Post Office Best Scheme: পোস্ট অফিসে খুব সহজেই সঞ্চয়ের টাকা দ্বিগুণ করা যায়। কিষাণ বিকাশ পত্র এমনই একটি স্কিম। আজকালকার বাজারে টাকা জমানো সহজ কথা নয়। অনেকেই খরচের ঠেলায় মাসের শেষে চাপে পড়েন। সেখানে টাকা জমানো তো দূর অস্ত! বিশেষত মধ্যবিত্ত বাঙালিদের অনেকেই এই সমস্যায় ভোগেন। তবে কেউ কেউ শেয়ার বাজারে (Share Market) বিনিয়োগ করেন। মিউচুয়াল ফান্ড, SIP, গোল্ড বন্ডও আছে। কিন্তু সত্যি বলতে সবাই এখানে পুরো টাকা বিনিয়োগের ভরসা পান না। তাঁরা কিন্তু চাইলে সঞ্চয়ের একটি অংশ কিষাণ বিকাশ পত্রের মতো কোনও স্কিমে রাখতে পারেন। এই স্কিম সম্পূর্ণ সরকারি। ফলে টাকা মার যাওয়ার কোনও চান্সই নেই। কিষাণ বিকাশ পত্র (Kisan Vikas Patra, KVP) পোস্ট অফিসের অন্যতম জনপ্রিয় সেভিংস স্কিম (Post Office Savings Scheme)।
নামে ‘কিষাণ’ থাকলেও, এটি শুধুমাত্র কৃষকদের জন্য নয়। ভারতের যে কোনও নাগরিক এতে বিনিয়োগ করতে পারেন। পোস্ট অফিসে গিয়ে খোঁজ নিলেই হবে। এখানে আপনার টাকা ১০০% সুরক্ষিত থাকে। ফলে টাকা হারানোর ভয় নেই। যে কেউ কিষাণ বিকাশ পত্রে বিনিয়োগ করতে পারেন।
কত দিনে টাকা দ্বিগুণ হবে?
বর্তমানে কিষাণ বিকাশ পত্রে ৭.৫% হারে সুদ মিলছে, বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি হারে। অর্থাৎ, মাত্র ১১৫ মাসে (৯ বছর ৭ মাসে) আপনার লগ্নি দ্বিগুণ হয়ে যাবে। সময়টা আপাতভাবে বড় মনে হলেও, কিছু না করে সঞ্চয়ের টাকা দ্বিগুণ করে ফেলাটা কিন্তু মন্দ অপশন নয়।
উদাহরণস্বরূপ, ধরুন আপনার ৫ লক্ষ টাকা আছে। ফেলে না রেখে তা KVP তে রাখুন। আর সেটা করলেই ভবিষ্যতে বাড়ি বা গাড়ি কেনা, সন্তানের পড়াশোনার খরচ, বিয়ের খরচ বা রিটায়ারমেন্ট ফান্ড হিসেবে সেই টাকা কাজে লাগতে পারে।
কারা করতে পারবেন
১৮ বছরের ঊর্ধ্বে যে কোনও ভারতীয় নাগরিকই বিনিয়োগ করতে পারবেন। বাবা মায়েরা সন্তানের নামে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। তাছাড়া দুই বা তিনজন মিলে জয়েন্ট অ্যাকাউন্টও খোলা যায়।
কিষাণ বিকাশ পত্রে কিভাবে বিনিয়োগ করবেন?
১. নিকটবর্তী পোস্ট অফিসে যান
২. KVP ফর্ম সংগ্রহ করে পূরণ করুন
৩. আধার, প্যান সহ প্রয়োজনীয় KYC নথি জমা দিন
৪. নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দিন
৫. কিষাণ বিকাশ পত্রের সার্টিফিকেট সংগ্রহ করুন
মনে রাখবেন, সবসময় যে লাখ লাখ টাকা নিয়েই বিনিয়োগ করতে হবে, এমন কোনও মানে নেই। মিনিমাম ১,০০০ টাকা থেকেই বিনিয়োগ করা যায়। তবে যেহেতু এটা লং টার্মের ব্যাপার, তাই যতটা বেশি সম্ভব টাকা বিনিয়োগ করাই শ্রেয়।
সর্বোচ্চ: কোনও ঊর্ধ্বসীমা নেই, যত খুশি সার্টিফিকেট কিনতে পারবেন।
এছাড়াও কিষাণ বিকাশ পত্র কিনলে কিছু এক্স্ট্রা সুবিধা পাবেন:
নমিনি: মৃত্যুর পর কে টাকা পাবেন তা আগে থেকেই ঠিক করা যায়।
ঋণ সুবিধা: সার্টিফিকেট বন্ধক রেখে তার এগেনস্টে ঋণ নেওয়া যায়।
ট্রান্সফারের সুবিধা: এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তি বা এক পোস্ট অফিস থেকে অন্য পোস্ট অফিসে ট্রান্সফার করা যায়
অ্যাডভান্স উইথড্রয়াল: জরুরি প্রয়োজনে ২ বছর ৬ মাস পরে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে টাকা তুলে নেওয়া সম্ভব।
ফলে, নিরাপদে কোনও জায়গায় টাকা দ্বিগুণ করতে হলে পোস্ট অফিস কিষাণ বিকাশ পত্রের জুড়ি মেলা ভার।