
গরমকাল চলে আসা মানেই অসহ্য গরম আর ঘাম। এপ্রিল থেকেই সেই গরম বাড়তে শুরু করে। সূর্যের প্রখর তাপ এমন জায়গায় পৌঁছায়, যে ঘরের ভেতরও থাকা দুষ্তর হয়ে পড়ে। এখন অধিকাংশ বাড়িতেই এসি, কুলার রয়েছে। কিন্তু তা সব সময় চালানো মানেই প্রচুর বিদ্যুতের বিল আসা। তবে এসি-কুলার ছাড়াও আপনি নিজের ঘরকে অনেকক্ষণ ঠান্ডা রাখতে পারবেন। তাও খুব বেশি খরচও করতে হবে না। আসুন তাহলে কিছু সহজ ও কার্যকর টিপস জেনে নিন।
ঘরে সূর্যের তাপ ঢুকতে দেবেন না
ঘর গরম হয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ গল সূর্যের তাপ সোজা ঘরের মধ্যে ঢোকে। এতে ঘর খুব তাড়াতাড়ি গরম হয়। তাই জানলায় হালকা রঙের পর্দা বা ব্লাইন্ড ব্যবহার করুন, বিশেষ করে যেসব জায়গায় দুপুরের তীব্র রোদ পড়ে। এটি সূর্যের তাপ প্রবেশে বাধা দেবে এবং ঘরটিকে ঠান্ডা রাখবে।
রাতে ঘরের মধ্যে বায়ু চলাচলের জায়গা রাখুন
দিনের বেলায় ঘরে জমে থাকা তাপ দূর করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো রাতের ঠান্ডা বাতাস ব্যবহার করা। এটি বিনামূল্যে এবং ঘর ঠান্ডা করার একটি সহজ উপায়। আড়াআড়ি বায়ুচলাচল তৈরি করতে এবং ঠান্ডা বাতাস ভেতরে আসতে দেওয়ার জন্য সন্ধ্যায় বা রাতে সমস্ত জানালা খুলে দিন। এর সঙ্গে একটি ফ্যান চালালে আপনি আরও দ্রুত ঠান্ডা অনুভব করবেন।
ফ্যানের সঠিক ব্যবহার
বেশিরভাগ মানুষ গরম থেকে তাৎক্ষণিক স্বস্তি পেতে ফ্যান চালান, কিন্তু শুধু ফ্যান চালালেই যথেষ্ট নয়। এটি সঠিকভাবে ব্যবহার করাও অপরিহার্য। স্ট্যান্ড ফ্যান বা সিলিং ফ্যান এমনভাবে রাখুন যাতে ঘরে বাতাস অবাধে চলাচল করতে পারে। ফ্যানের সামনে বরফ বা ঠান্ডা জল রাখলে বাতাস শীতল অনুভূত হয়, যা তাৎক্ষনিক স্বস্তি দেয়।
সুতির ব্যবহার
ভারী এবং সিন্থেটিক কাপড় গ্রীষ্মকালে গরমকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই গ্রীষ্মকালে সুতির বিছানার চাদর, পর্দা এবং কুশন কভার বেছে নিন, কারণ এগুলো হালকা এবং সহজে বাতাস চলাচলের সুযোগ করে দেয়। এতে ঘরটি শীতল ও সতেজ অনুভূত হয়।
ঘরের ভেতর গাছ
আজকাল অনেকেই নিজেদের বাড়িতে প্রচুর গাছ লাগান। এই গাছগুলো শুধু ঘরের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং ঘরকে ঠান্ডা রাখতেও সাহায্য করে। অ্যালোভেরা এবং স্নেক প্ল্যান্টের মতো গাঠ ঘরের ভেতরে রাখুন এবং বারান্দায় বা জানলার কাছেও লাগান। এগুলো বাতাসকে বিশুদ্ধ করে এবং পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রা কিছুটা কমাতে সাহায্য করে।
জল দিয়ে শরীর ঠান্ডা করুন
সন্ধ্যায় মেঝেতে সামান্য জল ছিটিয়ে দিন অথবা পর্দা হালকা ভিজিয়ে দিন। জল বাষ্পীভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চারপাশের বাতাস ঠান্ডা হয়। তবে, খেয়াল রাখবেন যেন খুব বেশি জল ব্যবহার না করা হয়, কারণ এতে মেঝের ক্ষতি হতে পারে।