্থাপন করবে। সরকারের মতে, এই নতুন আইনের উদ্দেশ্য হলো কর ব্যবস্থাকে সরল করা, এর ভাষা সহজ করা এবং বিবাদ কমানো। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ট্যাক্স স্ল্যাবগুলিতে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি, অর্থাৎ আপনার করের হার আপাতত একই থাকবে।
পরিবর্তনটা কী?
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে 'কর বর্ষ'বা ট্যাক্স ইয়ারের-এর ধারণা। এখন পর্যন্ত আমরা ফিনান্সিয়াল ইয়ার এবং অ্যাসেসমেন্ট ইয়ারের নিরিখে ট্যাক্সকে বুঝতাম, কিন্তু এখন এটি বিলুপ্ত করে একটি একক 'ট্যাক্স ইয়ার' চালু করা হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জন্য কর দাখিল করা সহজ হবে এবং বিভ্রান্তি কমবে।
ITR দাখিলের তারিখও পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন, সাধারণ বেতনভোগী ব্যক্তিরা, যারা ITR-1 বা ITR-2 দাখিল করেন, তাদের অবশ্যই ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। যাদের ব্যবসায়িক বা পেশাগত আয় আছে এবং যাদের অডিটের প্রয়োজন নেই, তারা ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত সময় পাবেন। যেসব ক্ষেত্রে অডিটের প্রয়োজন, তাদের শেষ তারিখ ৩১ অক্টোবর, এবং কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা দেওয়া হবে।
সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের নিয়মে শিথিলতা
সরকার সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের নিয়মও শিথিল করেছে। করদাতারা এখন ভুল সংশোধনের জন্য আরও বেশি সময় পাবেন। এই সময়সীমা, যা আগে নয় মাস ছিল, এখন বাড়িয়ে ১২ মাস করা হয়েছে। তবে, নয় মাস পর রিটার্ন দাখিল করলে জরিমানা দিতে হবে, যা আপনার আয়ের উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হবে।
নতুন নিয়মাবলীতে শেয়ার বাজার এবং বিদেশে পাঠানো অর্থ সম্পর্কিত করের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ডেরিভেটিভস ট্রেডিংয়ের উপর এসটিটি (STT) বাড়ানো হয়েছে, যা ট্রেডারদের খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে। বিদেশে পাঠানো অর্থের (LRS) উপর টিসিএস (TCS) হার কমিয়ে ২% করা হয়েছে, বিশেষত শিক্ষা এবং চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষেত্রে। এছাড়াও, শেয়ার বাইব্যাক থেকে অর্জিত আয় এখন থেকে মূলধনী লাভ বা ক্যাপিটাল গেইন হিসাবে গণ্য হবে এবং সেই অনুযায়ী কর ধার্য করা হবে।
কিছু স্বস্তিদায়ক পরিবর্তনও আনা হয়েছে। মোটর দুর্ঘটনার ক্লেমের উপর অর্জিত সুদের উপর আর কর ধার্য করা হবে না, এবং TDS-ও কাটা হবে না। অফিসে যাতায়াতের জন্য কোম্পানির দেওয়া পরিবহন খরচকেও করমুক্ত করা হয়েছে। এদিকে, প্যান (PAN) সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর করা হবে, যার ফলে বড় লেনদেনের উপর নজরদারি বাড়বে। সামগ্রিকভাবে, নতুন কর ব্যবস্থা প্রক্রিয়াটিকে সহজ করবে, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে করদাতাদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে আপনার হাতে আসা বেতন এবং কর প্রদানের পদ্ধতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। নতুন শ্রম আইন এবং বাজেট ২০২৬ বাস্তবায়নের পর, কোম্পানিগুলো তাদের বেতন কাঠামো পুনর্গঠন করছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, 'নতুন কর ব্যবস্থা' এখন ডিফল্ট বিকল্প হয়ে উঠেছে। এর মানে হলো, আপনি যদি নিজে পুরনো কর ব্যবস্থা বেছে না নেন, তবে সরকার ধরে নেবে যে আপনি নতুন ব্যবস্থার অধীনে আছেন।
আপনার বেতন কাঠামো কেন পরিবর্তন করা হচ্ছে?
দুটি কারণে – নতুন শ্রম আইন এবং নতুন আয়কর বিধি – ২০২৬ অর্থবছর থেকে আপনার বেতন স্লিপে পরিবর্তন আনবে। সরকারের মতে, একজন কর্মচারীর মূল বেতন তার মোট সিটিসি-র (CTC) কমপক্ষে ৫০% হওয়া উচিত। এটি বাস্তবায়ন করতে, কোম্পানিগুলো তাদের মূল বেতন বাড়াবে। এর ফলে পিএফ (PF) এবং গ্র্যাচুইটির (gravitity) মতো অবসরকালীন সুবিধাগুলো সরাসরি প্রভাবিত হবে, কারণ এগুলো আপনার মূল বেতনের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।
আপনার বেতন স্লিপে কী পরিবর্তন আসবে?
১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই পরিবর্তনগুলো বেতনের ক্ষেত্রে পুরো বিষয়টিকে আরও স্বচ্ছ করে তুলবে। কর সাশ্রয় এখন আর শুধু বিনিয়োগের বিষয় নয়, বরং সঠিক কর ব্যবস্থা বেছে নেওয়ার বিষয়। যদি আপনার বড় কোনও বিনিয়োগ না থাকে, তবে নতুন ব্যবস্থাটি আপনার জন্য ভালো, কিন্তু যদি আপনার বাড়ির ঋণ এবং বেশি ভাড়া থাকে, তবে পুরনো ব্যবস্থাটিই মেনে চলুন।