
Yes Voice Fraud 2026: নতুন ধরনের ভয়েস-স্ক্যাম এখন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ভারত জুড়ে। অচেনা নম্বর থেকে হঠাৎ একটি ছোট ফোন কল আসেউল্টো দিক থেকে শোনা যায়, “Are you there?” বা “শুনতে পাচ্ছেন?”। আপনি একবার “Yes” বা “হ্যাঁ” বললেই শেষ! প্রতারকের হাতে চলে যায় আপনার স্পষ্ট ভয়েস স্যাম্পল। আর এই কয়েক সেকেন্ডের রেকর্ডিংই পরে আপনার কণ্ঠস্বর নকল করতে ব্যবহৃত হয়।
ভয়েস-অথেনটিকেশন বা কণ্ঠস্বর যাচাই এখন ব্যাংকিং, টেলিকম, ইনস্যুরেন্স, এমনকি সরকারি পরিষেবাতেও ব্যবহার হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতারকেরা খুঁজে নিয়েছে সুযোগ। তারা AI ভয়েস ক্লোনিং টুল ব্যবহার করে কয়েক সেকেন্ডের রেকর্ডিং থেকেই আপনার মতোই কণ্ঠস্বর তৈরি করে ফেলে। এরপর সেই নকল কণ্ঠ দিয়ে নাকি লোন অনুমোদন, KYC যাচাই, সিম অ্যাক্টিভেশন সবকিছুর জন্যই ‘ফেক কনসেন্ট’ দেওয়ানো যায়।
বহু ভুক্তভোগী বুঝতেই পারেন না কখন তাঁদের নামে টাকা কেটে নেওয়া হল বা কোন পরিষেবা তাদের অজান্তে চালু হয়ে গেল। একমাত্র ব্যাংক স্টেটমেন্টে অচেনা লেনদেন দেখেই সন্দেহ হয়। ততক্ষণে দেরি। কারণ ভয়েস-ভিত্তিক যাচাইয়ের ওপর ভরসা করে যে সব পরিষেবা চলছে, সেখানে এই কৃত্রিম কণ্ঠই হয়ে উঠছে সর্বনাশের কারণ।
বিশেষজ্ঞদের দাবি কলার আইডি স্পুফিংয়ের যুগে শুধু নম্বর দেখে বুঝে ওঠা সম্ভব নয় কে আসলে ফোন করছে। ভারতীয় গ্রাহকদের সাধারণ আচরণ ফোন উঠিয়েই হুড়োহুড়ি করে ‘হ্যাঁ’ বলে ফেলা, এই স্ক্যামের সবচেয়ে বড় সুযোগ। প্রতারকেরা জানে, বেশি কথা বললে সন্দেহ হবে। তাই তারা শুধু একটি স্পষ্ট “Yes / Haan” সংগ্রহ করতেই ফোন করে।
সমস্যা আরও বাড়ছে কারণ অনেক বৈধ কাস্টমার-কেয়ার বটও শুরুতেই “yes বা no” জিজ্ঞাসা করে। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। কোনটা আসল, কোনটা নকল বোঝা দুষ্কর হয়ে যায়। আর এই বিভ্রান্তির ফাঁকেই তৈরি হয় স্ক্যামের পথ।
প্রতিরোধের জন্য সাইবার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অচেনা নম্বর থেকে ফোন এলেই প্রথমে কখনোই “হ্যাঁ” বলবেন না। বরং পাল্টা প্রশ্ন করুন, “আপনি কে?” বা “কেন ফোন করেছেন?”। যতক্ষণ না বৈধ পরিচয় মেলে, ততক্ষণ হ্যাঁ/না জাতীয় জবাব দেবেন না। নিজের কণ্ঠস্বরকে পাসওয়ার্ড বা OTP-এর মতোই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে রক্ষা করতে হবে।
ভয়েস-অথেনটিকেশন পরিষেবা আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা দিলেও তার সঙ্গে ঝুঁকি বাড়ছে। সংস্থাগুলোর উচিত বিকল্প যাচাইকরণ যুক্ত করা ও অতিরিক্ত স্তরের সিকিউরিটি চালু করা। সব অচেনা কল প্রতারণা নয় ঠিকই, কিন্তু একটি ভুল অভ্যাস বড় বিপদের কারণ হতে পারে। সচেতন থাকাই একমাত্র বাঁচার পথ।