
প্রত্যেকেই নিজেদের উপার্জন থেকে কিছু পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করে। মূলত ভবিষ্যতের কথা ভেবে, বয়স হয়ে গেলে কী হবে? এই চিন্তা থেকেই সকলে অর্থ জমান। কিন্তু এই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এমন জায়গায় বিনিয়োগ করতে চায় যেখানে অর্থ নিরাপদ থাকে এবং ভালো রিটার্নও পায়।
এমন ক্ষেত্রে পোস্ট অফিসের সরকারি স্কিমগুলি বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে অবসর গ্রহণের পরে আরামে বার্ধক্য কাটানোর জন্য সেরা প্রকল্প হতে পারে সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম (SCSS স্কিম)। এই স্কিমে ৮.২ শতাংশ হারে সুদ পাওয়া যায়।
কেন জিরো রিস্কের স্কিম?
আসলে পোস্ট অফিসের ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পগুলিতে জিরো রিস্ক থাকে। কারণ সরকার নিজেই প্রতিটি বিনিয়োগের সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয়। এই SCSS স্কিমে সরকার বিনিয়োগের উপর ৮.২ শতাংশ রিটার্ন দিচ্ছে, যা বর্তমানে যে কোনও FD-র চেয়েও বেশি।
পোস্ট অফিসের সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিমের বৈশিষ্ট্যের দিকে নজর দিন-
পোস্ট অফিসের মাধ্যমে এই সরকারি প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে হলে মাত্র ১,০০০ টাকা দিয়ে বিনিয়োগ শুরু করা যেতে পারে। যেখানে সর্বোচ্চ বিনিয়োগের সীমা ৩০ লক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অর্থ হল একবার বিনিয়োগ করার পরে কোনও ব্যক্তি নিয়মিত আয় করতে শুরু করেন। পাশাপাশি বিনিয়োগের উপর করের সুবিধাও পান। আয়কর আইনের ধারা 80C এর আওতায় এই বিনিয়োগে বার্ষিক ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কর ছাড় পাওয়া যেতে পারে।
বিনিয়োগের জন্য শিথিল বয়সসীমা:
৬০ বছর বা তার বেশি বয়সের যে কেউ অথবা স্বামী স্ত্রী একসঙ্গেও এই স্কিমে বিনিয়োগ করতে পারেন। অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ভিআরএস গ্রহণকারী ব্যক্তির বয়স ৫৫ বছরের বেশি এবং ৬০ বছরের কম হতে পারে। অবসরপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষা কর্মীরা ৫০ বছরের বেশি এবং ৬০ বছরের কম বয়সী হলে বিনিয়োগ করতে পারবেন।
এই স্কিমের মেয়াদ কত বছর?
পোস্ট অফিস SCSS-এ বিনিয়োগের মেয়াদ রয়েছে ৫ বছর। এই সরকারি স্কিমে প্রতি তিন মাস অন্তর বিনিয়োগের উপর সুদের পরিমাণ দেওয়া হয়। তবে যদি বিনিয়োগকারী ৫ বছরের আগে এই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেন, তাহলে নিয়ম অনুসারে তাকে জরিমানা দিতে হবে। মেয়াদপূর্তির সময়ের আগে বিনিয়োগকারীর মৃত্যু হলে অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি সম্পূর্ণ টাকা নমিনির কাছে হস্তান্তর করা হয়।