
পাতিলেবুকে আর পাতি বলার উপায় রইল কি? যে ভাবে কলকাতা সহ গোটা রাজ্যেই পাতিলেবুর দাম চড়েছে তাতে পাতিলেবুকে 'বাবু' লেবু বলতে হতে পারে বলে রসিকতা করছেন বাজারের ক্রেতারা। কারণ শীত কাটতে না কাটতেই বাজারে চড়া দামে বিকোচ্ছে পাতিলেবু। ফলে বাজারে গিয়ে পাতিলেবুর দোকান কার্যত এড়িয়ে চলছেন সাধারণ মানুষ।
কলকাতায় পাতিলেবুর দাম কত?
কলকাতা ও শহরতলির বাজারে পাতিলেবুর দাম রয়েছে চড়া। মাস দুই আগেও কলকাতার বাজারে পাতিলেবুর প্রতি পিসের দাম ছিল ২ টাকা। সেই দাম এখন বেড়ে হয়েছে ৫-৬ টাকা। কলকাতার লেকমার্কেটে বর্তমানে পাতিলেবুর প্রতি পিসের দাম রয়েছে ৫.৫০ টাকা। এয়ারপোর্ট সংলগ্ন বাজারেও পাতিলেবুর প্রতি পিসের রেট রয়েছে ৫ টাকা করেই। মধ্যমগ্রামের বসুনগর বাজারে আবার বড় আকারের পাতিলেবু বিক্রি হচ্ছে ৬ টাকা দরেও! গন্ধরাজ লেবুর দাম রয়েছে পিস ৯-১০ টাকা।
দাম দ্বিগুণ বেড়েছে
মাস দুই আগে কলকাতা সংলগ্ন বাজারে ১০ টাকায় ৪-৫টি পাতিলেবু পাওয়া যেত। কিন্তু এখন সেই একই পরিমাণ লেবু কিনতে দিতে হচ্ছে দ্বিগুণ টাকা। অর্থাৎ ১০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ টাকা হয়েছে দাম। যদিও জেলায় দাম তুলনামূলক সস্তা। উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ায় ৪টাকা সাড়ে ৪টাকা করে বিক্রি হচ্ছে পাতিলেবু।
পাইকারি বাজারে দাম কত?
কলকাতার পাইকারি বাজারেও চড়া দামে বিকোচ্ছে পাতিলেবু। শিয়ালদার কোলে মার্কেটে ভালো পাতিলেবুর পাইকারি রেট রয়েছে সাড়ে ৩টাকা। কুমোরটুলির নতুন বাজারেও লেবুর পাইকারি রেট রয়েছে চড়া। অন্যদিকে গন্ধরাজ লেবুর প্রতি পিসের পাইকারি দাম রয়েছে ৭-৮ টাকা।
কেন দাম এত বেশি?
রাজ্য সরকারের টাস্ক ফোর্স টিমের সদস্য ও কোলে মার্কেট ভেন্ডারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কমল দে এই প্রসঙ্গে bengali.aajtak.in-কে জানান, "শীতে বাংলায় লেবু প্রায় উৎপাদিত হয় না। গন্ধরাজ লেবু তো হয়ই না, চিনে কাগুজে লেবুও পাওয়া যায় না। ফলে এই সময় বাংলা থেকে শুরু করে সারা ভারত নির্ভর করে চেন্নাইয়ের উপর। চেন্নাই থেকে পাতিলেবুর আমদানি কমে যাওয়াতেই দাম বেড়ে গিয়েছে। আগে যেখানে প্রতি চালানে প্রায় ২৫-৩০ লরি পাতিলেবু আসত। তা এখন কমে গিয়ে হয়ে গিয়েছে ২০টা লরিতে। আগামীতে এই পরিমাণ আরও কমতে পারে। সেক্ষেত্রে দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।"
শহরতলির এক খুচরো ব্যবসায়ীর দাবি, একদিকে বাজারে পাতিলেবুর প্রাপ্যতার অভাব। অন্যদিকে আসন্ন ঈদের কারণেও বাজারে চড়া দামে বিকোচ্ছে পাতিলেবু।
দাম কবে নাগাদ কমতে পারে?
কমল দে জানান, বর্ষাকাল পড়লেই বাংলায় উৎপাদিত চিনা কাগুজে লেবু, গন্ধরাজ লেবু, গোড়া লেবু বাজারে আসবে। তখন বেশ কিছুটা দাম কমে যেতে পারে। হয়তো ফের ২ টাকায় নেমে আসতে পারে পাতিলেবুর দাম।