
সকলেই অবসর গ্রহণের পর আর্থিক উদ্বেগমুক্ত একটি আরামদায়ক জীবনযাপন করতে চায়। এই কারণে, বেশিরভাগ মানুষ চাকরি থাকাকালীনই তাদের পেনশনের জন্য প্রস্তুতি নেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত যদি অবসর গ্রহণের পর পেনশন গ্রহণকারী ব্যক্তি হঠাৎ মারা যান, তাহলে পরিবারের দায়িত্ব কে নেবে? এই পরিস্থিতিতে, পরিবারকে সহায়তা করার জন্য একটি পারিবারিক পেনশন প্রকল্প চালু করা হয়। এই প্রকল্পটি পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর পরিবারকে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা প্রদান করে, যাতে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় স্বাচ্ছন্দ্যে মেটানো যায় এবং পরিবার আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন না হয় তা নিশ্চিত করে।
সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে একটি বড় উদ্বেগ হল তাদের মৃত্যুর পরে পারিবারিক পেনশন কারা পাবেন, বিশেষ করে যদি তাদের দু'টি স্ত্রী থাকে। এই বিভ্রান্তি দূর করতে, কেন্দ্রীয় সরকার আগেই একটি স্পষ্টীকরণ জারি করেছে। পেনশন বিভাগ (DoPPW) কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের পারিবারিক পেনশন বন্টন কেন্দ্রীয় সিভিল সার্ভিসেস (পেনশন) বিধি, ২০২১ এর নিয়ম অনুসারে হবে এবং কোনও ভুল বোঝাবুঝির কোনও সুযোগ রাখা হয়নি।
যদি দু'টি স্ত্রী থাকে, তাহলে পেনশন কারা পাবে?
সরকারের মতে, যদি একজন সরকারি কর্মচারীর দু'টি বৈধ বিবাহিত স্ত্রী থাকে, যাদের দু'জনেই মৃত্যুর সময় বৈধ থাকে, তাহলে পারিবারিক পেনশন তাদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হবে। যদি স্বামী/স্ত্রীর মধ্যে কেউ পরবর্তীতে মারা যান অথবা পেনশনের যোগ্য না থাকেন, তাহলে তার অংশ তার যোগ্য সন্তানদের দেওয়া হবে। কিন্তু এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, যদি কর্মচারী ১৯৫৫ সালের হিন্দু বিবাহ আইনের আওতায় আসে এবং প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকাকালীন দ্বিতীয়বার বিয়ে করে, তাহলে এই বিয়ে অবৈধ বলে বিবেচিত হবে। এই ধরনের ক্ষেত্রে, দ্বিতীয় স্ত্রী পারিবারিক পেনশনের অধিকারী নন, কারণ এটি আইন এবং পরিষেবা বিধি উভয়েরই লঙ্ঘন। তাই, সরকার সকল বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে যে এই ধরনের ক্ষেত্রে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আইনি পরামর্শ নিতে হবে এবং কোনওভাবেই অবহেলা না করতে হবে।
কারা পেনশন পাবেন এবং কীভাবে?
পারিবারিক পেনশনের অধিকার সম্পর্কেও সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে। বিধবা বা বিপত্নীকরা প্রথমে এই অধিকার পাবেন। এরপর আসে শিশুদের, যার মধ্যে দত্তক নেওয়া, সৎ সন্তান এবং অবসর গ্রহণের পরে জন্ম নেওয়া শিশুরাও অন্তর্ভুক্ত। এর পরে, নির্ভরশীল বাবা-মা এবং তারপর মানসিক বা শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী নির্ভরশীল ভাই বা বোন অধিকার পান।
সরকার জানিয়েছে, যদি কোনও কর্মচারী অবসর গ্রহণের পরে মারা যান, তাহলে তার পরিবার ৭ বছর বা কর্মচারীর ৬৭ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত, যেটি আগে হয়, বর্ধিত হারে পারিবারিক পেনশন পেতে থাকবে। এই নিয়ম সকল কেন্দ্রীয় কর্মচারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, এমনকি যেসব ডাক্তারের অবসরের বয়স ৬৫ বছর, তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
সামগ্রিকভাবে, সরকারের এই স্পষ্টীকরণ পারিবারিক পেনশন নিয়ে বিতর্ক এবং বিভ্রান্তি অনেকাংশে দূর করেছে। এখন, দুই স্ত্রীর ক্ষেত্রেও, পেনশনের প্রাপ্যতা সম্পূর্ণ স্পষ্ট নিয়মের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। অতএব, যদি কোনও ব্যক্তি সরকারি চাকরিতে থাকেন, তাহলে তার জন্য এই নিয়মগুলি সম্পর্কে সচেতন থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যাতে ভবিষ্যতে তাকে কোনও ধরনের আইনি বা পারিবারিক সমস্যার সম্মুখীন না হতে হয়।