
বৃদ্ধ বয়সে আর্থিক টানাপোড়েন এড়াতে এবং প্রতি মাসে নিয়মিত আয়ের জন্য পোস্ট অফিসের সরকারি প্রকল্প বেশ জনপ্রিয়। সাধারণত মানুষ নিজের উপার্জন থেকে কিছু পরিমাণ সঞ্চয় করে এবং সেই অর্থ এমন জায়গায় বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করে যেখানে তা নিরাপদ থাকবে এবং ভাল রিটার্নও মিলবে। কেউ কেউ অবসর গ্রহণের পরে নিয়মিত আয়ের জন্য প্রকল্পগুলি বেছে নেয় যাতে তারা তাদের বার্ধক্য আরামে কাটাতে পারে এবং অর্থ নিয়ে কোনও টেনশন না থাকে। এই ক্ষেত্রে পোস্ট অফিস সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম একটি দুর্দান্ত অপশন।
ঝুঁকি নেই, অবিশ্বাস্য সুদের হার
অবসর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিয়মিত আয়ের জন্য পোস্ট অফিস সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিমে (SCSS) বিনিয়োগ করা লাভজনক হতে পারে। কারণ সরকার কেবল বিনিয়োগ করা অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না, বরং ব্যাঙ্ক FD-র তুলনায় বেশি সুদের হারও প্রদান করে। এর অর্থ হল এটি এমন একটি স্কিম যেখানে ঝুঁকি থাকে না। রিটার্নও আকর্ষণীয়। সুদের দিক থেকে দেখলে সরকার এই পোস্ট অফিস স্কিমে ৮.২% সুদের হার অফার করছে।
পোস্ট অফিস SCSS স্কিমে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এটি কেবল একটি নয়, অনের সুবিধা দিচ্ছে। এই সরকারি স্কিমে মাত্র ১ হাজার টাকা দিয়ে বিনিয়োগ শুরু করতে পারেন। যেখানে সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগের সুবিধা দেওয়া হয়। এককালীন বিনিয়োগের পর নিয়মিত আয় শুরু হবে। আয়কর আইনের ধারা ৮০সি-এর অধীনে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ক বার্ষিক কর ছাড়ও মেলে এই স্কিমে।
এই স্কিমে ৫ বছরের জন্য বিনিয়োগ করা যেতে পারে। ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসের মাধ্যমে এতে অ্যাকাউন্ট খোলা যেতে পারে। ব্যাঙ্ক এফডির তুলনায় সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিমে বেশি সুদ দেওয়া হয় (৮.২%)।
SCSS-এ প্রিম্যাচিওর উইথড্রয়ালেরও সুযোগ আছে, তবে একটা ফাইন দিতে হয়।
১ বছরের আগে টাকা তুললে কোনও সুদ দেওয়া হয় না।
১-২ বছরের মধ্যে টাকা তুললে মূল টাকার ১.৫% কেটে নেওয়া হয়।
২-৫ বছরের মধ্যে তুললে মূল টাকার ১% কাটা হয়।
কীভাবে মিলবে মাসিক ২০ হাজার টাকা?
একটি অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ টাকা এককালীন বিনিয়োগ করা যায়।
একটি জয়েন্ট অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা এককালীন বিনিয়োগ করা যেতে পারে।
সরকার সুদ দেবে বার্ষিক ৮.২%
প্রতি ৩ মাস অন্তর প্রাপ্ত সুদের পরিমাণ ৬১ হাজার ৫০০ টাকা
মাসিক আয় ২০ হাজার ৫০০ টাকা