
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে দেশে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে আতঙ্ক ক্রমশ ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই বেঙ্গালুরু, মুম্বইয়ের মতো শহরের এ ৫টির মধ্যে একটি রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। গার্হস্থ্য গ্যাস সিলিন্ডার একটির পর অন্যটি বুকিং করার ক্ষেত্রে কমপক্ষে ২৫ দিনের বিরতি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার প্রভাব কিন্তু শুধুমাত্র রান্নাঘরে সীমাবদ্ধ থাকছে না। দেশজুড়ে এবার মোবাইল নেটওয়ার্কের উপর প্রভাব পড়তে পারে।
টেলিকম কোম্পানিগুলি LPG পাচ্ছে না
সম্প্রতি দেশের টেলিকম পরিকাঠামো নির্মাণকারী সংস্থাগুলি কেন্দ্রকে জানিয়েছে, আচমকাই তারা LPG পাচ্ছে না। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ৫ মার্চ থেকে বেশ কয়েকটি টেলিকম টাওয়ার উৎপাদন ইউনিটে এলপিজি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
টেলিকম কোম্পানিগুলির কেন LPG প্রয়োজন?
টেলিকম টাওয়ার নির্মাণের প্রক্রিয়ায় গ্যালভানাইজেশনের মতো প্রক্রিয়া জড়িত। এই প্রক্রিয়ার জন্ইয এলপিজি বা গ্যাস-ভিত্তিক জ্বালানি প্রয়োজন। যদি এই সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে টাওয়ার তৈরির কারখানাগুলির উৎপাদন ধীর হয়ে যেতে পারে। এমনকি কিছু ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ করেও দিতে হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, LPG না পাওয়া গেলে এর সরাসরি প্রভাব দেশে নতুন করে টেলিকম টাওয়ার তৈরি বা নেটওয়ার্ক পরিকাঠামো সম্প্রসারণের উপরও পড়তে পারে।
আমজনতার উপর কী প্রভাব পড়তে পারে?
ভারতের মোবাইল নেটওয়ার্কের একটি বড় অংশ টেলিকম টাওয়ারের উপর নির্ভরশীল। দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ টাওয়ার মোবাইল কল, ইন্টারনেট এবং ডেটা পরিষেবা সরবরাহ করে। যদি নতুন টাওয়ার বসানোর গতি কমে যায় বা নেটওয়ার্ক আপগ্রেড বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে কানেকশন সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় নেটওয়ার্ক ইতিমধ্যেই দুর্বল, সেখানে প্রভাব পড়তে পারে সবচেয়ে বেশি।
এই মুহূর্তে চিন্তার কারণ নেই
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমানে মোবাইল এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকার কোনও পরিস্থিতি নেই। তবে এলপিজি সরবরাহ যদি টানা অব্যাহত থাকে, তাহলে নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি এবং 5G রোলআউটের গতি ধীর হয়ে যেতে পারে। কিছু টেলিকম কোম্পানির নতুন টাওয়ার গঠনের কাজও থমকে যেতে পারে।