
ইরান যুদ্ধের জেরে ভারত সহ একাধিক দেশে LPG সিলিন্ডারে সঙ্কট তৈরি হয়েছে। গ্যাস বাঁচিয়ে কীভাবে বেশি দিন চালানো যায়, তার জোগাড় করছে ভারতের গৃহস্থরা। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায়, সিলিন্ডার সাপ্লাই কমে গিয়েছে।
তেলের চাহিদার সিংহভাগ আমদানি
বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহে ব্যাপক ধাক্কা লেগেছে। দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। আর ভারতের মতো দেশগুলি, যারা তাদের তেলের চাহিদার সিংহভাগ আমদানি করে, তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। হরমুজ জলপথটি ইরান ও ওমানের মাঝে অবস্থিত। এর একপাশে রয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলি, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কুয়েত, সৌদি আরব এবং ইরাক। তাদের তেল বাইরে প্রবাহিত হওয়ার জন্য এটিই একমাত্র সমুদ্রপথ।
ইতিমধ্যেই ভারতে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বেড়ে গিয়েছে। গত ৭ মার্চ এলপিজি সিল্ডারের দাম বেড়েছে। ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা ও ১৯ কেজি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১১৫ টাকা বেড়েছে।
এলপিজি ‘ড্রাই-আউট’ বা সরবরাহ বন্ধ হওয়ার খবর নেই
পশ্চিম এশিয়ায় ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকার সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, তার প্রভাব ধীরে ধীরে ভারতের জ্বালানি বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। আর দাম না বাড়লেও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে সরকার। এখনও পর্যন্ত কোথাও এলপিজি ‘ড্রাই-আউট’ বা সরবরাহ বন্ধ হওয়ার খবর নেই, তবে সতর্কতা জারি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার ‘প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা’র মতো প্রকল্পের মাধ্যমে ভর্তুকি দিয়ে সাধারণ মানুষের উপর চাপ কিছুটা কমানোর চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যেই ১০ কোটিরও বেশি পরিবার এই প্রকল্পের আওতায় গ্যাস সংযোগ পেয়েছে।
খরচ সামলাতে গেলে বিকল্পগুলির দিকে ঝুঁকতেই
সিএনজি ও পিএনজি এখন ধীরে ধীরে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ হওয়ায় এগুলি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল এবং অনেক ক্ষেত্রে সস্তাও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে জ্বালানির খরচ সামলাতে গেলে এই বিকল্পগুলির দিকে ঝুঁকতেই হবে।
বর্তমানে ২২টি ভারতীয় জাহাজ গাল্ফে আটকা পড়েছে, যেগুলি সামনে এগোতে বা ফিরতে পারছে না। এই জাহাজগুলির মধ্যে দুটি বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে, আইওসি (ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন)-এর ভাড়া করা ‘পাইন গ্যাস’ এবং বিপিসিএল-এর ভাড়া করা ‘জাগ বসন্ত’। দুটিই এলপিজি ট্যাঙ্কার, অর্থাৎ এগুলি ভারতীয় বাড়িগুলির জন্য রান্নার গ্যাসের মতো জ্বালানি বহন করছে। জাহাজ দুটি আজ অর্থাত্ শনিবার রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।