
স্ক্যামাররা মানুষকে ঠকানোর নিত্যনতুন পথ খুঁজে বের করছে। আগে এটিএম কার্ড এবং ওটিপি ব্যবহার করেই হতো স্ক্যাম। তবে এখন সেই সব জালিয়াতি মানুষ ধরে ফেলছে। তাই নতুন পথ খুঁজছে জালিয়াতরা। আর সেই কাজে সাফল্য পেয়েছে স্ক্যামাররা। এই কাজে নতুন একটা রাস্তা খুঁজে বের করেছে তারা। এই পদ্ধতিতে ওটিপি বা পিন ছাড়াই স্ক্যাম করা সম্ভব হচ্ছে। এক্ষেত্রে আধার এনাবেলড পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে করা হচ্ছে স্ক্যাম। নিমেষে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। যার ফলে বিপদ বাড়ছে।
এই জালিয়াতির মাধ্যমে প্রথমে স্ক্যামাররা আধার ডিটেলস চুরি করে নেয়। তারপর সেই তথ্যের মাধ্যমে টাকা তুলে নেয় ব্যাঙ্ক থেকে। আর এই জালিয়াতি নিত্যদিন বাড়ছে।
AEPS জালিয়াতি কীভাবে ঘটে?
স্ক্যামাররা সবার প্রথমে আধার তথ্য, ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং অন্যান্য তথ্য চুরি করে নেয়। তারা বিভিন্ন লিকড ডেটা সোর্স থেকে এই তথ্য সংগ্রহ করে ফেলে। তারপর নকল ফিঙ্গারপ্রিন্ট তৈরি করে সেই ডেটার মাধ্যমে। এরপর AEPS মাইক্রো ATM-এ সেটা ব্যবহার করে। এর মাধ্যমেই অ্যাকাউন্টে থাকা পুরো টাকাটা উবে যায়। মাথায় হাত পড়ে যায় সাধারণ মানুষের।
মিউল অ্যাকাউন্ট কী?
এটা একটা বিশেষ ধরনের অ্যাকাউন্ট। এই অ্যাকাউন্টটি ব্যবহৃত হয় জালিয়াতির জন্য। এক্ষেত্রে স্ক্যামাররা অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিতে পারে। তারপর সেটা ব্যবহার করতে পারে জালিয়াতির জন্য। এই ধরনের অ্যাকাউন্টকে মিউল অ্যাকাউন্ট বলে।
জালিয়াতি থেকে বাঁচার রাস্তা...
BLS-E সার্ভিসের চেয়ারম্যান শিখর অগরবাল জানিয়েছেন, AEPS স্ক্যাম থেকে বাঁচতে চাইলে আপনাকে জিপিএস এনাবেলড ডিভাইস ব্যবহার করতে হবে। এই সব ডিভাইসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট জায়গা থেকেই টাকা তোলা যাবে। এক্ষেত্রে রেজিস্টার্ড সার্ভিস এরিয়ার বাইরে থেকে যদি টাকা তোলার আবেদন আসে, তখনই জিপিএস ডিভাইস সেই ট্র্য়াঞ্জাকশনকে ইনভ্যালিড বলে দেবে।
এখানেই শেষ নয়, ভবিষ্যতে এআই ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমেও এই সমস্যার করা যেতে পারে সমাধান। এই সব ডিভাইসে বায়োমেট্রিক চেক ঠিক ঠাক হবে। যার ফলে কমে যেতে পারে জালিয়াতির আশঙ্কা।
কীভাবে বাঁচবেন?
আপনাকে এখনই নিজের বায়োমেট্রিক লক করে দিতে হবে। UIDAI ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনি নিজের তথ্য লক করে দিতে পারেন। তাতেই পরবর্তী সময় আপনার তথ্য কেউ চুরি করে জালিয়াতি করতে পারবে না। ফলে বিপদের আশঙ্কাও কমবে অনেকটাই।