
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে দেশজুড়ে চলছে LPG সঙ্কট। কলকাতাতেও এসে পড়েছে প্রভাব। মাত্র সপ্তাহখানেক আগেই কলকাতার একাধিক রেস্তোরাঁ জানিয়েছিল, গ্যাস সিলিন্ডারের অভাবে তাঁদের মাথা খারাপ হওয়ার জোগাড়। কিন্তু তাই বলে কি LPG সঙ্কটের জেরে ইতিমধ্যেই রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গিয়েছে? সোশ্যাল মিডিয়া-সহ লোকের মুখে মুখে ঘুরছে এমনই নানা তথ্য। রেস্তোরাঁ বন্ধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুজব বোধ হয় রটেছে দাদা বৌদি বিরিয়ানি নিয়েই।
কী গুজব রয়েছে?
সোদপুর, বি.টি রোডে কোনও চায়ের দোকান বা অটো স্ট্যান্ডে জিজ্ঞাসা করলে শুনতে পাওয়া যাচ্ছে দাদা বৌদি বিরিয়ানি নাকি LPG সঙ্কটের জেরে রেস্তোরাঁ বন্ধ রেখেছে। যদিও সোদপুর নাকি ব্যারাকপুর- রেস্তোরাঁর কোন শাখায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা বলতে পারছেন না অনেকেই।
আসলে কী হয়েছে?
দাদা বৌদি বিরিয়ানি কি সত্যিই বন্ধ রয়েছে? এই প্রসঙ্গে bangla.aajtak.in -কে রেস্তোরাঁর অন্যতম কর্ণধার রাজীব সাহা জানান, "আমাদের কোনও রেস্তোরাঁই এখন বন্ধ রাখা হয়নি। সোদপুর ও ব্যারাকপুর দুটি জায়গাতেই দোকান খোলা রয়েছে।"
তবে LPG সঙ্কট যে রয়েছে তা স্বীকার করে নিয়েছেন দাদা বৌদি বিরিয়ানির মালিক। পরিস্থিতির মোকাবিলায় বেশ কিছু সাইড ডিশ বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে মূল বিরিয়ানি বা চিকেন চাপের মতো পদ অক্ষত রয়েছে।
উল্লেখ্য বিষয় হল, বায়ুদূষণ রোধে কলকাতায় কাঠ কয়লা পোড়ানো নিষিদ্ধ। তবে ব্যারাকপুরে এমন কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। সেক্ষেত্রে LPG সঙ্কট মোকাবিলায় কাঠকয়লা বা কাঠের মতো অপশনও হাতের কাছেই রয়েছে দাদা বৌদি বিরিয়ানির। ফলে LPG-র অভাব কাঠেই পুষিয়ে নিতে পারছেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণে টাকার কাঠ কেনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দোকানের মালিক।
কোথায় কোথায় দাদা বৌদি বিরিয়ানি রয়েছে?
বর্তমানে বারাকপুরে দাদা বৌদি হোটেলের দুটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এছাড়াও, সোদপুর-বিটি রোডে রয়েছে আরও একটি রেস্টুরেন্ট। তবে এগুলি জেলায় হওয়ায় কলকাতাবাসীকে দাদা বৌদি রেস্টুরেন্টের বিরিয়ানি খেতে অনেকদূরে যেতে হয়। তবে এবার সেই সমস্যা সমাধানে এয়ারপোর্ট সংলগ্ন এলাকায় নতুন রেস্তোরাঁ খুলছে দাদা বৌদি। ফলে শীঘ্রই আরও বেশি সংখ্যক কলকাতাবাসী দাদা বৌদি বিরিয়ানির আস্বাদ পাবেন।