Post Office Scheme: পোস্ট অফিস স্কিম আম বাঙালির মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। আর তা হবে নাই বা কেন। যতই শেয়ার বাজার, মিউচুয়াল ফান্ডের রমরমা আসুক, নিরাপদে নিশ্চিত রিটার্নের জন্য পোস্ট অফিসের স্কিমের তুলনা নেই। পোস্ট অফিসের বিভিন্ন ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্প রয়েছে। নিরাপদ বিনিয়োগ, নিশ্চিত আয়। এভাবে রীতিমতো ভাল অঙ্কের টাকাই সঞ্চয় করতে পারবেন। এর মধ্যে অন্য়তম হল রেকারিং ডিপোজিট স্কিম (RD স্কিম)। মেয়াদ ৫ বছর। নিকটতম যেকোনও পোস্ট অফিসে গিয়ে পোস্ট অফিস রেকারিং ডিপোজিট স্কিমে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। ১০০ টাকা থেকে বিনিয়োগ শুরু করা যেতে পারে। পোস্ট অফিস RD-র মেয়াদ পাঁচ বছর। তবে চাইলে আগেও স্কিম ক্লোজ করতে পারবেন।
পোস্ট অফিস রেকারিং ডিপোজিট স্কিম
এই স্কিমের ম্যাচ্যুরিটি পিরিয়ড ৫ বছর। যেকোনও পোস্ট অফিসে গিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলতে পারেন। মাত্র ১০০ টাকা দিয়েই এই স্কিমে বিনিয়োগ শুরু করা যায়। তবে চাইলে প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জমা করতে পারেন।
পাঁচ বছরের স্কিম মানেই যে পুরো সময়টা আপনার টাকা আটকে থাকবে, এমন কোনও মানে নেই। আপনি চাইলে তার আগেই অ্যাকাউন্ট ক্লোজ করতে পারেন। তিন বছর পরেই প্রি-ম্যাচিওর ক্লোজার করা যায়। এমনকি, এই রেকারিং ডিপোজিটের এগেনস্টে লোনও নিতে পারেন। তবে তার জন্য অন্তত এক বছর অ্যাকাউন্ট অ্য়াকটিভ রাখতে হবে। বিনিয়োগের মোট অঙ্কের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত লোন নিতে পারেন। লোনের ওপর সুদের হার ২ শতাংশ বেশি হবে।
পোস্ট অফিস রেকারিং ডিপোজিটের সুদ কত?
এই পোস্ট অফিস RD স্কিমে বর্তমান সুদের হার ৬.৮ শতাংশ। অর্থাৎ, যদি প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা করে জমা দেন, তাহলে ৫ বছরে মোট ৩ লক্ষ টাকা জমা হবে। এর উপর সুদ পাবেন প্রায় ৫৬,৮৩০ টাকা। অর্থাৎ ৫ বছরের শেষে আপনার মোট ফান্ড দাঁড়াবে ৩,৫৬,৮৩০ টাকা। কিছু না করেই, ৫৬ হাজার টাকা আয় হবে। তাছাড়া একটা ফান্ডে 'ফোর্সড সেভিংস'ও হতে থাকবে।
হিসাবটা বুঝে নিন
যদি আরও ৫ বছরের জন্য RD অ্যাকাউন্টটি টানেন, অর্থাৎ মোট ১০ বছরের জন্য এই স্কিমে টাকা রাখলে, আপনার মোট বিনিয়োগের অঙ্ক দাঁড়াবে ৬ লক্ষ টাকা। তার ওপর ৬.৮ শতাংশ হারে সুদ হিসাব করলে কত টাকা দাঁড়াচ্ছে? সেক্ষেত্রে আপনি মোট ২,৫৪,২৭২ টাকা সুদ পাবেন। অর্থাৎ, ১০ বছর পর আপনি হাতে পাবেন ৮,৫৪,২৭২ টাকা।
অর্থাৎ, মাসে মাত্র ৫,০০০ টাকা করে বিনিয়োগ করেই আপনি ভবিষ্যত জীবনের জন্য একটি বড় অঙ্ক সঞ্চয় করে রাখতে পারবেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেয়ার বাজার, মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের পাশাপাশি, এই জাতীয় স্কিমে একটি 'সেফটি নেট' তৈরি করে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। চাইলে শেয়ার ট্রেডিংয়ের মুনাফার অংশও এভাবে বিনিয়োগ করে জমিয়ে ফেলতে পারেন।